মনোসামাজিক মেকআপ টিপস সৌন্দর্য চর্চা

কনসিলার নিয়ে যত কথা

কনসিলার নিয়ে যত কথা
ভারী মেকাপ কি হালকা মেকাপ সব ধরণের মেকাপে প্রয়োজন কনসিলারের। আমাদের মুখের সব জায়গার রঙ এক রকম নয় যেমন – চোখের চারপাশটা একটু কালচে থাকে, আবার অনেকের ঠোঁটের চারপাশটা কালচে দেখায়। মাঝে মাঝে ত্বকে থাকে নানা রকম স্পট কিংবা ব্রনের দাগ। ভারী ফাউন্ডেশান দিয়ে এই ধরণের দাগ বা ত্বকের কালচে রঙকে ঢাকা গেলেও হালকা মেকাপে কখনোই ভারী ফাউন্ডেশান ব্যবহার করা যায় না। এক্ষেত্রে কাজে আসে কনসিলার। কিন্তু কনসিলারকে পারদর্শিতার সাথে ব্যবহার করতে হয়, তা না হলে মুখের বিশেষ কিছু অংশ অতিরিক্ত সাদাটে দেখাতে পারে। তাই কনসিলার ব্যবহার নিয়ে কিছু প্রশ্ন নিয়ে আজ আলোচনা করা হল –

১) কোন ধরণের কনসিলার ফর্মুলা ব্যবহার করবো?

উঃ আমাদের দেশের বাজারে মূলত ২ ধরণের কনসিলার পাওয়া যায় – ক্রিমি এবং লিকুইড। আমাদের মুখের ত্বকে সব স্থান একই রকম হয় না। তৈলাক্ত, শুষ্ক কিংবা মিশ্র যেকোনো ধরণের ত্বকে চোখের নিচের অংশ শুষ্ক হয়। তাই আন্ডার আই ডার্ক সার্কল কাভার করতে সবসময় ক্রিম কনসিলার ব্যবহার করা উচিৎ। তাছাড়া চোখের চারপাশে রিঙ্কলস পড়ে বেশি তাই লিকুইড কনসিলার ব্যবহার করলে তা ত্বকের ভাঁজে ভাঁজে বসে লুকটাই নষ্ট করে দিতে পারে। তাই ডার্ক সার্কেল ঢাকতে ক্রিম কনসিলার ব্যবহার করা উচিৎ। অন্যদিকে মেকাপ নেয়ার পর মুখের অন্যান্য জায়গায় ইম্পারফেকশান কাভার করতে লিকুইড ফাউন্ডেশান ব্যবহার করা যেতে পারে।

২) কন সিলারের পারফেক্ট শেইড কিভাবে পছন্দ করবো ?

উঃ কন সিলার শেইড পছন্দ করার প্রথম টিপস হল আপনার স্কিন টোনের সাথে একদম মিলে যায় এমন একটি ফাউন্ডেশান থেকে এক শেইড হালকা রঙের কনসিলার বেছে নেয়া। তবে এটি অনেকের ক্ষেত্রেই কাজ করে না। ফর্সা ত্বকের ডার্ক সার্কেল কাভার করতে ইয়েলো বেইজড কনসিলার ব্যবহার করা উচিৎ। শ্যামলা এবং ডার্ক টোনের ত্বকের জন্য পিঙ্ক বা অরেঞ্জ বেইজড কনসিলার বেছে নেয়া উচিৎ।

বাংলাদেশের মেয়েদের ত্বকে ডার্ক সার্কেল কাভার করতে অনেক সময়ই উপরের টিপস গুলি খাটে না। এক্ষেত্রে কনসিলার ব্যবহারের আগে পিঙ্ক কারেক্টর বা পিঙ্ক কনসিলার ব্যবহার করা উচিৎ এবং তারপর ত্বকের রঙের সাথে মিলিয়ে কিংবা ত্বকের রঙ থেকে এক শেইড হালকা রঙের কনসিলার ব্যবহার করে ডার্ক সার্কেলকে একদম ন্যাচারালি কাভার করা সম্ভব।

অনেক সময় চোখের চারপাশটা ব্রাইট করতে এমন কনসিলার ব্যবহার করা হয় যা আলোকে প্রতিফলিত করতে পারে। এইজন্য বেশির ভাগ মেকাপ আর্টিস্টের মেকাপ কিট ছাড়া পূর্ণ হয় না। তবে এই ধরণের কনসিলার ব্যবহারের আগে অবশ্যই আগে স্কিন টোনের সাথে মিলিয়ে একটি ক্রিম কন সিলার হালকা করে ব্যবহার করে তারপর লুমিনাইজিং কনসিলার ব্যবহার করা উচিৎ।

৩) কনসিলার কি ফাউন্ডেশান ব্যবহারের আগে ব্যবহার করবো ?

উঃ বেশিরভাগ মেকাপ আর্টিস্ট ফাউন্ডেশান ব্যবহারের আগে কনসিলার ব্যবহার করা পছন্দ করেন। আবার অনেকে ফাউন্ডেশান দিয়ে বেইজ দেয়ার পর কনসিলার ব্যবহার করেন। ডার্ক সার্কেল এবং স্পট কাভার করতে চাইলে কনসিলার ফাউন্ডেশানের আগে অ্যাপ্লাই করা উচিৎ। আবার ত্বকে ব্রণ, গর্ত ইত্যাদি কাভার করতে হলে অনেক সময় কনসিলার ফাউন্ডেশানের পর ব্যবহার করা হয়। কনসিলার ফাউন্ডেশানের আগে ব্যবহার করলে কনসিলার লাগানোর পর কমপক্ষে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ফাউন্ডেশান লাগানো উচিৎ।

৪) কন সিলার কিভাবে অ্যাপ্লাই করবো ?

উঃ কোন কনসিলারই স্পঞ্জ ব্যবহার করে ব্লেন্ড করা উচিৎ নয়। স্পঞ্জ কখনোই কনসিলারকে সমানভাবে ব্লেন্ড করতে পারে না। কনসিলার লাগানোর সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হচ্ছে আঙ্গুল দিয়ে লাগানো। অল্প কনসিলার আঙ্গুলে বা কটন বাডে নিয়ে ফোঁটা ফোঁটা করে চোখের নিচে, ঠোঁটের কালচে অংশে এবং স্পটে লাগান। এরপর আঙ্গুল দিয়ে ভেতর থেকে বাইরের দিকে হরাইজন্টাল মোশনে ব্লেন্ড করুন। আঙ্গুল ব্যবহার না করে কনসিলার ব্যবহার করা যায়। তবে ব্রাশ ব্যবহার করলে খেয়াল রাখুন ত্বকের ভাঁজে ভাঁজে যেন কনসিলার জমে না থাকে। কনসিলার লাগানোর পর একটা কাবুকি ব্রাশ নিয়ে হালকা লুজ পাউডার ছিটিয়ে দেয়া উচিৎ। এতে কনসিলার অনেকটা সময় ধরে চোখের নিচে সেট থাকে।

About the author

Maya Expert Team