মনোসামাজিক মেকআপ টিপস সৌন্দর্য চর্চা

আপনার ত্বকের সঠিক রঙটি জেনে নিন

আপনার ত্বকের সঠিক রঙটি জেনে নিন

আন্ডারটোন কী?
বহিঃত্বকের (এপিডামির্স) নীচে যে ত্বক থাকে তার রঙ কে ত্বকের আন্ডারটোন বলা হয়। আন্ডারটোন  হচ্ছে এমন একটি বর্ণ বা গঠন যা রোদের মতো প্রাকৃতিক আলো দ্বারা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। ত্বকের টোন (বর্ণ) ও আন্ডারটোন একই বিষয় নয়। ত্বকের বাইরের অংশের টোন হচ্ছে সেই বর্ণ যা বহিঃত্বকে দেখা যায়। ঐ বাইরের অংশের নিম্নবর্তী অংশের বর্ণ হচ্ছে ত্বকের আন্ডারটোন। ত্বকের বাইরের অংশের টোন বা বর্ণ খুব সহজেই পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু আন্ডারটোন কখনোই পরিবর্তিত হয় না বরং স্থির থাকে। আপনার ফাউন্ডেশনকে প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক লাগার জন্য সঠিক টোন টি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।


ত্বকের আন্ডারটোন জানা কেন প্রয়োজন?
মার্কেটে প্রাপ্ত ফাউন্ডেশনগুলো সাধারণত কুল (শীতল), ওয়ার্ম (উষ্ণ), নিউট্রাল (নিরপেক্ষ) এবং অলিভ আন্ডারটোন এর হয়ে থাকে। একই আভাযুক্ত ফাউন্ডেশন হওয়া সত্ত্বেও কখনো কখনো একটি ফাউন্ডেশন ব্যবহারের পর প্রভাময় ও উজ্জ্বল মনে হতে পারে এবং অপরটিকে নিষ্প্রভ ও বিবর্ণ দেখায়। দুইটি ভিন্নধর্মী আন্ডারটোনের জন্য ফাউন্ডেশনগুলি প্রস্তুত হওয়ায় একই আভাযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও এ পার্থক্যটি হয়ে থাকে। ফাউন্ডেশন ব্যবহার করে ত্বকের সাজ নিখুঁত করে তুলতে আপনার ত্বকের আন্ডারটোন তাই জেনে নেয়া উচিত।

উপরন্তু, সঠিক আন্ডারটোন জানার মাধ্যমে ত্বকের জন্য কোন রঙ টি উপযুক্ত তাও বেছে নিতে পারবেন।


আন্ডারটোনের ধরণ

১) কুল বা শীতল
আন্ডারটোন কুল হয়ে থাকলে ত্বকে গোলাপী, লাল অথবা নীলাভ আভা থাকতে পারে। রোদে এ ধরণের ত্বক তামাটে হওয়ার পরিবর্তে খুব সহজেই পুড়ে যায়। যদি বহিঃত্বকের বর্ণ উজ্জ্বল থেকে কিছুটা উজ্জ্বল এমন হয়ে থাকে তাহলে ত্বকে গোলাপীর মত আভা থাকতে পারে। যদি ত্বক সামান্য উজ্জ্বল থেকে কালো হয়ে থাকে, তাহলে নীলাভ আভা ত্বকে থাকতে পারে।

২) ওয়ার্ম বা উষ্ণ
ওয়ার্ম আন্ডারটোনের অধিকারী হলে ত্বকের আন্ডারটোন হবে হলুদাভ। এ ধরণের ত্বক রোদে পুড়ে যাওয়ার পরিবর্তে সহজে তামাটে হয়ে পড়ে।

৩) নিউট্রাল বা নিরপেক্ষ
নিউট্রাল আন্ডারটোন হচ্ছে কুল ও ওয়ার্ম আন্ডারটোনের সংমিশ্রণে তৈরি আন্ডারটোন। এ ধরণের ত্বকের টোন যাদের আছে তারা একের অধিক আভাযুক্ত যেকোন ধরণের ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। এ ধরণের ত্বকের সক্রিয় আন্ডারটোন বুঝতে পারা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। নিউট্রাল আন্ডারটোনধারীরা কুল অথবা ওয়ার্ম উভয় ধরণের আভা ব্যবহার করতে পারেন।

৪) অলিভ
অনেকেই এ প্রকৃতির আন্ডারটোনকে ভিন্ন প্রকৃতির আন্ডারটোন হিসেবে মনে করেন না বরং একে নিউট্রাল হিসেবে ধরে নেন। অলিভ আন্ডারটোন সম্পর্কে মানুষের মনে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। ত্বকের বর্ণ কতটুকু কালো বা উজ্জ্বল তার কোনো পরিমাপক অলিভ নয়। অলিভ আন্ডারটোন অধিকারী মহিলারা সাধারণত ভূমধ্যসাগরীয় অথবা মধ্যপ্রাচীয় বৈশিষ্ট্যের ধারক হয়ে থাকেন। ওলিভ ত্বকে সবুজ আভা থাকে। ওলিভ আন্ডারটোন সনাক্ত করা একটু কষ্টকর হয়ে থাকে।

আন্ডারটোন সনাক্তকরণ
আন্ডারটোন সনাক্ত করার কোনো নির্দিষ্ট পন্থা নেই। কারো আন্ডারটোন বুঝার জন্য কয়েকটি পরীক্ষা প্রচলিত আছে। কয়েকটি পরীক্ষার কথা এখানে আলোচনা করা হলো।

১. শিরা পরীক্ষা
ত্বকের আন্ডারটোন নির্ণয়ের পরীক্ষাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে রোদের মধ্যে কনুই হতে কব্জি পর্যন্ত অংশের নিম্নভাগে উপস্থিত শিরা নিরীক্ষা, যদিও সবার ক্ষেত্রে এ পরীক্ষা প্রযোজ্য নয়। রোদে শিরা নীল দেখালে। আন্ডারটোন কুল ধরা হয়ে থাকে। যদি শিরা সবুজ অথবা হলুদ দেখায়, তাহলে সেটি হয় ওয়ার্ম আন্ডারটোন। যদি শিরার রং বুঝা না যায় তাহলে তা নিউট্রাল আন্ডারটোন হবে। এবং যদি শিরায় নীল ও সবুজের সংমিশ্রণ দেখায় তাহলে ওলিভ আন্ডারটোন হিসেবে ধরে নেয়া হবে।

২. চুল ও ত্বকের রঙ পরীক্ষা
কুল বা শীতল আন্ডারটোনধারীদের চোখ নীল, সবুজ অথবা ধূসর এবং চুল স্বর্ণকেশী, বাদামি কিংবা কালো হয়ে থাকে। অপরপক্ষে, ওয়ার্ম বা উষ্ণ আন্ডারটোনের ক্ষেত্রে চোখ বাদামি অথবা কালো এবং চুল লাল, স্বর্ণকেশী, বাদামি এবং কালো হয়।

৩. সাদা অথবা ধূসর এবং বাদামি অথবা কালো কাপড় পরীক্ষা
উপরোক্ত যেকোন রংয়ের একটি কাপড়ের টুকরা নিন। যদি সাদা এবং কালোয় আপনাকে ভালো দেখায়, তাহলে আপনার আন্ডারটোন হচ্ছে কুল, এবং যদি বাদামি অথবা ধূসর কাপড়ে ভালো দেখায়, সেক্ষেত্রে আন্ডারটোন হচ্ছে ওয়ার্ম।

৪. অলংকার পরীক্ষা
যদি রূপা, সাদা স্বর্ণ এবং প্লাটিনামের অলংকারে আপনাকে ভালো মানায় তাহলে আপনার আন্ডারটোন হবে শীতল অর্থাৎ কুল। কিন্তু, তামা অথবা হলুদ স্বর্ণতে আপনাকে ভালো দেখালে আন্ডারটোন ওয়ার্ম হতে পারে। যদি উভয় ধরণের অলংকারেই আপনাকে অধিক অথবা কিছুটা সৌন্দর্যময় করে তোলে, তাহলে আপনার আন্ডারটোন নিউট্রাল অথবা অলিভ হবে।


ফাউন্ডেশন নির্বাচন
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফাউন্ডেশনের মোড়কে ত্বকের টোনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট আন্ডারটোন উল্লেখ করা থাকে। ত্বকের টোন কুল হলে গোলাপী ভিওিক ফাউন্ডেশন বেছে নিন।  আন্ডারটোন ওয়ার্ম হলে পীচ অথবা হলুদ বর্ণ ভিওিক ফাউন্ডেশন বেছে নিতে পারেন। নিউট্রাল আন্ডারটোনধারীরা কুল অথবা ওয়ার্ম কিংবা ঐ ধরণের ত্বকের জন্য প্রস্তুতকৃত ফাউন্ডেশন নির্বাচন করতে পারেন। নিউট্রাল আভা কখনো কখনো ওলিভ টোনের সাথেও মানায়। তবে ওলিভ আন্ডারটোনের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত ওলিভ, স্বর্ণালি, ধূসর অথবা স্বর্ণালি ধূসর বর্ণের ফাউন্ডেশন পাওয়া যায়।

এমএসি ফাউন্ডেশনের নীতিমালায়, “এন সি” ও “এন ডব্লিউ”- এ দু’ ধরণের কালার কোড ব্যবহার করা হয়।

“এন সি” এর অর্থ হচ্ছে “নিউট্রাল কুল”, যার সাথে হলুদ, সোনালি অথবা ওলিভ টোন সম্পৃক্ত।

“এন ডব্লিউ”এর অর্থ হচ্ছে “নিউট্রাল ওয়ার্ম”, যার সাথে গোলাপি অথবা লাল টোন জড়িত।

আন্ডারটোন সম্পর্কে এখানে বিবৃত আলোচনা থেকে এমএসি ফাউন্ডেশনের সংজ্ঞা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এমএসি গোলাপী বর্ণকে “ওয়ার্ম” ও হলুদকে “কুল” বলে অভিহিত করে থাকে।

About the author

Maya Expert Team