উদ্বেগ মনোসামাজিক মানসিক স্বাস্থ্য

প্যানিক অ্যাটাক ও প্যানিক ডিজঅর্ডার

Written by Maya Expert Team

প্যানিক অ্যাটাক ও প্যানিক ডিজঅর্ডার

কখনো কী আপনি এতোই নার্ভাস বা স্নায়ুবিক চাপে থাকেন যে মনে হয় “নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলবেন”, “হার্ট অ্যাটাক হবে” অথবা “ পাগল হয়ে যাবেন”? যদি এরকম অনুভব করে থাকেন তাহলে আপনি প্যানিক অ্যাটাক এ আক্রান্ত বা ‘হঠাৎ তীব্র ভয়’-এ ভীত হয়েছিলেন।

যদি আপনি প্রায়ই এরকম অনুভব করে থাকেন এবং সে সময়ে আপনি এতোই ভয় পেয়ে থাকেন যে, এরকম অনুভুতি সৃষ্টিকারী পরিস্থিতি, যেমন উপস্থাপনা, মানুষের সামনে বক্তৃতা, সংগীত বা খেলাধূলায় নৈপুণ্য প্রদর্শন প্রভৃতিতে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন, তাহলে আপনি প্যানিক ডিজঅর্ডার নামক মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।


প্যানিক অ্যাটাকে আক্রান্ত হলে কী হয়?
প্রথম ধাপে আপনি হঠাৎ করে অনেক ভয় পাবেন বা অস্বস্তিবোধ করবেন। ভয় পাওয়ার সাথে সাথে হৃৎপিন্ডের গতি বেড়ে যাবে, ঘামতে শুরু করবেন, শরীর কাঁপতে শুরু করবে, শ্বাসকষ্ট এমনকী শ্বাসরোধও অনুভব করতে পারেন। কেউ কেউ ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা, বমি বমি ভাব, শরীর অসাড় হয়ে পড়া, প্রচন্ড গরমের ঝাপটা অথবা ঠান্ডা শিরশিরে অনুভূতি পেয়ে থাকনে। চরম পর্যায়ে কেউ কেউ অনুভব করেন যে তারা তাদের পরিবেশ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন, তাদের মনে হয় যেন পুরো পরিবেশটাই অবাস্তব। কেউ কেউ বলে থাকেন যে তাদের মনে হয় তারা মারা যাচ্ছেন অথবা পাগল হয়ে যাচ্ছেন। এমন সময়ে বড় বাদামি পেপারের ব্যাগ বা থলেতে মুখ লাগিয়ে ক্রমাগত শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে থাকুন। এতে সাধারণত অধিক মাত্রায় বায়ু চলাচল (hyperventilation) নিয়ন্ত্রিত হয়।

প্যানিক ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত কী না তা কীভাবে বুঝবো?
বারবার অপ্রত্যাশিতভাবে প্যানিক অ্যাটাক হওয়া প্যানিক ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। আরো গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হচ্ছে যে এজাতীয় অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে থাকা এবং এ ভয়টি আপনাকে এতোই অসাড় করে দেয় যে, প্যানিক অ্যাটাকে আক্রান্ত হতে পারেন এমন কার্যক্রমে অংশ নেওয়া থেকে আপনি বিরত থাকেন। প্যানিক অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার ফলে খুবই খারাপ কিছু হবে আপনি এ ভয়েও ভীত থাকেন।

প্যানিক ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত হলে কী কী হতে পারে?
প্যানিক ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত হলে তা আপনার জীবনমান এর ক্ষতি সাধন করবে। সামাজিকতায় আপনি হয়ত পিছিয়ে পড়বেন, উপভোগ করেন এমন সব অনুষ্ঠান বা কার্যক্রমে যাওয়া বাতিল করবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে এটি আপনার আত্মসম্মান বোধ কমিয়ে দিবে। এর কারণে আরো বহুবিধ সমস্যা দেখা দেয়, যা হতে পারে বিদ্যালয়ে খারাপ ফলাফল করা, পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের সাথে মনোমালিন্য, ঘুমে ব্যাঘাত ঘটা এবং সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া। চরম পর্যায়ে আপনি মদ্যপান ও মাদক গ্রহণের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন এমনকী অ্যাগোরাফোবিয়াতে (জনাকীর্ণ বা ভীড়পূর্ণ স্থানে যাওয়ার ভয়) আক্রান্ত হতে পারেন।

প্যানিক ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত হওয়াতে কারা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ?

  • পরিবারের কোন সদস্য এ ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকলে সেই পরিবারের অন্য সদস্য
  • প্রচুর দুশ্চিন্তা ও চাপে থাকা ব্যক্তি
  • সম্প্রতি কোনো দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন এমন ব্যক্তি, তবে পূর্বের দুর্ঘটনাগুলোকেও গৌণ করে দেখা যাবে না।
  • আমার কী সাহায্য নেয়া প্রয়োজন?

আপনি প্যানিক ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত এমন মনে হলে অর্থাৎ দুই বা ততোধিক বার প্যানিক অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে থাকলে আপনার অভিভাবকের সাথে কথা বলুন। এটা করা প্রায়ই কঠিন হতে পারে, ক্ষেত্রে পরিবারের অন্য কোন সদস্য বা বন্ধু একজন ভালো শ্রোতা হতে পারেন।

অনেক বিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সেলর (পরামর্শদাতা) থাকেন এবং তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করতে পারেন। যদি কাউন্সেলর দ্বারা সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে কোনো সাইকোলোজিস্ট বা সাইক্রিয়াট্রিস্টের (মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ) কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাবা-মাকে বলুন।

ডাক্তাররা যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন তা হচ্ছে কগনিটিভ বিহেভ্যিয়ার থেরাপি (আচরণগত চিকিৎসা) অথবা ঔষধ প্রদান। প্যানিক ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে ঔষধ প্রদান করা অত্যাবশ্যক নয়। চরম পর্যায়ে বা অনেক চাপে থাকা এমন কারো কারো ক্ষেত্রে ঔষধ গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়।

About the author

Maya Expert Team