ঠান্ডা, জ্বর-সর্দি সাধারন স্বাস্থ্য

শরৎ এবং শীতকালে ঠান্ডার সমস্যা

Written by Maya Expert Team

শরৎ এবং শীতকালে ঠান্ডার সমস্যা
কাশি এবং ঠান্ডা এই আবহাওয়ায় একটি সাধারণ সমস্যা । এসময় প্রায় প্রত্যেকেই ঠান্ডা দিয়ে আক্রান্ত হন এবং এটা ৩-৪ দিনের বেশী স্থায়ী হলে খুবই যন্ত্রনাদায়ক হয়। ঠান্ডা ভাইরাসের জন্য হয়ে থাকে। প্রায় ২০০ রকমের ভাইরাস আছে তাই তাদের কে উপেক্ষা করা কঠিন। যদি আপনার শরীরে এগুলোর এক প্রকারের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিকভাবে প্রতিরোধ গড়েও ওঠে , তথাপি আপনি খুব সহজেই অন্য রকমের ভাইরাস দিয়ে আক্রান্ত হতে পারেন। কিছু কিছু মারাত্মক ধরনের ভাইরাসের প্রকোপ প্রতিরোধের জন্য প্রতিষেধক টীকা বা ভ্যাক্সিন (যেমনঃ ফ্লু ভ্যাকসিন) আছে । ভাইরাস ছোট ছোট কণার আকারে ছড়িয়ে পরে যা সংক্রামিত লোকের মুখ, নাক, দিয়ে বের হয় যখন তারা কাশি অথবা হাঁচি দেয়। এই কণা বা ফোটা যে কাউকে খুব সহজেই আক্রান্ত করতে পারে যদি তারা আক্রান্ত ব্যাক্তির পাশাপাশি থাকেন ও একই বাতাসে শ্বাস নেন অথবা এটা একই কাপ, চামচ, অথবা রুমাল ব্যবহার করার মাধ্যমেও ছড়িয়ে যেতে পারে। ঠান্ডার উপসর্গ হল কাশি, হাঁচি, বন্ধ নাক, ভাঙ্গা গলা, মাথা ব্যথা, এবং হালকা জ্বর। যদি আপনার শুধুমাত্র এই উপসর্গ গুলো থেকে থাকে তাহলে আপনার চিকিৎসক দেখানোর প্রয়োজন নেই, সাধারন ফার্মেসির ঔষধই আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

কখন চিকিৎসকের শরনাপন্ন হবেন
১। যদি আপনার অথবা আপনার বাচ্চার খুব গুরুতর অন্তর্নিহিত কোন স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে যেমন অ্যাজমা, ডায়াবেটিস, অথবা হৃদরোগ।
২। যদি আপনার ৪ সপ্তাহ অথবা এর থেকে বেশী সময় ধরে কাশি স্থায়ী হয়
৩। যদি আপনার অনেক বেশী তাপ থাকে শরীরে এবং সাথে মাথা ব্যথা ও পেট মোচড়ানোর সমস্যা থাকে।
৪। যদি আপনার বাচ্চার কাশি গুরুতর হয় যা বমির উদ্রেক ঘটাতে পারে
৫। যদি আপনার বাচ্চা তরল পান করা বন্ধ করে দেয় এবং দূর্বল হয়ে পরে
৬। যদি জ্বর প্যারাসিটামলে ভাল না হয়

আপনার যদি কোন সাধারন কাশি থাকে, আপনি বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন, ভাল খাওয়া দাওয়া, এবং পর্যাপ্ত পরিমানে পানি খাবেন। ঠান্ডার চিকিৎসা উপসর্গের উপর নির্ভর করে। এর মানে আপনার সঠিক সমস্যা যাচাই এর ভিত্তিতে চিকিৎসা করতে হবে-

১। শুষ্ক বিরক্তিকর কাশি– একটি হার্বাল কাশির সিরাপ চেষ্টা করে দেখতে পারেন যেমন এডোভাস অথবা অ্যালভাসিন। এই প্যাকেজের নির্দেশনাবলী অনুসরন করুন। সাধারনত ১-২ চা চামচ দিনে ২-৩ বার বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ৩ চামচ করে খাবার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই সিরাপগুলো আপনার কফকে আরো তরল করতে সাহায্য করে, গলা পরিষ্কার করে এবং গলা ভাঙ্গা ঠিক করে।

২। কফ সহ কাশি– এমব্রক্স এর মত সিরাপ প্রয়োজন যদি কফ অনেক বেশী হয় কিন্তু শ্বসনতন্ত্রের জটিল রোগ রয়েছে এমন রোগীর জন্য একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৩। নাক দিয়ে পানি পড়া– সাধারন এন্টিহিস্টামিন দিয়ে চেষ্টা করুন। অনেক রকমের আছে, তবে কিছু এন্টিহিস্টামিন ঘুম ভাব নিয়ে আসতে পারে, সেগুলো সকালে খাবেন না। আপনি এলাট্রল খেতে পারেন (সেট্রিজিন হাইড্রোক্লোরাইড ১০ মিলিগ্রাম) শুয়ে পড়ার সময় অথবা লোরাটিন ট্যাবলেট (লোরাটিডিন ১০ মিলিগ্রাম)।

৪। মাথা ব্যথা এবং জ্বরের জন্য– ক্যাফেইন এর সাথে প্যারাসিটামল নিতে পারেন যেমন এইস প্লাস (500mg) ঠান্ডার সময় বেশ ভাল কাজ করে। দিনে তিনটি ট্যাবলেট মাথা ব্যথা, শরীরব্যাথা এবং জ্বর কমায়।

৫। ন্যাজাল ডিকঞ্জেস্টেন্ট ব্যবহার করতে পারেন যদি নাক বন্ধ হয়ে থাকে।

৬। মেন্থল গলিয়ে বাষ্পাকারে নিলে সেটা সত্যিই ভাল কাজ করে।

৭। বাসার তৈরী পথ্য ব্যবহার করার চেষ্টা করুন, যেমন আদা চা, গরম মধু, তুলসী চা ইত্যাদি। ঠান্ডার সময় অ্যান্টিবায়োটিক অপ্রয়োজনীয় যেহেতু তারা ভাইরাসের কারনে হয়েছে। এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে সেখানে ঠান্ডা ভাইরাস দিয়ে হয়ে থাকে তাই এক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক অপ্রয়োজনীয়। কিছু সময় আপনাকে এন্টিবায়োটিক এর পরামর্শ দেওয়া হবে যদি ঠান্ডার সাথে সাথে আপনার কোন ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হবে। বড় ধরনের জ্বরের ক্ষেত্রে ওনেক সময় এন্টীভাইরাল ওষুধ দেওয়া হয় তবে সেটা খুবই কম ঘটে।

শিশুদের ঠান্ডা
যেভাবে প্রাপ্তবয়স্কের হয়ে থাকে সেই একই ভাবে বাচ্চাদের চিকিৎসা হতে পারে। প্যারাসিটামল এবং ঠান্ডার সময় নেওয়ার অন্যান্য ঔষধ সিরাপ আকারে পাওয়া যায় এবং বাচ্চদের ৩ মাস বয়স থেকেই দেওয়া যেতে পারে। আপনি বাচ্চাকে যে ঔষধ দিচ্ছেন তা শিশুবিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলে নিতে পারেন যে সেটা তাদের জন্য নিরাপদ কিনা। শিশুদের ঔষধ সম্পর্কে আরো পড়ুন। তবে, যেহেতু বাচ্চাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অগঠিত থাকে, তাই, ঠান্ডা হলে তা ভবিষ্যতের জন্য তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। বাচ্চাদের প্রতিষেধক টীকা বা ভ্যাক্সিন সম্পর্কে আরো দেখুন। আপনি আপনার শিশুর ক্ষেত্রে ঠান্ডার উদ্বগজনক উপসর্গ গুলি সম্পর্কে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হোন। বাচ্চার শ্বাস-প্রশ্বাসে কোন সমস্যা হয় কিনা অথবা নীল হয়ে যায় কিনা, কিছু খেতে পারে কিনা, ঠান্ডার কারনে খাওয়ার শুরুতেই বমি করে দেয় কিনা ইত্যাদি। এগুলো হলে আপনার দ্রুত চিকিৎসক দেখানো প্রয়োজন।

About the author

Maya Expert Team

Leave a Comment