ত্বকের যত্ন মনোসামাজিক সৌন্দর্য চর্চা

ত্বকের জন্য সঠিক ধরনের ফেসিয়াল নির্ধারণ করা

ত্বকের জন্য সঠিক ধরনের ফেসিয়াল নির্ধারণ করা
ত্বকের জন্য সঠিক প্রকারের ফেসিয়াল নির্ধারণ করা একটা কঠিন কাজ। বিউটি সেলুনগুলোতে এত ধরনের ফেসিয়াল থাকে যে আমরা কনফিউজড হয়ে যাই। স্পা এবং বিউটি সেলুনগুলোতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ফেস মাস্কগুলোর বর্ণনা নিচে দেয়া হল। এগুলো আরও বিভিন্ন ধরনের হয়, কিন্তু নিচেরগুলোই সবচেয়ে বেসিক ধরনের। ফেসিয়াল করতে যাওয়ার সময় অবশ্যই আপনার ত্বকের ধরন ও এর জন্য কোনটা ভাল তা নিশ্চিত হয়ে যাবেন।


১.
কাদার মাস্ক (Clay Mask)
কাদা বা ক্লে মাস্ক বিভিন্ন ধরনের হয় – ফুলার’স আর্থ প্যাক, গ্রিন ক্লে মাস্ক, কাওলিন ক্লে মাস্ক। বাংলাদেশে ফুলার’স আর্থ মাস্ক বা মুলতানি মাটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়। তৈলাক্ত, ব্রন প্রবন এবং মিশ্র ধরনের ত্বকের জন্য ক্লে মাস্ক সবচেয়ে ভাল। এটি তেল শুষে নেয়, লোমকূপ পরিষ্কার করে এবং ব্রন দূর করে। ক্লে মাস্ক পানি, টক দৈ বা গোলাপ জলের সাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে ব্যবহার করা হয়। মাস্কটি ১৫-২০ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।


২.
পিল অফ/ প্যারাফিন মাস্ক (Peel–off/ Paraffin Mask)
পিল অফ বা প্যারাফিন মাস্ক জেল বা ওয়াক্স আকারে পাওয়া যায়। এটি অন্যান্য মাস্কের মত নয়। এটি ব্যবহারের পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার পরিবর্তে এর আস্তরণটি টেনে তুলে ফেলতে হবে। এই মাস্ক বয়স কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়, কারন এটি ব্যবহারের ফলে ত্বক টানটান হয়ে থাকে কিছু সময়ের জন্য। এটি চেহারায় রক্ত চলাচলও বাড়ায়, যার ফলে নিস্প্রান ত্বক উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। চেহারার দাগ ও বয়সের ছাপ কমানোর জন্য এটি ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়। এটি ট্রিটমেন্ট দেয়ার মাস্ক, প্রতি মাসে একবার বা দুবারের বেশি ব্যবহার করবেন না।


৩.
থার্মাল মাস্ক (Thermal Mask)
থার্মাল মাস্কও ট্রিটমেন্ট মাস্ক। এটি প্রথমে চেহারায় সাধারন মাস্কের মত লাগানো হয়। এর কিছুক্ষন পরে এটি গরম হয়ে উঠতে থাকে। এর তাপে লোমকূপগুলো খুলে যায় এবং ত্বক সতেজ ও পরিচ্ছন্ন হয়ে ওঠে। যারা নিয়মিত মেকআপ ব্যবহার করেন এবং যাদের লোমকূপ বেশ বড় তাদেরকে ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়।


৪.
ক্রিম মাস্ক (Cream Mask)
ক্রিম মাস্ক হচ্ছে শুষ্ক ও সাধারন ত্বকের জন্য। এতে ওয়াক্স বা ইমোলিএন্ট জাতীয় পদার্থ থাকে। এগুলো শুষ্ক ত্বককে আর্দ্র ও নরম করে।


৫.
ওয়ার্ম অয়েল মাস্ক (Warm Oil Mask)
ওয়ার্ম অয়েল মাস্ক সাধারণত স্পাগুলোতে ব্যবহার করতে দেখা যায়। এটি আমন্ড অয়েল, অলিভ অয়েল, ভিটামিন ই অয়েল বা এসেন্সিয়াল অয়েল দিয়ে তৈরি হয় এবং এটি শুষ্ক, খুব শুষ্ক এবং বয়স্ক ত্বকের জন্য আদর্শ। তেলের গরমের কারনে লোমকূপগুলো খুলে যায় আর্দ্রতা ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে।


৬.
হারবাল মাস্ক (Herbal Mask)

হারবাল মাস্ক ফলমূল, ফুল এবং লতা-গুল্ম দিয়ে তৈরি হয় – যেমনঃ শসা, পেপে এবং এলোভেরা। বিভিন্ন ধরনের ত্বকের জন্য বিভিন্ন রকমের হারবাল মাস্ক হয়। এই ফেসিয়াল দিয়ে ত্বকের কোন ধরনের ট্রিটমেন্ট দেয়া হয় না; এটি শুধু ত্বককে পুনরুজ্জীবিত এবং সতেজ করে। তরুণী ও কিশোরীদের উচিত এধরনের ফেসিয়াল ব্যবহার করা।

About the author

Maya Expert Team