ত্বকের যত্ন মনোসামাজিক সৌন্দর্য চর্চা

গ্রীষ্মে তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে টিপস

সব ধরণের ত্বক, বিশেষ করে তৈলাক্ত ও ব্রণ প্রবণ ত্বকের সমস্যার জন্য গ্রীষ্মকাল হচ্ছে প্রধান সময়। গ্রীষ্মের উষ্ণতা ও আর্দ্রতার কারণে লোমকূপের আকার বেড়ে যায়, যার, ফলে অতিরিক্ত তেল নির্গত হয় এবং ব্রণের সমস্যা থাকলে তা আরোও খারাপ অবস্থা ধারণ করে, যার ফলে তৈলাক্ত ত্বকের অবস্থার অবনতি ঘটে। তবে নিয়মিত তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নিলে তা নিয়ন্ত্রন করা খুব কঠিন কাজ নয়। একটু যত্নের ফলে ত্বকের কোনো সমস্যা ছাড়াই আনন্দময় গ্রীষ্মকাল কাটাতে পারবেন। গরমে তৈলাক্ত ত্বকের কীভাবে যত্ন নিবেন তা জানতে নিচের টিপসগুলো দেখুন।

১. গ্রীষ্মকালে তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে প্রধান কর্তব্য হচ্ছে বারবার মুখ ধোয়া থেকে বিরত থাকা। অনেকেই বিশ্বাস করেন যে বারবার মুখ ধোয়া ত্বককে তেলমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। তবে, প্রকৃতপক্ষে, ঘন ঘন মুখ ধোয়ার ফলে মুখের প্রাকৃতিক তেল নিঃশেষ হয়ে পড়ে এবং তেলের ভারসাম্য রাখার জন্য ত্বক আরো বেশি পরিমাণ তেল উৎপন্ন করে। ফলে ত্বক আরো তেল চিটচিটে হয়ে পড়ে। দৈনিক ৪ বারের বেশি মুখ ধুতে যাবেন না। দিনের বেলায় ত্বক সজীব রাখার জন্য পানির ঝাপটা নিন।

২. নিষ্প্রভতা ও তামাটে ভাব দূর করার জন্য, ঠান্ডা দুধ একটি ভালো প্রতিকারক। ঠান্ডা দুধে তুলার বল ডুবিয়ে নিন এবং সম্পূর্ণ মুখ ও ঘাড়ে লাগিয়ে ১৫ মিনিটের মতো রাখুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঠান্ডা দুধ প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে।

৩. ত্বকের যত্নে চন্দন একটি প্রাকৃতিক উপকারী উপাদান। চন্দন ও গোলাপজলের মিশ্রণে তৈরি ফেসপ্যাক ব্রণ, তৈলাক্ত ভাব দূর করে এবং লোমকূপ ও তামাটে ভাব কমায়।

৪. তৈলাক্ত ত্বকের জন্য আমাদের সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞরা সবসময় মাটি দিয়ে তৈরি মাস্ক ব্যবহার করতে পরামর্শ দেন। বাংলাদেশে মুলতানি মাটি পাওয়া যায়।  তৈলাক্ত ত্বকের জন্য মীনা হারবালের মুলতানি মাটির প্যাক কার্যকরী। ২০ মিনিট পর পর মুলতানি মাটির প্যাক লাগানোর ফলে ব্রণ, তেল ও লোমকূপ দৃশ্যত কমে যায়। মুলতানি মাটির সাথে গোলাপ জল ও চন্দন যোগ করেও মিশ্রণ তৈরি করতে পারেন।

৫. নিম পাতা বাটা বহু বছর ধরে ত্বকের যত্নে ব্যবহার হয়ে আসছে। তৈলাক্ত সংবেদনশীল ত্বক যাদের আছে তারা সপ্তাহে দুইবার নিমের প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। নিম তৈলাক্ত ত্বকের সংবেদনশীলতার সমস্যা দূর করে, সেই সাথে লোমকূপ ও তৈলাক্ততা কমাতে সহায়তা করে। ব্রণ ও ত্বকের ছোটখাট ফোঁড়ার চিকিৎসায় নিম একটি যুগান্তকারী সমাধান।

৬. তৈলাক্ত ত্বক থাকলে উপটান ব্যবহার করতে পারেন। উপটান হচ্ছে বহু বছর ধরে প্রচলিত সৈন্দর্য বর্ধনের একটি আয়ুর্বেদীয় মিশ্রণ। এতে হলুদ গুঁড়া, ডালের গুঁড়া, ছোলার গুঁড়া এবং মেথি গুঁড়া থাকে। উপটানের মিশ্রণ ত্বক থেকে তাপ শোষণ করে নেয় এবং ত্বককে শীতল করে। স্বাভাবিক ত্বকের জন্যও উপটান অনেক সহায়ক। উপটান লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রাখুন এবং পরে কোমলভাবে ঘষে পরিষ্কার করে নিন।

৭. দই/ টক দইয়ে অনেক স্বাস্থ্যকর এনজাইম উপস্থিত থাকে এবং তা ত্বকে প্রাকৃতিক তেল যোগ করে। সাধারণ দই তৈলাক্ত ত্বকে বৃদ্ধি পাওয়া লোমকূপ গভীরভাবে পরিষ্কার করে এবং সেই সাথে হ্রাস ও করে। ত্বক থেকে মৃত কোষ দূর করতে দই এর সাথে চালের গুঁড়া মিশিয়ে বাসায় প্যাক তৈরী করা যায়। এই প্যাক দৃশ্যত আঁচিল দূর করে। দই এর সাথে অন্যান্য ফেস প্যাক যেমন মুলতানি মাটি বা নিম যুক্ত করতে পারেন।

৮. সবসময় ঘরের তাপমাত্রায় উষ্ণ পানিতে মুখ পরিষ্কার করুন। তবে গভীরভাবে পরিষ্কার করার জন্য মাঝে মধ্যে ঈষৎ গরম পানি ব্যবহার করুন। উষ্ণ পানি দ্বারা মুখ পরিষ্কারের পর খুব ঠান্ডা পানির ঝাপটা মুখে দিলে তা লোমকূপ বন্ধ করতে এবং ত্বকে ময়লা ঢোকা বন্ধ করতে সাহায্য করে।

৯. রোদ থেকে বাঁচার ব্যবস্থা না করে বাইরে বের হবেন না। অন্যান্য জিনিস থেকে সূর্য রশ্মি তৈলাক্ত ত্বকের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। গ্রীষ্মে লোশন জাতীয় সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন না। নিউট্রোজেনা আলট্রা শিয়ার ড্রাই টাচ সানস্ক্রীণের মতো তেলমুক্ত সানব্লক ব্যবহার করুন।

১০. শাকসবজির মধ্যে শসা ও টমেটোর রস তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ভালোভাবে কাজ করে। এগুলো হচ্ছে শীতলতা প্রদানকারী এবং তা ত্বকের তেল ও বড় লোমকূপ কমায়। ভালো ফলাফলের জন্য, তুলার বল দিয়ে রস ১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন।

১১. ক্লান্ত মুখকে সতেজ করে তুলতে ও অতিরিক্ত তেল শুষে নিতে, ডিমের সাদা অংশের মাস্ক জাদুর মতো কাজ করে। ডিমের সাদা অংশ ও মধু একত্র করে নিন এবং মিশ্রণটি ত্বকে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন এবং পরে ঈষৎ উষ্ণ পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এ ফেসপ্যাকটি সপ্তাহে এক বা দুইবার ব্যবহার করা উচিত। তৈলাক্ত ত্বক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এ প্যাকটি ত্বকে রোদ সৃষ্ট ক্ষতি সারাতেও সহায়ক। কীভাবে ডিমের কুসুম থেকে সাদা অংশ পৃথক করবেন তা।

১২. তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সিটিএম(Cleaning, Toning, Moisterizing) রুটিন নিয়মিত অনুসরণ করা উচিত। পরিষ্কার করা, টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিং – এ তিন পদ্ধতিকে একত্রে সিটিএম বলা হয়। মুখ পরিষ্কার করার সময় ফোম বা ফেনাযুক্ত ফেস ওয়াশ ব্যবহার করা উচিত কেননা তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে এই জাতীয় ফেস ওয়াশ সবচেয়ে উপযুক্ত। টোনিং এর জন্য, অ্যালকোহল যুক্ত টোনার সবসময় এড়িয়ে চলুন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজিং একটি কৌশলপূর্ণ অংশ। এ জাতীয় ত্বকের ময়েশ্চারাইজিং – এর জন্য জেল ভিওিক ময়েশ্চারাইজার- যেমন লরিয়াল হাইড্রাফ্রেশ ব্যবহার করুন। সবচেয়ে ভালো ফলাফলের জন্য এ জেল ময়েশ্চারাইজার রেফ্রিজারেটরের সংরক্ষণ করুন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য শীতলকৃত ময়েশ্চারাইজার জেল খুবই ভালো কাজ করে।

About the author

Maya Expert Team