হৃদরোগ হৃদরোগ সংক্রান্ত

হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের ভ্রমণ

Written by Maya Expert Team

হার্টের সমস্যা আছে এমন ব্যাক্তিরা সুস্থ বোধ করলে এবং তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ও

নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকলে ভ্রমণ করতে পারেন।

যদি আপনি হার্ট অ্যাটাক বা হার্টের সার্জারির পর সেরে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকেন তাহলে

পুরোপুরি সেরে ওঠার আগে ভ্রমণ বা ঘোরাঘুরি না করাই ভাল। বিমান-ভ্রমণ করা আপনার জন্য ঠিক

হবে কিনা তা আপনার হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ আপনাকে বলতে পারবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে ভ্রমণের চার

থেকে ছয় সপ্তাহ আগে থেকে প্রস্তুতি নেয়া উচিত।

প্রস্তুতির সময় যে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবেঃ

● আপনার গন্তব্য

● বিমান-ভ্রমন

● পেসমেকার

আপনার গন্তব্য

ছুটির সময়টা নিয়ে পরিকল্পনা সব ব্যবস্থা যেন আপনার জন্য সুবিধাজনক হয় তা খেয়াল রাখুন।

নিচের বিষয়গুলো আপনার বিবেচনা করা উচিতঃ

● এমন স্থানে থাকার চেষ্টা করুন যেখানে সহজে যাতায়াত করা যায় এবং বিভিন্ন ধরনের

সুযোগ-সুবিধা হাতের কাছে পাওয়া করা যায়।

● শ্রমসাধ্য কাজ করার মত সুস্থ হয়ে হলে পাহাড়ি জায়গা এড়িয়ে চলুন।

● উঁচু জায়গায় (২০০০ মিটারের উপরে) ঘুরতে যাওয়া এড়িয়ে চলুন, কারন সেখানে অক্সিজেনের

পরিমাণ কম থাকায় শ্বাসকষ্ট বা এঞ্জাইনা (angina) হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ

নিন।

● অতিরিক্ত গরম বা ঠাণ্ডা জায়গায় বেড়াতে যাবেন না, কারণ এতে আপনার হৃদপিণ্ডের উপর

চাপ পড়তে পারে।

● আপনার গন্তব্যস্থানে ডাক্তার বা অ্যাম্বুলেন্স কীভাবে পাবেন জেনে নিন।

● সাধারণত যে ধরনের ওষুধ সেবন করেন তার একটি তালিকা (ওষুধগুলোর সাধারণ নামসহ)

আপনার পার্স বা মানিব্যাগে রাখুন, যেন কোনটি হারিয়ে গেলে সমস্যায় না পড়েন।

● যে কয়দিন ভ্রমণ করবেন তার চেয়ে কয়েকদিন বেশি চলবে এমন পরিমাণে ওষুধ সঙ্গে নিন।

বিমান-ভ্রমণ

ফ্লাইট বুকিং দেয়ার আগে ডাক্তারের সঙ্গে আলাপ করে আপনি বিমানে ভ্রমণ করার মত সুস্থ কিনা

যাচাই করে নিন। হৃদরোগ থাকলে আপনার ডীপ ভেইন থ্রম্বসিস (DVT)-এর ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

● বিমান ভ্রমণজনিত DVT প্রতিরোধ করতে ডাক্তারের পরামর্শ নিন, ব্যায়াম বা কমপ্রেশন

স্টকিং ব্যবহার করতে হবে কি না জেনে নিন।

● এয়ারপোর্ট টার্মিনালে মালামাল বহন এবং আগে আগে প্লেনে ওঠা বা হুইলচেয়ার ব্যবহার

বিষয়ে সহায়তার দরকার আছে কি না ভেবে নিন।

প্লেনে থাকাকালীন গ্লিসারিল ট্রাইনাট্রেট বা GTN স্প্রে ব্যবহার করা নিরাপদ।

এয়ারপোর্টগুলোতে আজকাল যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে তাতে আপনি আপনার হাত-ব্যাগ -এ

প্লেনের ভেতরে ১০০মি.লি.-এর বেশি কোন তরল, জেল বা ক্রিম বহন করতে পারবেন না। তবে একান্ত

দরকারি ওষুধ হলে ১০০ মি.লি.-এর বেশি সঙ্গে নিতে পারবেন, তবে তার জন্য এয়ারলাইন এবং

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং ডাক্তারের দেয়া চিঠি বা প্রেসক্রিপশন সঙ্গে নিতে হবে।

পেসমেকার এবং আইসিডি

আপনার পেসমেকার বা ইমপ্ল্যান্টেবল কারডিওভার্টার-ডিফাইব্রিলেটর (ICD) থাকলে –

● আপনার ডিভাইস আইডেন্টিফিকেশন কার্ড (device identification card) সঙ্গে নিন।

● সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা লোকদের আপনার পেসমেকার বা ICD-র কথা জানান কারন

এগুলোর জন্য মেটাল ডিটেক্টরের এলার্ম বেজে উঠতে পারে।

● সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা লোকদেরকে বলুন আপনাকে যেন হাত দিয়ে পরীক্ষা করেন বা হাত

দিয়ে ধরে ব্যবহার করতে হয় এমন মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা করেন। মেটাল ডিটেক্টরটি

কখনই আপনার শরীরে লাগানো যন্ত্রের ঠিক উপরে ধরা উচিত নয়।

About the author

Maya Expert Team

Leave a Comment