ট্রমা পরবর্তী সমস্যাজনিত লক্ষণ মনোসামাজিক মানসিক স্বাস্থ্য

দুর্ঘটনা পরবর্তী মানসিক চাপ জনিত সমস্যার চিকিৎসা পদ্ধতি

দুর্ঘটনা পরবর্তী মানসিক চাপ জনিত সমস্যার চিকিৎসা পদ্ধতি

PTSD একটি অত্যন্ত নিরাময়যোগ্য রোগ এবং অধিকাংশ লোকের ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে উপযুক্ত চিকিৎসায় অসাধারণ সাফল্য এবং সম্পূর্ণ সুস্থতা লক্ষ্য করা গেছে। চিকিৎসা পরিকল্পনায় সাইকোথেরাপি ও ঔষধ প্রয়োগ অন্তর্ভুক্ত থাকে। সাধারণত প্রথমে সাইকোথেরাপির পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে লক্ষণগুলো যদি গুরুতর হয় সেক্ষেত্রে উভয় ধরণের চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। উপসর্গগুলোর তীব্রতার প্রাথমিক মূল্যায়নের পরে কোন চিকিৎসা পদ্ধতিটি রোগীর জন্য বিশেষভাবে উপযুক্ত তা নিশ্চিত করার জন্য PTSD-এর রোগীকে একজন মনোবিজ্ঞানী বা মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ দেওয়া হয়।

নিম্নলিখিত কয়েকটি পদ্ধতি PTSDএর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ঃ

১)সতর্কতার সাথে অপেক্ষা করাঃ

যদি আক্রান্ত ব্যক্তির হালকা উপসর্গ থাকে বা লক্ষণগুলো ৪ সপ্তাহের কম স্থায়ী হয় সেক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করা হয়। এতে কয়েক সপ্তাহ ধরে লক্ষণগুলো সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করা এটা দেখার জন্য যে লক্ষণগুলোর উন্নতি হয় নাকি আরও অবনতি ঘটে। এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করার কারণ হল হালকা উপসর্গযুক্ত অনেক ব্যক্তি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কোন চিকিৎসা ছাড়াই ভালো হয়ে যায়।

২)সাইকোথেরাপিঃ

একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ রোগীর যা কিছু বলার আছে সবটুকু শোনেন এবং কৌশলে সমস্যার সমাধানে সাহায্য করে থাকেন।

দুই ধরণের সাইকোথেরাপি ব্যবহৃত হয়ঃ

  • কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি (Cognitive Behavioral Therapy-CBT)-

এক্ষেত্রে ব্যক্তির চিন্তা করার ও কাজ করার ধরণ পরিবর্তনে সাহায্য করা হয় যাতে করে সে দুর্ঘটনার সাথে ভালভাবে মানিয়ে নিতে পারে। সাধারণত প্রতিটি সেশন ৯০ মিনিট করে হয় যা ৮-১২ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে থাকে।

  • চোখের নড়াচড়ার ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতার অভাব ও পুনঃ প্রক্রিয়াকরণ (Eye Movement Desensitization and reprocessing – EMDR)-

এই পদ্ধতিতে পীড়াদায়ক ঘটনাটি স্মরণ করার সময় রোগীর অক্ষিগোলককে একপাশ থেকে অন্য পাশে নড়াচড়া করানো হয়। এটি সাধারনত থেরাপিস্টের হাতের আঙ্গুলের নড়াচড়া অনুসরনের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। বলা হয়ে থাকে এটি হিপ্পোক্যাম্পাসের (hippocampus)-এর জন্য ঘটনা সংক্রান্ত ফ্ল্যাশব্যাক ও স্মৃতিসমূহকে আরও ভালভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে সাহায্য করে।

৩)ঔষধ প্রয়োগঃ

কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট (antidepressant) যেমন- paroxetine, mirtazapine, amitriptyline বা pheneizine, কখনো কখনো PTSD আছে এমন প্রাপ্তবয়স্কদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

অবশ্য, এই ঔষধগুলো শুধুমাত্র তখনই ব্যবহার করা হবে যদিঃ

-কোন ব্যক্তি দুর্ঘটনা-কেন্দ্রীক মানসিক চিকিৎসা নিতে না চায়।

-আরও দুর্ঘটনা ঘটার হুমকি থাকার কারনে মনস্তাত্বিক চিকিৎসা কার্যকর না হলে। যেমন- পারিবারিক নির্যাতন।

-দুর্ঘটনা-কেন্দ্রীক মানসিক চিকিৎসার কোর্স থেকে সামান্য বা কোনই উপকার না পাওয়া গেলে।

-চিকিৎসা বিষয়ক অন্তর্নিহিত সমস্যা, যেমন-তীব্র বিষণ্ণতা, যা আপনার মানসিক চিকিৎসা থেকে উপকৃত হওয়ার ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে।

যদি ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে PTSD-এর চিকিৎসা কার্যকর হয় তাহলে একে সাধারণত কমপক্ষে ১২ মাসের জন্য অব্যাহত রাখা হয় এবং এটি বন্ধ করার আগে ধীরে ধীরে চার সপ্তাহ বা তার বেশী সময় ধরে ওষুধের মাত্রা কমিয়ে দেয়া হয়।

শিশু ও তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ঔষধের সাহায্যে চিকিৎসা করাটা বাঞ্ছনীয় নয়। এই বয়সীদের চিকিৎসার প্রধান অবলম্বন হচ্ছে দুর্ঘটনা-কেন্দ্রীক Cognitive Behavioral Therapy-CBT।

About the author

Maya Expert Team