নারী স্বাস্থ্য ও দেহতত্ত্ব মাসিক স্বাস্থ্য

মাসিকের ব্যাথা উপশমের কিছু ঘরোয়া উপায়

Written by Maya Expert Team

মাসিকের ব্যাথা উপশমের কিছু ঘরোয়া উপায়
প্রতিমাসের মাসিকের ব্যাথার ভয় কি আপনাকে শংকিত করে ? মাসিকের প্রথম দিনের ব্যাথা সহ্য করা আপনাকে শিখতে হবে । বেশিরভাগক্ষেত্রেই বলা হয় নারী হবার জন্য এটুকু মূল্য দিতেই হবে !

আপনার যা হয় তা হলো ‘ডিসমেনরিয়া’ এবং এটি আপনার কল্পনা নয় । পরিসংখ্যান এ দেখা গেছে তিন-চতুর্থাংশ কিশোরী এবং এক-চতুর্থাংশ মহিলার এ ধরনের সমস্যা হয় । প্রতি ৫ জনের ১ জন এত তীব্র ব্যাথা অনুভব করেন যে তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যহত হয় ।
ব্যাথাটি কোমড়ের কাছ থেকে শুরু হয়ে পায়ের হাঁটু অবধি নামতে পারে । রক্তপাতের সাথে সাথে এটি শুরু হয় এবং ১২-২৪ ঘন্টা পর্যন্ত থাকতে পারে । জরায়ু ক্রমশ সংকচনের ফলে জরায়ুর শিরা উপশিরার অক্সিজেনের অভাব হয়, অক্সিজেনের ঘাটতি পুরনের জন্য জরায়ু এক ধরনের কেমিকেল নিঃসরন করে যা ব্যাথার উৎপন্ন করে । অতিরিক্ত রক্তপাত ব্যাথা বাড়াতে পারে,বয়স বাড়ার সাথে সাথে অবস্থার উন্নতি ঘটে । অনেক মহিলার ক্ষেত্রে সন্তান প্রসবের পর অবস্থার উন্নতি হতে দেখা যায় ।

যদিও অক্সিজেনের ঘাটতি এ সমস্যার প্রধান কারন,এছাড়া আরো কিছু কারন রয়েছে । ‘ফাইব্রয়েড’,এক ধরনের জরায়ুর টিউমার (যা থেকে ক্যান্সারের কোন সম্ভাবনা নেই) একটি কারন । ‘এন্ডোমেট্রিওসিস’ এক ধরনের রোগ যার কারনে জরায়ু কোষের মত কোষ শরীরের অন্যত্র উৎপ্নন হয়,সাধারনত জরায়ুনালী এবং ডিম্ববাশয়ে । যখন এই কোষগুলো ঝরে পড়ে তখন তীব্র ব্যাথা অনুভূত হয় । অনিয়মিত জন্মনিরোধক বড়ি সেবনের কারনেও ব্যাথা হতে পারে ।

কারন যাই হোক না কেন,আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করুন । ব্যাথার সাথে আরো কোন অসুবিধা আছে কিনা সেটা চিহ্নিত করুন,যেমন অনিয়মিত মাসিক,মাসিকের মধ্যবর্তি সময়ে রক্তপাত,যোনিপথে দূর্গন্ধযুক্ত তরল আসা,সহবাসের সময় ব্যাথা । মাসিকের সাথে অন্য কোন সমস্যা থাকলে মাসিক অনিয়মিত হবে এবং বেশিদিন পর্যন্ত থাকবে ।

যখন এটা নিশ্চিত হবেন যে মাসিকের ব্যাথার অন্য কোন কারন নেই তখন আপনি ব্যাথা কমানোর কিছু সধারন উপায় গ্রহন করুন । কতিপয় ঘরোয়া উপায়,খাদ্যাভাস পরিবর্তন,হালকা ব্যায়াম বেশ কার্যকরী ।

নানি দাদীর পদ্ধতি দিয়ে শুরু করুন । তলপেটে একটি গরম পানির বোতল বা ‘হট ওয়াটার ব্যাগ’ রাখুন । এতে আপনার রক্তনালী প্রসারিত হবে,রক্তসঞ্চালন বাড়বে । কাপড় গরম করে তলপেটে রাখলেও একই কাজ করবে ।তেল গরম করে তলপেট আর কোমড়ে মালিশ করলেও আরাম পাওয়া যাবে । বিশ্রাম নেবার সময় পাশ ফিরে হাঁটু ভাজ করে শোয়া ভাল ।

গরম কোন পানীয়,গাজর বা শশার রস পান করলে উপকার পাওয়া যাবে । এতে ‘অ্যান্টি- অক্সিডেন্টস’ থাকে যা শরীরের দূষিত পদার্থ বের করতে সহায়তা করে । আদা গরম পানিতে ফুটিয়ে নিয়মিত পান করলে উপকার পাওয়া যায় । অথবা ধনে পাতা পানিতে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে খেয়ে দেখতে পারেন । ‘মিন্ট চুইংগাম’ ও উপকারী । চিনির বদলে মধু খান এবং খাবারের উপর দিরুচিনি গুড়া ছড়িয়ে নিন ।

তেল-চর্বি যুক্ত খাওয়া বর্জন করুন,পানি বেশি পান করুন এবং প্রতি ২ ঘন্টায় প্রস্রাব করুন । কারন ভরা মূত্রথলি তলপেটে চাপ দিয়ে ব্যাথা বৃদ্ধি করতে পারে ।

যদিও মাসিকের সময় ব্যায়াম করা অনেকেই পছন্দ করেন না,তবুও হাল্কা ব্যায়াম,হাঁটা,সাইকেল চালানো,যোগব্যায়াম করা উপকারী ।
আইবুপ্রফেন,ট্রামাডল,আসপিরিন জাতীয় ওষুধ আপনি খেতে পারেন । কাজ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নাপ্রক্সেন,মেফেনামিক এসিড, প্রিমসন অয়েল অথবা হরমোন থেরাপীতে যেতে পারেন ।

শুধু মাসিকের সময়ই নয়, সারা বছর জুড়েই কর্মক্ষম থাকা এবং পরিমিত খাবার খাওয়া সবথেকে ভাল সমাধান ।

About the author

Maya Expert Team