ট্রমা পরবর্তী সমস্যাজনিত লক্ষণ মনোসামাজিক মানসিক স্বাস্থ্য

দুর্ঘটনা পরবর্তী মানসিক চাপ জনিত সমস্যার লক্ষণসমূহ

দুর্ঘটনা পরবর্তী মানসিক চাপ জনিত সমস্যার লক্ষণসমূহ

PTSD এর লক্ষণগুলো ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবন ও কার্যাবলীকে ব্যাহত করতে পারে। এই লক্ষণগুলো সাধারণত মানসিকভাবে আঘাত প্রাপ্ত হওয়ার একমাসের মধ্যে দেখা দেয় অথবা লক্ষণগুলো দেখা দিতে কয়েক মাস বা বছরও লাগতে পারে। কোন কোন ব্যক্তি কিছু নির্দিষ্ট সময়ে এই ধরণের উপসর্গে ভুগতে পারেন বা তাদের খারাপ লাগে আর বাকি অন্যান্য সময়ে তারা বেশ ভালো বোধ করেন। কেউ কেউ আছেন যারা সবসময়ই সমস্যাগুলো অনুভব করেন। ব্যক্তিভেদে উপসর্গগুলোর ব্যাপক তারতম্য ঘটে, তবে এই লক্ষণগুলোকে সাধারণত নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে শ্রেণীকরণ করা যেতে পারেঃ

১.বারবার অনুভব করা:

PTSD-এর ভুক্তভোগীদের মধ্যে এটি সবচেয়ে সাধারন উপসর্গ। এটি হচ্ছে স্মৃতিচারণা, দুঃস্বপ্ন বা পীড়াদায়ক ছবি বা অনুভূতির মাধ্যমে অনিচ্ছাকৃত ও স্পষ্টভাবে মানসিক আঘাত পাওয়ার ঘটনাটির অনুভূতি পুনরায় লাভ করা। “পুনরায় অনুভব করা”-র বিষয়টি দুর্ঘটনার সাথে সম্পর্কযুক্ত নির্দিষ্ট কিছু জিনিস দ্বারা আলোড়িত হতে পারে, যেমন-ধর্ষনের ঘটনার ক্ষেত্রে, ধর্ষনকারীর ব্যবহৃত সুগন্ধি দ্রব্যের গন্ধ, ধর্ষণ সংক্রান্ত কৌতুক, টিভিতে যৌন নির্যাতনের দৃশ্য ইত্যাদি। এর ফলে ঘটনাটি কেন ঘটলো তা ভেবে ভুক্তভোগী আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং এটি প্রতিরোধের জন্য তাদের কিছু করার ছিলো কিনা তা ভেবেও অপরাধবোধ ও গ্লানি অনুভব করেন। কারো কারো শারীরিক উপসর্গও দেখা দেয়, যেমন- ব্যথা, ঘাম ঝরা, কাঁপা ইত্যাদি।

২.আতঙ্কের আক্রমণঃ

একে তীব্র ভীতির আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় যেখানে ব্যক্তি ঝরঝর করে কেঁদে ফেলে, ঠকঠক করে কাঁপে, বমি বমি ভাব হয়, ঘাম ঝরে বা বুকে ব্যথা অনুভব করে। পুনরায় অভিজ্ঞতা হওয়া ও আতঙ্কের আক্রমণ প্রায়ই একইসাথে ঘটে।

৩.এড়িয়ে চলা ও আবেগশূণ্যতাঃ

PTSD তে ভোগা ব্যক্তিদের মধ্যে এই লক্ষণটি খুব সাধারণ। এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি সেইসব বিষয়কে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন যা তাকে পুরনো ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়। ঘটনার সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তি, স্থান বা কথোপকথনকে এড়িয়ে চলাটা খুব সাধারণ। PTSD এর ভুক্তভোগীরা প্রায়ই কোনো কিছুই মনে না করার চেষ্টা করেন। আবেগশুণ্যতা তাকে সবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখে অথবা আগে যে কাজগুলো তাকে আনন্দ দিত সেগুলোকে সে করা বন্ধ করে দেয়।

৪.অতি-উত্তেজনাঃ

যারা PTSDতে ভুগছেন তাদের প্রায়ই দুশ্চিন্তাযুক্ত অবস্থায় দেখা যায়, তাদের জন্য শান্ত থাকাটা কঠিন হয়ে পড়ে বা নিয়মিত বিনিদ্র অবস্থায় পাওয়া যায়। সহজেই চমকে ওঠা, সবসময় চাপ অনুভব করা, নিয়মিত মাথাব্যথা করা, অনিদ্রা, বিরক্তি, হঠাৎ কেঁদে ওঠা, হঠাৎ রাগে ফেটে পড়া ইত্যাদির মাধ্যমে একে চিহ্নিত করা যায়। অতি উত্তেজনার এরকম অবস্থায় থাকাটা একজন ব্যক্তির দৈনন্দিন কার্যাবলীর পাশাপাশি অন্যদের সাথে তার সম্পর্কের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।

৫.অন্যান্যঃ

PTSD তে ভুগছেন এমন ব্যক্তিরা আরও যেসব সমস্যায় সম্মুখীন হতে পারেনঃ

  • হতাশা,উদ্বেগ,অযৌক্তিক ভীতি
  • মাদক বা মদের অপব্যবহার

৬. শিশুদের ক্ষেত্রে উপসর্গসমূহঃ

প্রাপ্তবয়স্কদের মতো শিশুরাও PTSD তে ভুগতে পারে। অধিকাংশ উপসর্গ শিশু ও বড়দের মধ্যে একই রকম দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে অনিদ্রা, এলোমেলো দুঃস্বপ্ন, পূর্বে যে কাজ ভাল লাগত তাতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা। মাথাব্যথা, পেটব্যথার মতো শারীরিক লক্ষণও খুব সাধারণ।

অবশ্য, নিম্নলিখিত কিছু উপসর্গ রয়েছে যা শিশুদের জন্য নির্দিষ্টঃ

  • বিছানা ভিজানো
  • বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা হয়ে পড়ার অস্বাভাবিক উদ্বেগ বা ভীতি
  • তাদের খেলার মধ্যে বার বার দুর্ঘটনাটির পুনরাবৃত্তি করা।

About the author

Maya Expert Team