ত্বকের যত্ন মনোসামাজিক সৌন্দর্য চর্চা

রমজান মাসে ত্বকের যত্নে করণীয়

রমজান মাসে ত্বকের যত্নে করণীয়

১. স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন
সুস্থ ত্বকের জন্য সুষম খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। রমজান মাসে আপনার খাদ্য তালিকায় বেশি করে তাজা ফল, শাকসব্জি ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যোগ করুন। তেলযুক্ত ও মসলাদার খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। পানিশূণ্যতা থেকে নিরাপদ থাকতে প্রচুর পরিমাণে পানি ও ফলের রস পান করুন।

২. মুখ ধোয়া ও স্ক্রাব কম পরিমাণে করুন
রোজা পালনের সময় শরীরের মতো ত্বকও পানিশূণ্য হয়ে পড়ে। বারবার মুখ পরিষ্কার ও ধোয়ার ফলে ত্বক আরো শুষ্ক  হয়ে পড়ে। প্রতিদিন দুই বারের বেশি মুখ পরিষ্কার করতে যাবেন না। বড় দানাযুক্ত ফেস ও বডি স্ক্রাব ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন। এসব বড় দানাযুক্ত স্ক্রাব মুখ ও ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা শোষণ করে নেয়।

৩. টোনার ও অ্যাসট্রিনজেন্ট ব্যবহার সীমিত রাখুন
টোনার ও অ্যাসট্রিনজেন্ট ত্বকের গভীরের ময়লা এবং ক্লিনজারের অবশিষ্ট পরিষ্কার করে। রমজানে টোনার ও অ্যাসট্রিনজেন্ট সীমিত আকারে ব্যবহার করুন কেননা এই পণ্যগুলো শুধুই ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কমিয়ে দেয় না বরং ত্বককে শুষ্কও করে দেয়। দিনে শুধুমাত্র একবার টোনার ব্যবহার করুন।

৪. ত্বককে যথাযথ আর্দ্রতা দিন
রোজা পালন অবস্থায় যেহেতু ত্বকও পানিশুণ্য হয়ে পড়ে, তাই সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞরা দিনে ২ থেকে ৩ বার ত্বককে আর্দ্রতাযুক্ত করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে, জেলযুক্ত মুখের ময়েশ্চারাইজার ও পানিমুক্ত অ্যালোভেরা বডি লোশন ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়। রোজা পালনের ফলে শুষ্ক ত্বককে উচ্চমূল্য দিতে হয়, কেননা এ সময়ে শুষ্ক ত্বক আরো শুষ্ক ও নির্জীব হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় ত্বককে আর্দ্রতাযুক্ত রাখার জন্য সাধারণ ময়েশ্চারাইজারে ১ অথবা ২ ফোঁটা অ্যামন্ড তেল মিশিয়ে ব্যবহার করুন। সাধারণ বডি লোশনের পরিবর্তে বডি বাটার বেছে নিন।

৫. রোদ থেকে নিরাপদে থাকুন
রমজান মাসে রোদ থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখা ত্বকের যত্নের একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শরীরে পানির সরবরাহ নিঃশেষ হওয়ার সাথে সাথে ত্বক আরো পানিশূন্য হয়ে পড়ে যা রোদে পোড়া ও ত্বকের বর্ণের পরিবর্তনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। পুরনো উজ্জ্বলতা ফিরে আসতে ও ফ্যাকাশে ভাব দূর হতে অনেক সময় নেয়। বাইরে বের হওয়ার সময় কখনোই রোদ থেকে সুরক্ষিত হতে ভুলবেন না। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য তেলমুক্ত সানব্লক এবং শুষ্ক ও স্বাভাবিক ত্বকের জন্য সানসস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করুন। নিয়মিত ব্যবহৃত ময়েশ্চারাইজারের উপর সানস্ক্রীণ অথবা সানব্লক লাগাতে পারেন।

৬. চোখের যত্ন
শরীরে পানির অভাবের কারণে চোখের চারপাশে বলিরেখা ও কালো বৃও নজরে আসরে পারে। ঘুমানোর আগে ২টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল নিয়ে ক্যাপসুল গুলো নিংড়ে সব উপাদান বের করে নিন। এরপর ঐ উপাদান বা তেল চোখের চারপাশের অংশে লাগিয়ে নিয়ে নিশ্চিতে ঘুমিয়ে পড়ুন।

৭. ঠোঁটের যত্ন
রমজান মাসে ঠোঁট শুষ্ক ও স্তরপূর্ণ হয়ে পড়ে। ঘুমানোর পূর্বে ঠোঁটে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভ্যাসলিন লাগান। শুষ্ক ও ফেটে যাওয়া ঠোঁট নিরাময়ে অন্যান্য পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। দিনে ২ বার ঠোঁটে ক্যাস্টর ওয়েল লাগাতে পারেন। শুষ্ক ঠোঁট দূর করতে অ্যামন্ড ওয়েল অথবা নারিকেল তেল ভালো কাজ করে। সেই সাথে ঠোঁটে ভিটামিন ই ক্যাপসুলের তেল লাগাতে পারেন।

৮. সতেজতার জন্য গোলাপজল
সব ধরণের ত্বককে সতেজ করে তোলার জন্য উপযুক্ত হচ্ছে গোলাপজল। যেহেতু এ বছর গ্রীষ্মকালে রোজা পালন করতে হবে, তাই ত্বককে একটু অতিরিক্ত সতেজ রাখতে পারেন। একটি স্প্রে বোতলে কিছু পরিমাণ গোলাপজল নিয়ে ব্যাগে রেখে দিন। যখন ক্লান্ত বোধ করবেন তখন নিজেকে তৎক্ষণাৎ সতেজ করতে ত্বকে কিছু গোলাপ জল ছিটিয়ে দিন।

৯. ফলের ফেস প্যাক
এই ঋতুতে প্রাপ্ত বিভিন্ন ধরণের ফলের ভালো ব্যবহার করুন। ফলের রস পান করার পাশাপাশি ত্বককে পানিশূণ্যতা থেকে বাঁচাতে ও ভালো ভাবে আর্দ্র করে তুলতে পানিযুক্ত ফলের ফেস প্যাক তৈরি করুন।

  • ১ চা চামচ মধুর সাথে ২ চা চামচ লেবুর রস অথবা কমলার রস যুক্ত করুন। মিশ্রণটি ত্বকে ১০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন।
  • ১ চা চামচ দইয়ের সাথে ২ চা চামচ আমের রস মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তৈলাক্ত ও মিশ্র ত্বকের জন্য এ ফেস প্যাকটি উপযুক্ত।
  • ভালোভাবে গুঁড়ো করা পেঁপের মিশ্রণ ৩-৪ চা চামচ নিন এবং ত্বকে ১৫ মিনিট রাখুন। শুষ্ক ত্বকের জন্য পেঁপে ত্বকের খাদ্য হিসেবে কাজ করে। বলিরেখা ও তীব্র শুষ্ক ত্বকের সাথে জড়িত অন্যান্য সমস্যার ক্ষেত্রে পেঁপের সাথে কয়েক ফোঁটা অ্যামন্ড তেল যোগ করতে পারেন।
  • মধুর সাথে গুঁড়ো করা আপেল স্বাভাবিক ও সংবেদনশীল ত্বকের জন্য ভালো ফেস প্যাক।

১০. শ্যাম্পুর ব্যবহার কমানো ও কন্ডিশনারের ব্যবহার বৃদ্ধি
পানি ছাড়া কয়েক ঘন্টা থাকার ফলে চুলেরও ক্ষতি হতে পারে। উজ্জ্বল ও সুস্থ চুলের জন্য বারবার শ্যাম্পু করবেন না। নিয়মিত ব্যবহৃত শ্যাম্পুর পরিবর্তে হালকা শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। এ আবহাওয়াতে খুশকির পরিমাণ কম থাকার সম্ভাবনা থাকে, তাই গ্রীষ্মে এবং বিশেষ করে রমজান মাসে খুশকিনাশক শ্যাম্পু ব্যাবহার করতে হবে না। এ শ্যাম্পুগুলো সাধারণ শ্যাম্পু থেকে অনেক ঝাঁঝালো হয়ে থাকে যা চুল ও মাথার ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। চুলকে ভালোভাবে আর্দ্র করে রাখতে একদিন পরপর কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। কন্ডিশনার ব্যবহারের সময় কখনোই চুলের গোড়ায় কন্ডিশনার প্রয়োগ করবেন না কারণ এতে খুশকি সৃষ্টি হতে পারে এবং চুল তৈলাক্ত হয়ে যেতে পারে।

১১. রাতে ভালোভাবে ঘুমানো
সুস্থ ত্বকের জন্য রাতে ভালোভাবে ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাতে যখন আমরা ঘুমাই তখন ত্বকের কোষ পুনরুজ্জীবিত হয়। রমজানের দিনগুলোর সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য তাড়াতাড়ি ঘুমানোর চেষ্টা করবেন। পবিত্র এই মাসে ও ঈদের দিন সুন্দর থাকার জন্য প্রতি রাতে কমপক্ষে ৮ ঘন্টা ঘুমানো নিশ্চিত করুন।

About the author

Maya Expert Team