রক্তচাপ স্বাস্থ্য হৃদরোগ সংক্রান্ত

উচ্চরক্তচাপের চিকিৎসা

আপনি আপনার জীবনধারার মান পরিবর্তন করে এবং কিছু ঔষধ খেয়ে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে পারেন।

আপনাকে কি রকমের চিকিৎসা দেয়া হবে তা নির্ভর করে আপনার রক্তচাপের মাত্রা আর আপনি কার্ডিওভাসকুলার  রোগ হবার ঝুঁকিতে কতখানি আছেন যেমনঃ- হার্ট এটাক, ষ্ট্রোক অথবা কিডিনীর কাজ করা ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপর।

যদি আপনার রক্তচাপ সবসময় ১৪০/৯০ মিমি মার্কারীর বেশি থাকে (বাসাতে ১৩৫/৮৫ মিমি মার্কারী) কিন্তু আপনার কার্ডিওভাস্কুলার রোগের ঝুঁকি কম থাকলে আপনার জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনে আপনার রক্তচাপ কমাতে পারেন।আপনাকে বছরে একবার রক্তচাপ পরীক্ষা করে দেখতে বলা হতে পারে।
যদি আপনার রক্তচাপ সবসময় ১৪০/৯০ মিমি মার্কারীর বেশি থাকে (বাসাতে ১৩৫/৮৫ মিমি মার্কারী) কিন্তু ১৬০/১০০ মিমি মার্কারীর কম থাকে এবং আপনার কার্ডিওভাস্কুলার রোগের ঝুঁকি থাকে তাহলে রক্তচাপ কমাতে আপনাকে ঔষধ খেতে বলা হতে পারে।
যদি আপনার রক্তচাপ সবসময় ১৬০/১০০ মিমি মার্কারীর বেশি থাকে তাহলে রক্তচাপ কমাতে আপনাকে ঔষধ খেতে বলা হতে পারে।

জীবনধারাতে পরিবর্তনঃ

নিচে দেয়া কিছু পরিবর্তন আপনার জীবনধারাতে এনে রক্তচাপ কমাতে পারেন। তার মধ্যে কিছু পদ্ধতিতে মাত্র একসপ্তাহে আপনার রক্তচাপ কমাতে পারে, বাকি গুলোতে কিছু সময় লাগতে পারেঃ

  • প্রতিদিন লবন খাওয়া ৬ গ্রাম (০.২ আউন্স) এর নিচে নিয়ে আসুন।
  • স্ব্যস্থকর, কম চর্বিযুক্ত, ব্যালেন্সড ডায়েট খাবেন সাথে বেশি পরিমানে শাক সম্বজি আর তাজা ফল খাবেন।
  • কর্মঠ থাকুনঃ শারীরিক ভাবে কর্মঠ থাকা উচ্চ রক্তচাপ কমানো বা নিয়ন্ত্রন রাখার অন্যতম উপায়।
  • মদ্যপান বন্ধ করুন। (যদি করে থাকেন)
  • ধুমপান বন্ধ করুনঃ ধুমপান আপনার হার্ট এর ফুসফুসের রোগের সম্ভবনা বাডিয়ে দেই।
  • ওজন কমানঃ বিএমআই ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে আপনার জন্য স্বাভাবিক ওজন কত তা জেনে নিন।
  • কফি চা অথবা অন্যান পানিয় যাতে ক্যাফেইন থাকে যেমনঃ- কোলা কম খাবেন। একদিনে ৪ কাপের বেশি কফি খেলে আপনার রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।

যতই আপনি স্ব্যাস্থকর অভ্যাস গড়ে তুলবেন, ততই তার প্রভাব আপনার রক্তচাপ কমানোর উপর পরবে।তাছাড়া অনেক উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত মানুষের মতে, স্ব্যাস্থকর জীবনধারা বজায় রাখার কারনে তাদের একদমই কোন ঔষধ নিতে হয়নি।

ঔষধঃ

উচ্চরক্তচাপ কমানোর অনেক প্রকার ঔষধ আছে তবে রক্তচাপের চিকিৎসার জন্য সাধারনত দুই ধরনের ঔষধ একসাথে খেতে হয়।

আপনার বয়স অনুসারে প্রথমে আপনাকে ঔষধ দেয়া হবেঃ

যদি আপনার বয়স ৫৫ বছরের নিচে হয়ঃ আপনাকে এ সি ই ইনহিবিটর বা এনজিওটেন্সিন রিসেপ্টর ব্লকার দেয়া হতে পারে।
যদি আপনার বয়স ৫৫ বছরের বেশি হয়ঃ তাহলে আপনাকে ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার দেয়া হতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে, আপনাকে বাকি জীবন রক্তচাপ কমানোর ঔষধ চালিয়ে যেতে হতে পারে। যাই হোক, যদি আপনার রক্তচাপ করেক বচর ধরে নিয়ন্ত্রনে বা কম থাকে থাকে তাহলে আপনার ডাক্তার আপনার ঔষধের মাত্রা কমিয়ে বা বন্ধ করে দিতে পারে।

বেশির ভাগ উচ্চ রক্ত চাপের ওষূদ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া করতে পারে কিন্তু অনেক রকমের উচ্চ রক্তচাপের ঔষধ আছে যা আমরা ব্যবহার করতে পারি, তার মানে এই সকল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অন্যরকম উচ্চরক্তচাপের ওষুধ ব্যাবহার করে কমানো যায়।

ঊচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খাওয়ার পর নিন্মোক্ত সাধারন পার্শ্বপ্রতিকিয়া গুলো থাকলে ডাক্তারকে জানানঃ-

  • ঘুমঘুম ভাব থাকলে
  • কিডনী যে স্থানে থাকে তার চারপাশে ব্যাথা করলে (পিঠের নিচের দিকে)
  • শুকনো কাশি
  • মাথা ঘুরানো, মুর্ছা গেলে অথবা মাথা হালকা ভাব লাগলে
  • গায়ে ফুসকুডি উঠলে
  • পা ফুলে গেলে

এ সি ই ইনহিবিটরঃ

এঞ্জিওটেন্সিক কানভার্টিং এঞ্জাইম (এসিই) আপনার রক্তনালীলে প্রসারনের মাধ্যমে রক্তচাপ কমায়। এটি সবচেয়ে বেশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যা করে তা হল শুকনো কাশি। যদি এই শুকনো কাশি বেশি অসুবিধার সৃষ্টি করে তাহলে আপনানি এঞ্জিওটেন্সিন-২ রিসেপ্টর এন্টাগনিষ্ট ব্যাবহার করতে পারেন, যা এসিই ইনহিবিটরের মত একই উপায়ে কাজ করে।

যদি অন্য কোন ওষুধের সাথে যেমনঃ- যেমন ওভার দা কাউন্টার ড্রাগ যদি এসিই ইনহিবিটর এর সাথে ব্যাবহার করা হয় তাহলে কিছু অনিশ্চিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই এসিই ইনহিবিটর এর সাথে কোন ওষুধ খাওয়ার আগে আপয়ার ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।

ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার:

ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার ক্যালসিয়ামকে হার্ট আর রক্তনালীর মাংশপেষীর কোষে ঢূকতে দেয় না। এটির মাধ্যমে রক্তনালী সম্প্রসারন হয় (বড় রক্তনালী) এবং এর মাধ্যমে রক্তচাপ কমে।

ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার এর সাথে আঙ্গুরের রস খেলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্ভবনা বাড়তে পারে। আপনি আপনার ডাক্তারের সাথে সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।

ডাইউরেটিক্স :

এগুলোকে আবার পানির বডি নামেও পরিচিত, প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত পানি আর লবন শরীর থেকে বের করার মধ্যেমে ডায়রেটিক্স কাজ করে।

ডাইউরেটিক্স মাঝের মধ্যে ক্যালসিয়াম চ্যানেলের পরিবর্তে ব্যবহার করা যেতে পারে।

বিটা ব্লকার:

বিটা ব্লকার হার্ট বিট ধীর করে আর ফোর্স কমিয়ে কাজ করে, এর ফলে রক্তচাপ কমে।

বিটা ব্লকার রক্তচাপের জন্য অনেক ভালো ওষুধ হিসেবে পরিচিত ছিল তবে এখন অন্যান ওষুধ কাজ না করলে, এটি ব্যবহার করা হয়। কারন হল বিটা ব্লকার অন্যান উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ওষুধের চেয়ে কম কার্যকর। যাতের অ্যাজমা আছে তাদের ক্ষেত্রে বিটা ব্লাকার ব্যবহার করা হয় না।

About the author

Maya Expert Team

Leave a Comment