মনোসামাজিক মেকআপ টিপস সৌন্দর্য চর্চা

ফাউন্ডেশন মেকআপের ধরণ

ফাউন্ডেশন মেকআপের ধরণ
মেকআপের প্রথম ধাপ হচ্ছে ফাউন্ডেশন প্রয়োগ কেননা এটি মেকআপের ভিত্তি এবং পরবর্তী সজ্জার জন্য ফাউন্ডেশন মুখকে প্রস্তুত করে। ত্বককে সুস্থ ও উজ্জ্বল দেখাবে এমন মেকআপের জন্য ত্বক অনুসারে সঠিক ফাউন্ডেশন নির্বাচন করা উচিত। তবে সব ধরণের ফাউন্ডেশন ব্যবহারের পূর্বে সেগুলো সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা নিচে তুলে ধরা হলো।


১. লিকুইড বা পানিযুক্ত ফাউন্ডেশন
বাংলাদেশের কসমেটিকের দোকানে সবচেয়ে বেশি এ ধরণের ফাউন্ডেশন দেখা যায়। প্রয়োগে সহজ ও সহজলভ্যতার জন্য নারীরা লিকুইড ফাউন্ডেশনকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। এটির হালকা থেকে ভারী নানা ধরণ রয়েছে। সেই সাথে, এ ফাউন্ডেশন বিভিন্ন রং এবং প্রকৃতির, যেমন তেলভিওিক, হালকা অথবা পানিভিত্তিক হয়ে থাকে, যা বিভিন্ন ত্বকের জন্য উপযুক্ত।


২. ক্রীম ফাউন্ডেশন

সব দিকে বিস্তৃত নিখুঁত মেকআপের জন্য ক্রীম ফাউন্ডেশন সবচেয়ে ভালো। সমস্ত দাগ ও আলাদা আলাদা ত্বকের টোন গোপন করে ক্রীম ফাউন্ডেশন সারা মুখের সৌন্দর্য বর্ধিত করে। ঘন ও ক্রীমের মতো গঠনের কারণে এ ফাউন্ডেশন সবদিকে বিস্তৃত হয় এবং অন্যান্য ফাউন্ডেশন থেকে বেশি আর্দ্রতা প্রদান করে। স্বাভাবিক, স্বাভাবিক থেকে শুষ্ক এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রীম ফাউন্ডেশন উপযুক্ত। প্রাপ্ত বয়স্ক মুখের বলিরেখা ও সূক্ষ্ম রেখা লুকিয়ে রাখার জন্যও এটি কার্যকর। তবে তৈলাক্ত ও ব্রণ প্রবণ ত্বকের জন্য ক্রীম ফাউন্ডেশন মোটেও উপযুক্ত নয়।

৩. মুয ফাউন্ডেশন (Mousse Foundation)
মুয ফাউন্ডেশন সাধারণত হালকা ক্রীমের সাথে বাতাস মিশ্রিত থাকে। এটির ব্যাপ্তি কম এবং হালকা ও ঝকমকে দুই ধরণের সাজ দেয়। এটি ত্বকে একটি পাতলা স্তর সৃষ্টি করে যা ত্বককে প্রাকৃতিক চাদরে ঢেকে দেয়। এটি ত্বকে খুবই সুন্দরভাবে মিশে যায় এবং কোনো তেলচিটচিটে ভাব প্রদান করে না।

৪. মিনারেল ফাউন্ডেশন
হালকা বা ঘন পাউডার রূপে সাধারণত এ জাতীয় ফাউন্ডেশন পাওয়া যায়। তবে, বর্তমানে কিছু কিছু প্রসাধণী কোম্পানি লিকুইড (পানিযুক্ত) মিনারেল ফাউন্ডেশনও প্রস্তুত করছে। তবে এ জাতীয় ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে পাওয়া যায় না, বরং হালকা পাউডার বা গুঁড়োর রূপের ফাউন্ডেশনটি বেশি পাওয়া যায়। মিনারেল ফাউন্ডেশনে কিছু রাসায়নিক উপাদান থাকে এবং তা সংবেদনশীল ত্বকের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ হয়। একটি বড়, পশমযুক্ত কাবুকি ব্রাশ দিয়ে এ ফাউন্ডেশন লাগানো উচিত। এটির হালকা থেকে ভারী ব্যপ্তি থাকে। অধিকাংশ মিনারেল ফাউন্ডেশন রেশমী ফলাফল দেয়। তবে এ জাতীয় ফাউন্ডেশনের খারাপ দিক হচ্ছে অল্প সময়ের মধ্যে এটি গলতে শুরু করে।


৫. মিশ্রিত ময়েশ্চারাইজার
এটি মূলত ফাউন্ডেশন নয়, বরং এটি হচ্ছে একটি ময়েশ্চারাইজার যা ত্বককে কোমল ও মসৃণ করে তোলে এবং ত্বকে প্রাকৃতিক ফাউন্ডেশন রং প্রদান করে। এ ময়েশ্চারাইজার প্রয়োগের আগে আলাদা কোনো ময়েশ্চারাইজার প্রয়োগের প্রয়োজন নেই। এ কারণে মিশ্রিত ময়েশ্চারাইজার হচ্ছে একটি সহজ করার পদ্ধতি। দিনের বেলার সাজের জন্য এটি ভালো কারণ এটি লোমকূপকে বেশি বন্ধ করে রাখে না এবং যেকোন ফাউন্ডেশন দিতে পারে এমন সবচেয়ে প্রাকৃতিক লুক উপহার দেয়।

৬. ক্রীম পাউডার ফাউন্ডেশন
এ জাতীয় ফাউন্ডেশন এখন বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। এটি ক্রীমযুক্ত হয়। প্রয়োগের পর এটি ত্বকে শুকিয়ে পড়ে এবং পাউডার দেয়ার মতো প্রাকৃতিক চেহারা তৈরি করে পাউডার পাফ দিয়ে এ ফাউন্ডেশন লাগানো যায়। এটির সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে দীর্ঘক্ষণ ত্বকে থাকা। এ জাতীয় ফাউন্ডেশন অধিকাংশ সময়ে প্যাকেজিং এর মতো কমপ্যাক্ট পাউডার রূপে পাওয়া যায়। সব ধরণের ত্বকের জন্য এটি উপযোগী, তবে শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে এ ফাউন্ডেশন প্রয়োগের আগে তেল ভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার লাগানোর প্রয়োজন হতে পারে।

৭. স্টিক ফাউন্ডেশন
অধিকাংশ সময় স্টিক ফাউন্ডেশন ক্রীম অথবা কেক ফাউন্ডেশনের মতো প্রস্তুত হয়ে থাকে তবে এটির গঠন কঠিন হয় এবং লাঠির আকারে পাওয়া যায়। সর্বব্যাপী বিস্তৃত হওয়ায় অনেকেই এ ফাউন্ডেশনকে দাগ মোচনকারী হিসেবে ব্যবহার করেন। এটি খুব ঘন হয় এবং বিস্তৃতি খুব ভারী হয়। মুখে মিশিয়ে দেয়ার জন্য ভালো স্পঞ্জ প্রয়োজন হয়। দিনের বেলার সাজের জন্য এটি উপযুক্ত নয় কেননা এটি ত্বককে সহজে চিটচিটে করে দিতে পারে। রাতের বেলার ভারী সাজের জন্য মেকআপ স্টিক ফাউন্ডেশন দিয়ে শুরু করতে পারেন।

৮. ওয়াটার ফাউন্ডেশন অথবা প্যানকেক
বাংলাদেশের বেশির ভাগ বিউটি পার্লারে প্রাথমিক মেকআপে প্যানকেক ব্যবহার করা হয়। প্যানকেক হচ্ছে ঘন, সর্বব্যাপী বিস্তৃত একটি ফাউন্ডেশন। সব ধরণের দাগ, আলাদা আলাদা ত্বকের রং, ত্বকের সমস্যা সবকিছু এটি গোপন করে দিতে পারে। বেশির ভাগ সময় প্যানকেক ত্বকের স্বাভাবিক বর্ণকে পরিবর্তিত করে দেয়। পানি দ্বারা এ ফাউন্ডেশনকে সক্রিয় করে তুলতে হয়। মিশ্রিত পানির পরিমাণের উপর সাজের স্থায়িত্ব নির্ভর করে। ত্বকে প্রয়োগের পর এটি শুকিয়ে যায়। দিনের বেলার সাজের জন্য এটি উপযুক্ত নয়, কেননা প্রধানত রাতের বেলার ভারী মেকআপ, চলচ্চিত্র, টেলিভিশন কিংবা ছবি তোলা প্রভৃতি ক্ষেত্রে ত্বককে সম্পূর্ণ নিখুঁত করে তোলার জন্য প্যানকেক ব্যবহার করা হয়।

৯. শিয়ার ফাউন্ডেশন
রেশমি, স্পষ্ট ও শিশিরস্নাত ত্বক পেতে শিয়ার ফাউন্ডেশন বেছে নিন। শিশিরময় প্রাকৃতিক আবরণের জন্য এ জাতীয় ফাউন্ডেশন বিখ্যাত। এটি সিলিকন সমৃদ্ধ যার কারণে অন্যান্য ভারী ফাউন্ডেশনের তুলনায় এটি ত্বককে খুব মসৃণ করে দেয়। মিশ্র, স্বাভাবিক ও শুষ্ক ত্বকের জন্য এটি উপযোগী। এটি ত্বককে শুষ্ক করে তোলে না এবং সাধারণত লিকুইড ফাউন্ডেশনের মতো গঠন হয়।

১০. পাউডার ফাউন্ডেশন
নিখুঁত হালকা বা ম্যাট এবং সম্পূর্ণ তেলমুক্ত সাজ পেতে পাউডার ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন। এটির প্যাকেট সাধারণ কমপ্যাক্ট পাউডারের মতো হয়, সাধারণ পাউডার থেকে ব্যাপ্তি একটু বেশি হয় এবং দীর্ঘক্ষণ ত্বকে থাকে। হালকা ব্যাপ্তির জন্য পাউডার পাফ এবং হালকা প্রাকৃতিক ম্যাট লুক পেতে পশমযুক্ত ব্রাশ ব্যবহার করুন।

About the author

Maya Expert Team