ত্বকের যত্ন মনোসামাজিক সৌন্দর্য চর্চা

ক্যান্সার নিয়ে সবচেয়ে ভয়াবহ মিথ্যা – কালো রঙের মানুষেরা ক্যান্সারে আক্রান্ত হন না!

বিশ্বব্যাপী, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোতে ত্বকের ক্যান্সার হচ্ছে সবচেয়ে বেশি সৃষ্ট ক্যান্সার। উজ্জ্বল রঙের অধিকারীরা সুন্দর – আমাদের সমাজে এ কথাটি প্রচলিত হওয়ায়, আমরা সূর্য কে তেমন পছন্দ করিনা । আর রোদে ত্বক তামাটে করার জন্যও কোনো আগ্রহ নেই। এটি আশীর্বাদ ও অভিশাপ উভয়ই বয়ে আনে। যদিও বাংলাদেশে ত্বকের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা এখনো কম, তবে এ সংখ্যা বৃদ্ধির পথে কেননা ত্বকের কীভাবে যত্ন নিতে হয় সে সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান যথেষ্ট নয়।

ত্বকের ক্যান্সারে সম্পর্কে অনেক ভুল ধারণা ও জনশ্রুতি প্রচলিত থাকলেও, সবথেকে ক্ষতিকর ধারণা হচ্ছে শেতাঙ্গ ব্যতীত অন্যান্য বর্ণের মানুষদের ত্বকের ক্যান্সার হয় না। সত্যি বলতে ক্যান্সার কোনো  বৈষম্য মানে না, বয়স, জাতি, লিঙ্গ কিংবা জীবন যাপন পদ্ধতি ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে না – এ কথা লোকেরা বুঝতে পারেনা। জীবনের যেকোন সময়ে যেকোন বয়সে ক্যান্সার হতে পারে। কোনো ব্যক্তিই ক্যান্সার থেকে নিরাপদ নন।

ত্বকের ক্যান্সারের মুখ্য কারণ হচ্ছে সূর্যের অতিবেগুণি (আলট্রাভায়োলেট) রশ্মি। কৃষ্ণ বর্ণের ব্যক্তিদের ত্বকে উজ্জ্বল বর্ণের ত্বক থেকে মেলানিন (ত্বক ও চোখকে বর্ণ প্রদানকারী রঞ্জক পদার্থ) বেশি পরিমাণে উপস্থিত থাকে। এই মেলানিন অতিবেগুণি রশ্মি শোষণ করে নেয়। এবং ত্বকের গভীরে উপস্থিত কোষে অধিকতর রশ্মি প্রবেশ বাধা দেয়। এর ফলে, সূর্যের আরো ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য আমাদের ভাল নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। এই কারণে আমাদের দেশে ত্বকের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো বেশি মাত্রায় নেই।

তবে, অতিবেগুনি রশ্মির দ্বারা কালো বর্ণের ব্যক্তিরাও ত্বকের ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন। রোদে দীর্ঘক্ষণ থাকায় কখনো কী আপনার ত্বক পুড়ে গিয়েছে? সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে রোদে পুড়ে যাওয়া ও মেলানোমার মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে – যা ক্যান্সারের একটি বাজে রূপ।

কিছু কিছু গবেষণায় এটিও দেখা গেছে যে সানস্ক্রিন ছাড়া বছরের পর বছর অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে থাকার ফলে ত্বকের ক্যান্সার হয়।

কালো বর্ণের ত্বক ও মেলানিন উচ্চ মাত্রায় উপস্থিত থাকার কারণে আমরা নিজেকে ক্যান্সার থেকে নিরাপদ মনে করি। তবে, আসলে গবেষণা থেকে জানা যায় যে, স্কোয়ামাস সেল কারসিনোমা (squamous cell carcinoma), যা ত্বকের ক্যান্সারের মধ্যে একটি প্রচলিত ও ভয়ংকর রূপ, তাতে বরং আমাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। ক্যান্সারের এই রূপটি শরীরের যেসব অংশ সূর্যরশ্মির সংস্পর্শে আসে না, যেমন হাতের তালু, পায়ের আঙুল, নখের তলা, মিউকাস মেমব্রন প্রভৃতি অংশের ত্বকের উপরের স্তরে সৃষ্টি হয়।

ত্বকের ক্যান্সার থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে প্রাত্যহিক জীবনে নিচের বিষয়গুলো বজায় রাখার চেষ্টা করুন-

ছাতা ও ইউভি সানগ্লাস ব্যবহার করুন। চোখকে নিরাপদ রাখুন কেননা এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সূর্যের দিকে তাকালে চোখ ও চোখের পাতা শুধু যে ত্বকের ক্যান্সারে আক্রান্ত হবে তাই নয়, বরং ক্যাটারাক্টস ও টেরিজিয়ার মতো অন্যান্য রোগ ও হতে পারে।

রোদে ত্বক পুড়ে গেলে অবশ্যই চিকিৎসা গ্রহণ করুন। আক্রান্ত স্থান দ্রুত শীতল করার জন্য বরফ অথবা ঠান্ডা পানি ব্যবহার করুন।

প্রত্যেক মাসে একবার ত্বক ভালভাবে পরীক্ষা করুন। শরীরের ত্বকে কোনো ধরণের পরিবর্তন হয়েছে কী না দেখুন। ত্বকের ক্যান্সারের কয়েকটি সতর্কীকরণ চিহ্ন হচ্ছেঃ

কোনো দাগ বা ক্ষত যেখানে ক্রমাগত যন্ত্রণা, ব্যথা, চুলকানি, শক্ত আবরণ, ধীরে ধীরে ক্ষয় অথবা রক্তক্ষরণ হয়।

উন্মুক্ত ক্ষত যা দুই সপ্তাহে সেরে যায়নি।

ত্বকের বৃদ্ধি, তিল, আঁচিল অথবা বাদামি দাগ যা বর্ণ পরিবর্তন করে এবং এগুলো দেখতে অস্বচ্ছ, পরিষ্কার, রোদে পোড়া- বাদামি, কালো অথবা বহুবর্ণের/ গঠনে পরিবর্তিত হয়/ আকার অথবা ঘনত্বে পরিবর্তিত হয়/ সীমারেখা অনিয়মিত থাকে/ ৬ মিলিমিটার (পেন্সিল ইরেজারের সাইজ) থেকে বড় হওয়া/ ২১ বছর বয়সের পর দেখা দিয়েছে

মেলানোমা নখের নিচে কিংবা পায়ের আঙুলের মধ্যে গোপন থাকতে পারে। মাসে একবার বা দুইবার নখের নেইল পলিশ মুছে ফেলুন এবং যেকোন পরিবর্তনের জন্য পুরো পা এবং পায়ের তলা পরিক্ষা করুন।

তাই যখনি ঘরের বাইরে বের হবেন, বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপের কথা মনে রাখবেন এবং ত্বকের ক্যান্সার প্রতিরোধে যা যা করতে পারেন তার সবগুলো করবেন।

সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টার মধ্যবর্তী সময় ছায়াতে থাকুন।

ত্বক যাতে না পোড়ে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

টি-শার্ট, টুপি এবং সানগ্লাস ব্যবহার করে ত্বক ঢাকুন।

শিশুদের বিশেষ যত্ন নিতে ভুলবেন না।

এবং ফ্যাক্টর ১৫ প্লাস সানক্রীণ ব্যবহার করুন।

About the author

Maya Expert Team