হৃদরোগ হৃদরোগ সংক্রান্ত

হৃদরোগ আছে এমন নারীদের জন্য

Written by Maya Expert Team

হৃদরোগ আছে এমন নারীদের জন্য

আপনি কি জানতেন যে, একজন নারীর স্তন ক্যান্সারের চেয়ে হৃদরোগে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা তিনগুন বেশি? রজবন্ধের (menopause) পরের বছরগুলোতে আপনার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি লক্ষণীয়ভাবে বেড়ে যায়। কিন্তু আপনি নিজেকে নিরাপদ রাখার জন্য কিছু সাধারণ পদক্ষেপ নিতে পারেন। কী পদক্ষেপ নিবেন তা জানার জন্য নিচের লেখাটি পড়ুন।

১. আপনার কলেস্টেরল এবং রক্তচাপ নিয়মিত পরীক্ষা করুন

যদি আপনার বয়স ৪০ এর বেশি হয়, তবে ডাক্তারকে আপনার হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি কতটুকু তা পরীক্ষা করে দেখতে বলুন, যেমন- রক্তচাপ এবং আপনার শরীরে কলেস্টেরলের মাত্রা। যদি আপনার রক্তচাপ বা কলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়, তবে তা আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিবে। ডাক্তার আপনাকে আপনার দৈনিক কাজকর্ম, চলাফেরা ও খাওয়া-দাওয়ায় পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিতে পারেন, অথবা প্রয়োজনবোধে আপনার রক্তচাপ বা কলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে ঔষধ খাওয়ার পরামর্শ দিতে পারে্ন।

২. হৃদরোগ প্রতিরোধে বেশি বেশি ব্যায়াম করুন

বাংলাদেশের বেশিরভাগ নারী তাদের হৃদযন্ত্রকে রক্ষা করার মত যথেষ্ট ব্যায়াম করেন না। বেশি বেশি ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন, যেমন- নিয়মিত হাঁটা এবং সাঁতার কাটা। আপনার হৃদযন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে আপনাকে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে আড়াই ঘন্টা মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করতে হবে-যেমন দ্রুত হাঁটা।

৩. প্রয়োজন হলে শরীরের ওজন কমান

অস্বাভাবিক মোটা হয়ে যাওয়া এবং অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ঝুঁকি দিনদিন বাড়ছে। অতিরিক্ত ওজন হৃদযন্ত্রের উপর বাড়তি চাপ ফেলে। এর ফলে আপনার রক্তচাপ ও কোলস্টেরলের  মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।আপনার ওজন অতিরিক্ত কিনা তা জানতে আমাদের বিএমআই ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।

৪. হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে দেহের গড়ন পরিবর্তন করুন

আপনার ওজনের সাথে সাথে আপনার দেহের গড়নও গুরুত্বপূর্ণ। ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সী অন্য আরো অনেক নারীর মত আপনার দেহের গড়ন দেখতে স্থূলকায় মনে হতে পারে। এ বয়সে আপনার শরীরের অতিরিক্ত ওজন আপনার কোমরের চারপাশে এসে জমা হয়। আপনার শরীরের গড়ন স্থূলকায় হলে, আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি যে সমস্ত নারীর দেহের গড়ন হাল্কা-পাতলা তাদের চেয়ে বেশি। কোমরের গড়ন ৮০ সে. মিটারের (৩১.৫ ইঞ্চি) মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন।

৫. পরিমিত খাবার গ্রহণ করুন

স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন এবং নির্দেশিত মাত্রার (একদিনে ৬ গ্রামের বেশি নয়) চেয়ে বেশি লবণ খাওয়া পরিহার করুন। চর্বিযুক্ত খাবারের পরিমাণ কমান।

৬. হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে এইচআরটির উপর নির্ভর করবেন না

ডাক্তাররা সাধারণত ভাবেন যে রজোবন্ধজনিত (menopause) সমস্যা চিকিৎসায় হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি বা এইচআরটি ব্যবহার করলে একজন নারী হৃদরোগের ঝুঁকি থেকেও সুরক্ষিত থাকবেন। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় এইচআরটি কার্যকরী নয় এবং অন্যান্য ঔষধের মত এইচআরটি-ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। আপনার যদি রজোবন্ধজনিত মুখে রক্তোচ্ছাস (হট-ফ্লাস) বা রাত্রিকালীন ঘামের সমস্যা থাকে তবে এইচআরটি গ্রহণ করুন। তবে এটা ধরে নিবেন না যে, এইচআরটি আপনার হৃদযন্ত্রকেও সুরক্ষা দিবে। অধিকাংশ ডাক্তার এখন রোগীকে প্রিমরোজ ( ফেকাসে হলদে ফুল বিশেষ বা এটার গাছ) তেল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া শুরু করেছেন। এটি এক ধরনের ভেষজ ঔষধ।

৭. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন

কিছু গবেষণায় নির্দেশ করা হয়েছে যে, মানসিক চাপ হৃদরোগে প্রভাব ফেলতে পারে। যদি আপনি অনেক বেশি মানসিক চাপ অনুভব করেন, তবে কিভাবে শান্ত থাকা যায় তা শেখা উচিত। মানসিক চাপের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে আপনি কিছু সাধারণ কৌশল শিখে নিতে পারেন। যদি আপনি আপনার দৈনন্দিন জীবনে খুব বেশি মানসিক চাপ অনুভব করেন এবং উদ্বিগ্ন থাকেন, তবে এই সমস্যা মোকাবেলায় আপনার ডাক্তার আপনাকে সাহায্য করতে পারেন।

৮. হৃদযন্ত্র রক্ষায় ধূমপান থেকে বিরত থাকুন

আপনি যদি ধূমপান করেন তবে আপনার হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণ হয়ে যায়। গত কয়েক দশক ধরে অনেক পুরুষেরা ধূমপান ত্যাগ করলেও, নারীরা তত বেশি ত্যাগ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, এখন যুবকদের চেয়ে অনেক বেশি যুবতীরা ধূমপান করেন। ধূমপান পরিহার করলে আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক কমে যাবে।

৯.আপনার হৃদযন্ত্রের সুরক্ষার জন্য পরিমিতভাবে পান করুন

নিয়মিত অল্পকরে অ্যালকোহল পান আপনার হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারি হতে পারে, তবে অবশ্যই নির্দেশিত মাত্রার চেয়ে বেশি পানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। অতিরিক্ত পান আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিবে। নারীদের জন্য হৃদযন্ত্র উপযোগি অ্যালকোহলের মাত্রা হচ্ছে প্রতি দিন ১ বা ২ ইউনিট। যদি আপনি এরচেয়ে বেশি পান করেন, তবে আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান বা অনেক বেশি মদ্যপান আপনার হৃদপেশী নষ্ট করে দিতে পারে, যার ফলে হৃদযন্ত্রের অস্বাভাবিক ওঠা-নামা বা হার্ট ফেইলিওর ঘটাতে পারে।

About the author

Maya Expert Team