মনোসামাজিক মেকআপ টিপস সৌন্দর্য চর্চা

পূজার সাজে অনন্যা

পূজার সাজে অনন্যা
আশ্বিনের মাঝামাঝি উঠিল বাজনা বাজি,
পূজার সময় এল কাছে।

শুরু হয়ে গেছে বহু প্রতীক্ষিত দুর্গা পূজার মহা আয়োজন। নানা রঙে নানা ঢঙে সাজানো হচ্ছে মন্ডপ। ঢাকের তালে তালে দশমী পর্যন্ত চলবে পূজার আনন্দ – উৎসব। আপনিও নিশ্চয়ই চাইবেন এই পূজায় শারদীয় সাজে নিজেকে আলাদাভাবে ফুটিয়ে তুলতে। আপনার কথা ভেবেই মায়া’র এক্সপার্ট আপনার জন্য এনেছে পূজার এক্সক্লুসিভ কিছু লুকের আইডিয়া।


সাজের আগেই হয়ে যাক ত্বক এবং চুলের যত্ন
আপনার ত্বক যেমনই হোক না কেন – তৈলাক্ত, শুষ্ক কি মিশ্র, পূজার সাজের আগে চাই একটু ত্বকের যত্ন। ত্বকের ধরণ অনুযায়ী লাগান ফেস প্যাক। ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের উপযোগী টোনার লাগিয়ে একটা ময়েশ্চারাইজার দিয়ে চটজলদি শেষ করে ফেলুন ত্বকের যত্নের পালা।

সাজের আগে চুলের যত্ন নেয়ার বেশি সময় পাওয়া যায় না। যদি হাতে সময় থাকে তাহলে প্রথমে পুরো চুলে ম্যাসাজ করে করে তেল লাগান। এরপর মেথি এবং টক দই মিশিয়ে ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুলকে বাউন্সি এবং প্রাঞ্জল রাখতে শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার লাগাতে ভুলবেন না।

আর পূজার আগের কোন দিনে সেরে ফেলুন ম্যানিকিউর, পেডিকিউর এবং ফেসিয়াল।


দিনের লুক
পূজার সাজে দিন রাত দুটো লুকেই নেয়া যায় ভারী সাজ। তবে খেয়াল রাখুন মেকাপ যেন আলাদা ভাবে চেহারায় ফুটে না ওঠে। ময়েশ্চারাইজার লাগানোর পর প্যানস্টিক বা অয়েল ফ্রি কোন ফাউন্ডেশান নিয়ে একটি নরম স্পঞ্জ দিয়ে ব্লেন্ড করে পুরো মুখে একটি লাইট কভারেজ দিন। তার উপর হালকা করে ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার লাগিয়ে নিন।

পূজার সাজে লাল, মেরুন কিংবা বারগেন্ডি লিপস্টিকে রাঙিয়ে তুলুন আপনার ঠোঁট। চোখের সাজটা রাখতে পারেন একটু সিম্পল। অফ হোয়াইট হাই লাইটস, বাদামি কিংবা লাইট শিমারি আই শ্যাডো লাগান। চোখের উপরের এবং নিচের ল্যাশ লাইন কোন কালো বা ডার্ক ব্রাউন পেন্সিল দিয়ে এঁকে নিন। লাইনিং দেয়ার পর একটা আই শ্যাডো ব্রাশ দিয়ে আইলাইনিং -এর চারপাশটা সামান্য স্মাজ করে দিতে পারেন। দিনের সাজের জন্য লাগাতে পারেন ব্রাউন ব্লাশ। ছোট চুল হলে ব্লো ডাই বা স্ট্রেইট করে খুলে রাখুন। বড় চুলে খোপা বা বেণী করে ফুল দিতে পারেন।

রাতের সাজ
রাতের সাজটা হওয়া চাই জমকালো। এখন চলছে ওয়েট লুকের চল। দিনের সাজ ক্লিনজার দিয়ে পরিষ্কার করে রাতের সাজের জন্য প্রস্তুত হন। ত্বকের উপযোগী ফাউন্ডেশান দিয়ে লাইট বা মিডিয়াম কভারেজে ফাউন্ডেশান ব্লেন্ড করুন। কম্প্যাক্ট পাউডার লাগিয়ে ফাউন্ডেশান সেট করুন। ডিউয়ি বা ওয়েট লুক আনতে বেইজ দেয়ার পর ম্যাক – এর ফিক্স প্লাস স্প্রে নামক স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন। এটি ত্বকে ভেজা বা ওয়েট লুক ফুটিয়ে তুলে। গালে লাগান ক্রিম ব্লাশ। শাড়ির রঙের সাথে মিলিয়ে লাগাতে পারেন আই শ্যাডো অথবা কপার, ব্রোঞ্জ বা গোল্ডেন আই শ্যাডো লাগিয়েও ফুটিয়ে তুলতে পারেন চোখদুটি। টানা টানা চোখের লুক আনতে করতে পারেন ইনটেন্স আইলাইনিং। আপনার লাইনের ব্রাশকে সামান্য পানিতে ভিজিয়ে পানি সম্পূর্ণ মুছে ভেজা অবস্থায় লিকুইড লাইনার দিয়ে চোখ এঁকে নিতে পারেন। চোখের নিচে গাড় করে কাজল দিন। ঠোঁটে লাগান হালকা বাদামি বা পিঙ্ক লিপস্টিক। লিপস্টিকের উপর হালকা করে লিপ গ্লস বুলিয়ে নিন।

রাতের সাজেও দিনের সাজের মতই চুল সেট করতে পারেন। অথবা আরো গর্জিয়াস লুক আনতে চুলে করতে পারেন রিং কার্ল। বাজারে চুল কার্ল করার রিং এবং মুজ পাওয়া যায়। চুলকে ছোট ছোট পার্টে পার্টে ভাগ করে নিন। চুলের দৈর্ঘ্যে মুজ লাগিয়ে নিয়ে রিং – এ চুল পেঁচিয়ে নিন ক্লিপ দিয়ে মাথার উপরের দিকে আটকে দিন। এভাবে পুরো চুলে করে এক ঘণ্টা বসে থাকুন। তারপর রিং গুলি খুলে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করুন। এতে কার্ল অনেকক্ষণ সেট থাকে।

আর দুবেলার সাজে শেষে মাশকারা লাগাতে ভুলবেন না।


টুকিটাকি
পোশাকের সাথে মিল রেখে পরুন বড় আকারের টিপ। হাতে-পায়ে করতে পারেন আলতার নকশা। হাত ভরে পরুন কাঁচের চুড়ি। পূজার সাজে শাড়ির সাথে ব্লাউজটা পরতে পারেন বাহারি। লম্বা হাতার, কুচি দেওয়া ব্লাউজ বা ঘটি হাতার ব্লাউজ পরতে পারেন। সাজের সাথে গয়নাও হওয়া চাই বাহারি। কপার কালারের গোল্ড বা অ্যান্টিক ধাঁচের গয়না পরতে পারেন।

সাথে রাখুন মিডিয়াম কিংবা বড় সাইজের ব্যাগ যেন বাইরে বের হবার পর সব প্রয়োজনীয় জিনিস আপনার সাথেই থাকে। সাথে রাখুন রুমাল, চিরুনি, কম্প্যাক্ট পাউডার, লিপস্টিক এবং কাজল। রাখুন কিছু মিন্ট চুইং গাম এবং এক বোতল পানি। তাছাড়া যেকোনো সময়ই নামতে পারে বৃষ্টি, তাই অবশ্যই সাথে ছাতা রাখতে ভুলবেন না।

About the author

Maya Expert Team