ওজন বাড়ানো সাধারন স্বাস্থ্য

ওজন বৃদ্ধির গোপন কারণসমূহ

Written by Maya Expert Team

ওজন বৃদ্ধির গোপন কারণসমূহ

সাধারণত যখন আপনি আপনার দৈহিক এবং শারিরিক কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালরির চেয়ে বেশি ক্যালরির খাবার নিয়মিত গ্রহণ করেন, তখন আপনার ওজন বৃ্দ্ধি পায়। কিন্তু, শুধু প্রাত্যহিক জীবনাচরণের জন্যই যে এমনটি ঘটে তা নয়। ওজন কমানোর উপায় হচ্ছে কম ক্যালরির খাবার গ্রহণ করা এবং শারিরিক কাজের মাধ্যমে অতিরিক্ত ক্যালরি খরচ করা।

শুনতে এটা খুবই সাধারণ ব্যাপার মনে হয়। কিন্তু, ৬০ শতাংশেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ স্থূলকায় বা তাদের ওজন স্বাভাবিকের চাইতে বেশি। আমাদের জীবনাচরণে আমরা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালরি গ্রহণ করি এবং খুব কমই শারিরিক পরিশ্রম করি। ওজন বৃদ্ধির কিছু কারণ নিচে আলোচিত হলো:


‘লো-ফ্যাট’ লেবেল লাগানো খাবার
আজকাল সুপার মার্কেটগুলোতে অনেক খাবারের গায়ে ‘লো-ফ্যাট’ লেবেল লাগানো থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই খাবারগুলোতে অধিক মাত্রায় চিনি থাকে। অধিক মাত্রায় চিনি সমৃদ্ধ খাবারগুলোয় অতিরিক্ত ক্যালরি থাকতে পারে, ফলে এগুলো ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

আমি কি করতে পারি?

লেবেলটি পড়ুন। ভাল করে সর্বমোট শক্তি এবং ক্যালরির পরিমাণ দেখে নিন। একটি খাবারে কম মাত্রার ফ্যাট থাকা সত্ত্বেও, ঐ একই খাবারে একই মাত্রার ক্যালরি থাকতে পারে। ‘লো-ফ্যাট’ লেবেল লাগানো একটি খাবারে এর বিকল্প খাবারের চেয়ে বেশি ক্যালরি থাকতে পারে। যেমন- কম-ফ্যাটের একটি কেক-এ সমান মাপের একটি কিশমিশ-বানের চেয়ে বেশি ক্যালরি থাকতে পারে। বিকল্প স্বাস্থ্যকর খাবার খুঁজে বের করুন।


স্ট্রেস বা কাজের চাপ
স্ট্রেসের সময় চিনিযুক্ত খাবার আমাদেরকে বেশি আকর্ষণ করে, ফলে আপনার ওজন বৃদ্ধি পায়।

আমি কি করতে পারি?

ফলমূল এবং সবজির তৈরি স্ন্যাকস এবং অন্যান্য কম ক্যালরিযুক্ত খাবার যেমন- সাধারণ পপকর্ন, ক্র্যাকার্স, চালের তৈরি পিঠা খেতে পারেন। খাবার ছাড়া অন্যান্য স্ট্রেস কমানোর উপায় অবলম্বন করতে পারেন। ব্যায়ামের মাধ্যমে আপনি মানসিক প্রশান্তি নিয়ে আসতে পারেন। এর ফলে এন্ডরফিন (endorphin) নামক একধরনের হরমোন নিঃসৃত হয়, যা স্ট্রেসের সাথে লড়তে সাহায্য করে।


টেলিভিশন

অধিক মাত্রায় টেলিভশন দেখলে তা আপনার জীবনাচারণকে নিস্ক্রিয় করে তুলতে পারে এবং আমরা অনেকে টেলিভশন দেখার সময় ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ করি, যা আমাদের প্রয়োজন নেই। মানুষ সাধারণত টেলভিশন দেখার সময় উচ্চ ক্যালিরর খাবার যেমন- চিপস এবং চকলেট খেয়ে থাকেন।

আমি কি করতে পারি?

আপনি যদি আপনার ওজন নিয়ে চিন্তিত থাকেন, তবে আপনার শারিরিক সামর্থে যতটুকু সম্ভব ততটুকু দৈনিক শারিরিক কাজ করুন। কর্মস্থলে, স্কুলে বা কেনাকাটা করার জন্য হেঁটে যাওয়ার চেষ্টা করুন। টেলিভশন দেখার মাত্রা কমান। ভুলে যাবেন না, আপনি যতক্ষণ টিভি দেখেন, সে সময়টায় আপনি ব্যায়াম করতে পারেন, যেমন- ব্যায়ামের সাইকেল চালানো।

আপনার ঔষধগুলো
অনেক ঔষধেরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আপনার ওজন বাড়তে পারে। যেসব ঔষধ ওজন বাড়ায় তার মধ্যে অন্যতম হল স্টেরয়েডস (অনেক কারণে সেবন করা হয়, যেমন- আর্থ্রাইটিস, এক্সিমা বা এজমা), এন্টাইসাইকোটিক ড্রাগস, ইনসুলিন ইত্যাদি।

আমি কি করতে পারি?

আপনার ডাক্তারের নির্দেশনা ছাড়া তার দেয়া কোন ঔষধ সেবন বন্ধ করবেন না। আপন যদি ওজন বৃদ্ধ নিয়ে সঙ্কিত থাকেন, তবে তা আপনার ডাক্তারকে বলুন। একই সাথে স্বাস্থ্যকর সুষম খাবার গ্রহণ নিশ্চিত করুন।

রাতজাগা
কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে প্রয়োজনীয় ঘুমের অভাবে ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে। কম ঘুম এবং ওজন বৃদ্ধির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।

আমি কি করতে পারি?

সহজ সমাধান: বেশি করে ঘুমান। রাতে আপনার ঘুম ভাল হলে সকালে ঘুম থেকে জেগে আপনি বেশ ভাল বোধ করবেন। বর্তমান সময়ে আমরা ঘুমানোকে সময় নষ্ট মনে করি। কিন্তু ভাল শারিরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ঘুম অপরিহার্য বিষয়। যদি আপনার ঘুমাতে সমস্যা হয়. তবে অনিদ্রা রোগের ক্ষেত্রে কিভাবে ঘুমাতে হয় সে সম্পর্কে পরামর্শ গ্রহণ করুন।

ভাল নৈতিক আচরণ
একটি আদর্শ পরিবেশে, হয়তো পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুরা আপনাকে আপনার ওজন কমাতে উৎসাহিত করবে। কিন্তু বাস্তবে, অনেকক্ষেত্রেই উচ্চ ক্যালরির খাবার খেতে জোরাজোরি করতে দেখা যায় তাদেরকে।

আমি কি করতে পারি?

এমন অনুরোধের জবাবে ‘না’, ‘ধন্যবাদ’ বলতে শিখুন এবং তা চালিয়ে যান। কম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। শীঘ্রই আপনার পরিবার এবং বন্ধুরা আপনার এই সিদ্ধান্তকে সম্মান দেখাতে শুরু করবে।

টুকরোর আকার
গত কয়েক দশকে রেস্টুরেন্ট এবং সুপার মার্কেটুলোতে খাদ্য-সামগ্রিগুলোর টুকরোর আকার বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার রিসার্চ ফান্ডের এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে ১৯৮০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বার্গারের আকার দ্বিগুন হয়েছে । আসল কথা হল, যখন আমাদেরকে কোন খাবারের বড় টুকরো দেওয়া হয়, তখন আমরা পরিমাণে বেশি খাই।

আমি কি করতে পারি?

এই সমস্যা থেকে বাঁচতে হলে যখন আপনার খাওয়া হয়ে গিয়েছে বলে মনে হবে তখন খাওয়া বন্ধ করে দিবেন। ধীরে ধীরে খাবার খান, তাহলে আপনি একই সময়ে অন্যদের তুলনায় কম খাবেন। বাসায় নিজের খাবার নিজে তুলে নিন এবং দ্বিতীয় বার নেওয়ার আগে ভাবুন আপনি আসলেই আর খেতে চান কিনা। খাওয়া শেষ হয়ে গেলে বাড়তি খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। বাসায় তাজা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার রান্না করার মাধ্যমে আপনি খাবারের টুকরোর আকার ছোট রাখতে এবং খরচ কমাতে পারেন।

Image Courtesy: Google Images

***মায়ার সাথে থাকুন, সুস্থ থাকুন***
শারীরিক, মানসিক, লাইফস্টাইল বিষয়ক সমস্যায় প্রশ্ন করুন Maya অ্যাপ থেকে।
অ্যাপের ডাউনলোড লিঙ্কঃ http://bit.ly/2WkzaYR

About the author

Maya Expert Team

Leave a Comment