তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঘরে তৈরি ৫টি উৎকৃষ্ট ফেসপ্যাক

রান্নাঘরে প্রাপ্ত প্রাথমিক উপাদান দিয়েই যখন ত্বকের যত্ন করতে পারবেন, তখন ফেসিয়ালের জন্য পার্লারে যাওয়া কিংবা দোকান থেকে ফেস মাস্ক কেনার কী প্রয়োজন আছে? সব ধরণের ত্বকের মধ্যে, সারা বছর ধরে তৈলাক্ত ত্বকের বিশেষ যত্ন নিতে হয়। উপরন্তু, অন্যান্য ত্বকের জন্য ব্যবহৃত  ফেসপ্যাক তৈলাক্ত ত্বকের জন্য উপযুক্ত নয়। তাই ত্বকে যেকোন উপাদান প্রয়োগের আগে জেনে নেয়া উচিত যে ঐ উপাদানটি আপনার ত্বকের জন্য সঠিক কী না। বাসায় বসে কয়েক মিনিটের মধ্যে সহজে তৈরি করে নিতে পারবেন, এরকম কয়েকটি ফেসপ্যাক বানানোর পদ্ধতি এখানে দেয়া হলো।

১. মুলতানি মাটি, চন্দন গুঁড়ো ও গোলাপজলের ফেসপ্যাক

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এটি সবচেয়ে ভালো বাসায় তৈরি ফেসপ্যাক যেখানে এই তিনটি উপাদান কার্যকর ভূমিকা রাখে।

উপাদানসমূহঃ

২ টেবিল চামচ মুলতানি মাটি (মীনা হারবাল মুলতানি মাটি)

১ টেবিল চামচ চন্দনের গুঁড়া

ঠান্ডা গোলাপজল

মিশ্রণ তৈরির পদ্ধতিঃ সবগুলো উপাদান একত্র করে নিন এবং মুখ ও গলায় মিশ্রণটি লাগিয়ে নিন। ৩০ মিনিট রাখুন এবং পরে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

উপকারিতাঃ

  • মুলতানি মাটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে নেয় এবং মুখকে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা দেয়। ত্বকের কোষে রক্ত প্রবাহ সঞ্চালিত করায় ভূমিকা রাখে বলে এটির কারণে ত্বকের বর্ণের উন্নতি হয়।
  • চন্দন ও ত্বকের বর্ণের পরিবর্তন করে ত্বককে মসৃণ ও সুস্থ রাখে।
  • এ ফেসপ্যাকের সবচেয়ে ভালো দিক হলো এটি ব্রণ, বড় লোমকূপ ও কালো আঁচিল দূর করে।

২. ওটমিল, মধু ও অ্যামন্ডের (বাদাম) ফেসপ্যাক

উপাদানসমূহঃ

ভাঙা অথবা গুঁড়ো করা ২ টেবিল চামচ ওটমিল (ওটমিলের প্যাকেট যেকোন দোকানে ১৮০ টাকা হতে ২০০ টাকার মধ্যে পেতে পারেন)

৪-৫ টি বাদামের লেই

১ টেবিল চামচ মধু

মিশ্রণ তৈরির পদ্ধতিঃ বাদাম সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন সকালবেলা বাদামের লেই, ওটমিল গুঁড়ো ও মধু একসাথে মিশিয়ে নিন এবং লেই তৈরি করুন। মিশ্রণটি ৩০ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন এবং পরে ধুয়ে নিন।

উপকারিতাঃ

  • ওটমিল হচ্ছে একটি প্রকৃষ্ট প্রাকৃতিক স্ক্রাব, যা মুখের তেলও কমায়।
  • মধু প্রাকৃতিকভাবে ত্বককে আর্দ্র করে তোলে।
  • বাদাম মৃত কোষ পরিষ্কারে সাহায্য করে। এটি আঁচিলও দূর করতে পারে।

৩. উপটান ও দই / ঠান্ডা দুধের ফেসপ্যাকঃ

উভয় উপাদানই তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে শ্রেষ্ঠ।

উপাদানসমূহঃ

২ টেবিল চামচ উপটান

১ টেবিল চামচ দই / দইয়ের পরিবর্তে ঠান্ডা দুধও ব্যবহার করতে পারেন।

মিশ্রণ পদ্ধতিঃ সবগুলো উপাদান একসাথে মিশিয়ে মুখে লাগান। শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন এবং পরে উষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

উপকারিতাঃ

  • তৈলাক্ত ত্বকের জন্য উপটান অনেক উপকারী। প্রাকৃতিকভাবে ত্বক উজ্জ্বল ও সৌন্দর্য বর্ধনকারী হিসেবে এটি কাজ করে, সেই সাথে ব্রণ ও দাগ দূর করে। উপরন্তু বড় লোমকূপ অদৃশ্য করে।
  • দই ও ঠান্ডা দুধ উভয় উপাদান তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ভালো। আরো ভালো ফলাফলের জন্য সাধারণ পানিযুক্ত দই অথবা ঠান্ডা দুধ ব্যবহার করুন।

৪. কমলার খোসার গুঁড়ো, দই ও ছোলার গুঁড়োর (বেসন) ফেসপ্যাকঃ

উপাদানসমূহঃ

রোদে শুকিয়ে নেয়া কমলার খোসা ১ টেবিল চামচ (কমলার খোসা সংগ্রহ করে রাখুন। তা ধুয়ে রোদে ৩-৪ দিন শুকিয়ে নিন। তারপর ব্লেন্ড করে গুঁড়ো করে নিন। এ গুঁড়ো ৩০ দিন পর্যন্ত বা তার বেশি দিন ব্যবহার করা যাবে। এগুলো ত্বকের জন্য নিরাপদ)

২ টেবিল চামচ দই

আধা টেবিল চামচ ছোলার গুঁড়ো

মিশ্রণ পদ্ধতিঃ সবগুলো উপাদান একসাথে মিশিয়ে নিন। যদি মিশ্রণটি গাঢ় মনে হয়, তাহলে পানি মিশিয়ে নিতে পারেন। ৩০ মিনিট মুখে মিশ্রণটি লাগিয়ে রাখুন। ভালো ফলাফলের জন্য সপ্তাহে দুই বার প্যাকটি ব্যবহার করুন।

উপকারিতাঃ

  • প্রাকৃতিক ত্বক পরিষ্কারক হিসেবে  কমলার খোসার গুঁড়ো কাজ করে। এটি ত্বককে তেলমুক্তও করে।
  • ছোলার গুঁড়ো তেল ও ব্রণ কমাতে সাহায্য করে।
  • যদি আপনার ত্বক সংবেদনশীল ও অ্যালার্জি যুক্ত থাকে, তাহলে কমলার খোসার গুঁড়ো ব্যবহার করবেন না।

৫. নিম, হলুদ গুঁড়ো ও লেবুর রসের ফেসপ্যাক

নিম হচ্ছে একটি আয়ুর্বেদীয় উপাদান যা তৈলাক্ত ও ব্রণ প্রবণ ত্বকের জন্য উপযুক্ত। যখন নিম অন্যান্য উপাদানের সাথে যুক্ত করা হয়, তখন তা ত্বকের সমস্যা দৃশ্যত কমাতে চমৎকারভাবে কাজ করে।

উপাদানসমূহঃ

১ টেবিল চামচ নিমের গঁড়ো (রোদে পরিষ্কার নিমপাতা শুকিয়ে নিমের গঁড়ো তৈরি করা যায়। মীনা হারবাল – এর নিম ফেস প্যাকও ব্যবহার করা যায়, এটিও তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ভালো)

আধা টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়ো

কয়েক ফোঁটা লেবুর রস

মিশ্রণ পদ্ধতিঃ উপরোক্ত পরিমাণে সব উপাদান একত্রে মিশিয়ে নিয়ে পরিষ্কার মুখে লাগিয়ে নিন। ২০ মিনিট রাখুন এবং পরে সাধারণ পানি দ্বারা ধুয়ে নিন।

উপকারিতাঃ

  • নিম তেল ও ব্রণ কমায়। ত্বকের ব্যাকটেরিয়া নিধনে এটি জীবাণুনাশক হিসেবেও কাজ করে।
  • হলুদ গুঁড়ো হচ্ছে একটি প্রকৃষ্ট প্রাকৃতিকভাবে রং উজ্জ্বলকারী।
  • লেবুর রসও প্রাকৃতিক ত্বক পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বকের গভীরের ময়লা পরিষ্কারে সহায়তা করে।