চুলের যত্নে হরেক রকম তেল

দীঘল লম্বা চুলের যুগ থেকে শর্ট ব্যাংস হেয়ার স্টাইল পর্যন্ত চুলের যত্নে সবসময়ই একটা বিষয় প্রাধান্য পেয়ে আসছে আর তা হল সুস্থ চুল। সুস্থ চুল হল নিয়মিত যত্নের ফসল। চুলের যত্ন না নিলে চুলে অচিরেই ফেটে যায় এবং ভেঙ্গে যায়। আর চুলের যত্নের প্রাথমিক উপাদান হল তেল।

শুধু কি নারিকেল তেল দিয়েই সেরে ফেলেন সব হেয়ার কেয়ার? চুলের যত্নের উপাদানও সময়ে সময়ে পরিবর্তন করা উচিৎ। তাই শুধু নারিকেল তেলের উপর ভরসা না করে জেনে নিন কয়েক রকমের তেল দিয়ে কিভাবে চুলের যত্ন করা যায়-

১) নারিকেল তেল

চুলের যত্নে সবার প্রথমে আসে নারিকেল তেল। বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন দামের নারিকেল তেল পাওয়া যায়। বিশুদ্ধ তেলের নিশ্চয়তা আজ বাজারে নেই বললেই চলে – তবুও চেষ্টা করুন সঠিক ডিলার থেকে পণ্য কিনতে। খেয়াল রাখুন নারিকেল তেল সবসময় শীতকালে জমে যায়। যদি না জমে তাহলে বুঝতে হবে তেলে ভেজাল থাকতে পারে। নারিকেল তেল চুলের যত্নের জন্য আবশ্যক।

• ব্যস্ত থাকলে বাড়ি ফিরে গোসলে যাওয়ার আধা ঘণ্টা আগে নারিকেল তেল লাগান। ২০ থেকে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

• সময় থাকলে চুলের গোড়ায় এবং চুলে ভালো করে নারিকেল তেল লাগান। একটা শুকনো টাওয়েল কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে পুরো মাথার চুল ঢেকে মুড়িয়ে রাখুন। ৪০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

• নারিকেল তেল লাগিয়ে ঘরে বানানো যেকোনো ধরণের হেয়ার প্যাক লাগাতে পারেন।

২) আলমন্ড অয়েল বা বাদাম তেল

নারিকেল তেলের মত বাদাম তেল চুলের জন্য অনেক উপকারী হলেও আমাদের দেশের বাজারে বাদাম তেলের প্রাপ্যতা কম। বাদাম তেল চুলের নানা উপকারে আসে।

• অনেক সময় ধুলোবালি লেগে চুল অনেকটা নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে। চুলের শাইন বাড়াতে বাদাম তেল ব্যবহার করুন।

• শুষ্ক চুলের যত্নে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার বাদাম তেল ব্যবহার করা উচিৎ।

• কালার কিংবা রিবন্ডিং করা চুলের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে বাদাম তেল কাজে দেয়।

• চুল আয়রন করালে চুলকে সুস্থ রাখতে ম্যাসাজ করে লাগান বাদাম তেল।

যদি বাদাম তেলে অ্যালার্জি থাকে তাহলে এই ধরণের তেল ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

৩) আমলা বা আমলকীর তেল

আমলা বা আমলকীর তেলের গুনাগুনের শেষ নেই।

• আমলা তেল সহজেই চুলের গোড়ায় প্রবেশ করতে পারে।

• চুল পেকে যাওয়া রোধ করে।

• রয়েছে অ্যান্টি ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল গুনাগুন যা চুলে খুশকি, উকুন এবং ইনফেকশান হওয়া প্রতিরোধ করে।

৪) ক্যাস্টর অয়েল

ক্যাস্টর অয়েল খুব ঘন এক ধরণের আঠালো তেল। একে মূলত হালকা কোন তেল যেমন নারিকেল তেলের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করতে হয়।

• শুষ্ক স্ক্যাল্পে ময়েশ্চার যোগাতে এই তেল ব্যবহার উচিৎ।

• এতে থাকে প্রচুর মিনারেলস এবং ভিটামিন।

• চুলের ফেটে যাওয়া রোধ করতে ক্যাস্টর অয়েল উপকারে আসে।

• শুষ্ক চুল এবং স্ক্যাল্পের জন্য এই তেল সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার ব্যবহার করা উচিৎ।

তবে চুল খুবই তৈলাক্ত হলে এই তেল বেশি ব্যবহার করা উচিৎ নয়।

৫) এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল

আপনি হয়ত চুলের যত্নে অলিভ অয়েল ব্যবহার করেছেন – কিন্তু চুলের আসল উপকার করে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল।

• এই তেলের ব্যবহার চুল পড়া কমায়।

• চুল বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে।

• চুলের শাইন বাড়ায়।

• বিভিন্ন হেয়ার প্যাকের সাথে মিশিয়েও এই তেল লাগানো যায়।

• চুলের থিকনেস বাড়ায়।

তবে খেয়াল রাখুন এই তেল কখনো গরম করে লাগাবেন না। গরম করলে এই তেলের সকল গুনাগুণ নষ্ট হয়ে যায়।

৬)সরিষার তেল

বহুকাল ধরে আমাদের দেশে ত্বক এবং চুলের যত্নে সরিষার তেল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। শীতকালে নারিকেল তেলের পাশাপাশি মাঝে মাঝে মাথার তালুতে সরিষার তেল ম্যাসাজ করা খুবই উপকারী। তবে সরিষার তেল দেয়ার পর চুল ভালো কোন সুগন্ধযুক্ত শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে যেন তেলের গন্ধ এবং ঝাঁজ না থাকে।

৭)তিলের তেল

মাথাকে ঠাণ্ডা রাখতে এই তেল ব্যবহৃত হয়। ধুলোবালি এবং ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরলে শরীরকে চাঙা করতে এই তেল ম্যাসাজ করে লাগানো উচিত। তাছাড়া সপ্তাহে একদিন এই তেলের ম্যাসাজ চুল পড়া কমায়।

৮)সূর্যমুখী তেল

তৈলাক্ত চুলের জন্য উপযোগী এই তেল। এই তেল অনেক হালকা হয় তাই চুলে ম্যাসাজ করলে চুল তেলতেলে হয় না।

উপরের তেল গুলির ছোট ছোট বোতল কিনে রেখে দিন। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার করে বিভিন্ন তেল দিয়ে যত্ন নিন। তবে কখনোই চুলে তেল লাগিয়ে বেশি সময়ের জন্য ঘুমিয়ে পড়বেন না। এতে চুলের গোড়া নরম হয়ে চুল আরও বেশি পড়তে পারে।