ত্বকের যত্ন মনোসামাজিক সৌন্দর্য চর্চা

লোম অপসারণের পদ্ধতিসমূহ

লোম অপসারণের পদ্ধতিসমূহ
লোম অপসারণের স্থায়ী পদ্ধতি ও সেগুলোর উপস্থিতি বাংলাদেশে খুবই সীমিত। তাই প্রথম পছন্দ হিসেবে এদেশের নারীরা অস্থায়ী পদ্ধতিগুলো বেছে নেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে লেজার দ্বারা লোম অপসারণের পদ্ধতি বাংলাদেশে অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

নিচে লোম অপসারণের পদ্ধতিগুলো নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলোঃ

১. প্লাকিং

প্লাকিং হচ্ছে সবচেয়ে ব্যবহৃত পদ্ধতি যেখানে ছোট চিমটা বা এক গাছি সুতা দ্বারা মূল থেকে লোম উঠিয়ে ফেলা হয়। বাংলাদেশের সব বিউটি পার্লারে থ্রেডিং একটি সাধারণ সেবা। ভ্রু ছোট বা পাতলা করা এবং মুখের লোম অপসারণের জন্য এ পদ্ধতি বাংলাদেশের বেশিরভাগ নারীদের পছন্দ। ভ্রু, থুতনি অথবা ঠোঁটের উপরের অংশের মতো ছোট ছোট জায়গার জন্য প্লাকিং উপযুক্ত পদ্ধতি। যদিও এ পদ্ধতি অনেক ব্যাথাময়, তবুও আগে ওয়াক্স বা শেভ করা হয়েছে এমন ত্বকে আরো সুক্ষ লোম উঠানোর জন্য প্লাকিং উপযুক্ত।

২. শেভ করা

ব্যাথাহীন হওয়ার এই পদ্ধতি হচ্ছে সবচেয়ে সস্তা ও বিপুলভাবে ব্যবহৃত। তবে মুখের লোম অপসারণের শেভ করা ভালো সিদ্ধান্ত নয়। প্রতিদিনের গোসলের রুটিনের একটি অংশ হিসেবে এ পদ্ধতিকে অন্তর্ভূক্ত করা যায়। শেভ করার মাধ্যমে লোম মূল থেকে উঠে আসে না। এটি শুধুমাত্র লোমের অতিরিক্ত অংশ কেটে দেয় তাই ২-৩ দিন পরই শরীরে অন্তর্বধির্ত লোম আবার দেখা যাবে।

৩. লোম অপসারণের ক্রীম

এ ধরণের ক্রীমগুলোকে লোমনাশকও বলা হয়। নেয়ার, ভীট প্রভৃতি বিভিন্ন লোম অপসারণের ক্রীম বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে পাওয়া যায়। তবে শরীরের সংবেদনশীল অঙ্গসমূহ, যেমন বগল, অন্তর্বাস পরিধানের অংশ প্রভৃতির জন্য এসব ক্রীম উপযুক্ত নয়। সেই সাথে মুখের লোম অপসারণের জন্যও লোমনাশক এই পদ্ধতি ব্যবহার স্বাস্থ্যকর নয়। শুধুমাত্র হাত ও পায়ের জন্য এ ক্রীমগুলো ব্যবহার করুন। এ ধরণের ক্রীমে উপস্থিত রাসায়নিক পদার্থ খুবই শক্তিশালী হয় এবং ত্বকে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে। তাই নতুন কোনো ক্রীম ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই একটি প্যাচ টেস্ট অর্থাৎ ত্বকের সংবেদনশীলতা পরিক্ষা করার পরামর্শ দেয়া হয়। ত্বকে ক্রীম প্রয়োগের পর তাতে উপস্থিত রাসায়নিক পদার্থ ত্বকের কোষে ছড়িয়ে পড়তে ১০-১৫ মিনিট সময় নেয়। একটি তোয়ালে বা স্প্যাচুলার (যা পণ্য ক্রয়ের সাথে পাওয়া যায়) মাধ্যমে লোম মুছে নেয়ার জন্য লোম বেড়ে উঠার উল্টা দিকে ঘষুন।

৪. ওয়াক্সিং স্ট্রীপ

বাসায় বসে অবাঞ্চিত লোম অপসারণের সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি হচ্ছে স্ট্রীপ দ্বারা ওয়াক্সিং। এ স্ট্রীপ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন আকার বা গঠনে পাওয়া যায়। উপর ও নীচের ঠোঁট, নাক, বিকিনি লাইন এবং চোখের ভ্রু এর জন্য পাতলা ও ছোট স্ট্রীপ আছে। বর্গাকৃতি স্ট্রীপ হাত, বগল এবং পায়ের লোম অপসারণে ব্যবহৃত হয়। এ পদ্ধতিতে অনুভূত ব্যথা অনেক বেশি তবে এটি সময় বাঁচায়। এতে চিনির ওয়াক্স তৈরির ঝামেলায় যেতে হয় না, লোম মোছার কাপড় পরিস্কার করতে হয় না। উপরন্তু স্ট্রীপ দ্বারা একবারেই লোম সমুলে উঠিয়ে ফেলা যায়। তাই দীর্ঘদিন লোমমূক্ত থাকার জন্য ওয়াক্সিং স্ট্রীপ ব্যবহার একটি ভালো পদ্ধতি। ভীট রেডি-টু-ইউজ ওয়াক্সিং স্ট্রীপ বাংলাদেশে পাওয়া যায় এবং হাত, পায়ের লোম অপসারণের জন্য এটি উপযুক্ত। আলমাস এবং প্রিয়’তে নাক ও উপরের ঠোঁটের জন্য ওয়াক্সিং স্ট্রীপ পাবেন।

৫. ওয়াক্সিং

দুই ধরনের ওয়াক্সিং পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে- বিউটিশিয়ান দ্বারা এবং নিজে নিজে করা। যথাযথ লোমমূক্ত ত্বকের জন্য বিউটি পার্লারের বিউটিশিয়ান দ্বারা ওয়াক্সিং করাতে পারেন। উপরে আলোচিত পদ্ধতিগুলো থেকে ওয়াক্সিংয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ সময়ের জন্য লোমমূক্ত, মসৃণ ত্বক পেতে পারেন। এ পদ্ধতিতে, উষ্ণ ওয়াক্স ত্বকের লোম জন্মানোর দিকে ছড়িয়ে দেয়া হয়। এর ফলে লোম ওয়াক্স-এর সাথে দৃঢ়ভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে। যখন ওয়াক্স ঠান্ডা হয়ে যায় তখন তা লোমকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়িয়ে ধরে। তারপর লোম গজানোর উল্টো দিক হতে ওয়াক্স হ্যাঁচকা টানে উঠানো হয়, যার মাধ্যমে লোম কূপ থেকে উঠে পড়ে।

নিজে নিজে করার জন্য সুগার ওয়াক্সিং সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি। সাধারন ওয়াক্সিং পদ্ধতির মতোই এটি কাজ করে। পার্লারে ব্যবহৃত ওয়াক্স এর পরিবর্তে এ পদ্ধতিতে চিনির মত ঘন উপাদান ব্যবহার করা হয়। একটি পরিষ্কার কাপড় অথবা পেপার স্ট্রিপ অথবা জিন্সের টুকরো ঐ উপাদানে ভেজানো হয় এবং দ্রুত তুলে নেয়া হয়। এ পদ্ধতিতেও লোম গজানোর উল্টো দিক হতে লোম টেনে তুলতে হয়।

৬. কয়েল হেয়ার রিমুভার

এ জাতীয় পণ্য শুধুমাত্র মুখের লোম অপসারণের জন্যে ব্যবহৃত হয় এবং এগুলো ‘ইউ’ আকৃতির, বিপরীত দিকে ভাঁজ করে ধরতে হয়। কয়েলটি লোমের বিপরীতে রেখে হাতলটি ধরে রিমুভারটি উল্টো দিকে ঘুরাতে হয়। তখন লোম আঁটোসাঁটো কয়েলের স্প্রিং- এ আটকে যায়, এবং এ স্প্রীংটি দ্রুত একবার ঘুরালে চুল আটকিয়ে তা উঠিয়ে করে ফেলে। এ পদ্ধতিটি প্লাকিং এর মতো ব্যথাময় নয়।

৭. এপিলেটর

এপিলেটর হচ্ছে লোম উঠানোর বৈদ্যুতিক যন্ত্র, যা যান্ত্রিক উপায়ে একাধিক লোম একসাথে ধরে টেনে নিয়ে আসে। কিছু এপিলেটর লোমকে মূল থেকে উঠিয়ে দেয় এবং কিছু কিছু শুধুমাত্র লোম কেটে হালকা করে দেয়। বাংলাদেশে, ফিলিপস ও প্যানাসনিক ভালো মানের এপিলেটর বিক্রি করে। এ যন্ত্র শুধুমাত্র শরীরের লোম অপসারণে ব্যবহৃত হয়। প্রথমদিকে এ যন্ত্রতে ব্যথা অনুভূত হয়, তবে পরবর্তিতে ব্যথার সাথে খাপ খাইয়ে নেয়া যায়। প্যানাসনিক ও ফিলিপসের এপিলেটরের মূল্য ৩০০০ টাকা হতে ৫০০০ টাকা।

৮. লেজার চিকিৎসা

বাংলাদেশে বর্তমানে লেজার চিকিৎসা দিন দিন জনপ্রিয়তা লাভ করছে। শরীরের অযাচিত লোম থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পেতে অনেক নারীই এ পদ্ধতি পছন্দ করেন। এটি ব্যয়বহুল এবং সবচেয়ে ভালো ফলাফলের জন্য দক্ষ বিশেষজ্ঞ খুঁজে বের করতে হয়। লেজার দ্বারা লোম অপসারণের পদ্ধতিতে লোমকোষে উচ্চহারে ঘনীভূত ও তীক্ষ্ণ আলো পরিচালিত হয়। কোষের রঞ্জক পদার্থ এই আলোটি শোষণ করে নেয় যা লোমকে সমূলে ধ্বংশ করে দেয় এবং লোম জন্মানো বন্ধ করে দেয়।

৯. ইলেক্ট্রোলাইসিস

বাংলাদেশে তেমন প্রচলিত না হলেও, এ পদ্ধতিকে লোম অপসারণের একটি কার্যকর ও স্থায়ী পদ্ধতি হিসেবে বলা হয়। ইলেক্ট্রোলাইসিস পদ্ধতিতে, লোমকোষে একটি সূক্ষ সুঁই প্রবেশ করানো হয় এবং কোষমূলে তড়িৎ প্রবাহ পরিচালনা করা হয়। এই তড়িৎ প্রবাহ লোমের মূলকে পুড়িয়ে দেয় এবং ভবিষ্যতে লোম জন্মানো বন্ধ করে দেয়। প্রত্যেক লোম কোষকে পৃথকভাবে ইলেক্ট্রোলাইসিস করতে হয় এবং কোষ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিতে কয়েকটি সেশনের প্রয়োজন হয়।

About the author

Maya Expert Team