ব্যক্তিত্ব সংক্রান্ত সমস্যা মনোসামাজিক মানসিক স্বাস্থ্য স্কিৎজোফ্রেনিয়া

সিজোফ্রেনিয়ার কারন

সিজোফ্রেনিয়ার কারন
সিজোফ্রেনিয়ার প্রকৃত কারন অজানা, কিন্তু গবেষনায় জানা গেছে যে, শারীরিক, জ্বীনগত, মানসিক, এবং পরিবেশগত ব্যপার – সব কিছুর সম্মিলিত রূপ এই অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে। বর্তমানে মনে করা হয়, কিছু মানুষ সিজোফ্রেনিয়া প্রবন হতে পারে, এবং তীব্র মানসিক চাপ ও আবেগ আক্রান্ত হওয়ার কারনে তাদের মধ্যে সিজোফ্রেনিয়ার সুচনা ঘটাতে পারে। তবে, এটা অজানা যে কেন কিছু মানুষের মধ্যে এই উপসর্গ দেখা দেয়, যেখানে অন্যদের ক্ষেত্রে ঘটেনা।


কারা ঝুকিতে আছেন
কিছু বিষয় যা সিজোফ্রেনিয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারেঃ

১) জীনতত্ত্ব
সিজোফ্রেনিয়া পারিবারিক ধারাক্রমে আসতে পারে, কিন্তু কোন নির্দিষ্ট আলাদা জীন এর জন্য দায়ী নয়। কিছু ভিন্ন ভিন্ন জীনের সমন্বিত প্রভাব এক্ষেত্রে ভুমিকা রাখতে পারে। তবে, এই জীনগুলো থাকা মানে এই নয় যে আপনি সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হবেন। অভিন্ন যমজদের (identical twins) মধ্যে গবেষনায় দেখা গেছে রোগটি আংশিক জন্মগত । গবেষণায় তাদেরকে অভিন্ন নয় এমন যমজদের (non-identical twins) সাথে এবং যমজ নয় এমন বাচ্চাদের সাথে তুলনা করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অভিন্ন যমজদের আলাদাভাবে বড় করার পর, একজনের সিজোফ্রেনিয়া হলে, অন্যজনের সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হবার সম্ভবনা থাকে প্রতি দুইজনে একজন। আলাদাভাবে বড় করার পর, অভিন্ন নয় এমন যমজদের ক্ষেত্রে একজনের সিজোফ্রেনিয়া হলে, অন্যজনের সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হবার সম্ভবনা থাকে প্রতি সাত জনে একজন।

যেখানে সাধারন মানুষের ক্ষেত্রে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হবার সম্ভবনা ১০০ জনের মাঝে ১ জনের। সুতরাং এটাই প্রমান হয় যে শুধুমাত্র জীনগত কারনে সিজোফ্রেনিয়া হয় না, পারিপার্শ্বিক প্রভাবও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।


২) মস্তিষ্কের গঠন
গবেষণায় দেখা গেছে, সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্ত মানুষ এবং আক্রান্ত নয় এমন মানুষের মস্তিষ্কের গঠনে কিছু সুক্ষ পার্থক্য রয়েছে এবং মস্তিস্কে স্নায়ু কোষের বিন্যাসেরও কিছু পার্থক্য রয়েছে। সিজাফ্রেনিয়া আক্রান্ত সবার ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন দেখা যায় না, আবার যাদের মানসিক অসুস্থতা নেই এমন মানুষের মাঝেও এটা কখনো কখনো এটা দেখা যায়। যাতে বোঝা যায়, সিজোফ্রেনিয়ার কারন হিসাবে মস্তিষ্কের গঠনের আংশিক ভুমিকা আছে।

৩) নিউরোট্রান্সমিটার
এগুলো একধরনের রাসায়নিক পদার্থ যা মস্তিষ্কের এক কোষ থেকে অন্য কোষে সংকেত বহন করে। নিউরোট্রান্সমিটার এবং সিজোফ্রেনিয়ার মাঝে যোগসূত্র আছে কারন যে সব ঔষধ মস্তিষ্ক এর নিউরোট্রান্সমিটার এর মাত্রার পরিবর্তন করে তা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গ কমাতেও ভুমিকা রাখে।

গবেষনায় দেখা গেছে ডোপামিন এবং সেরোটোনিন নামক দুটি নিউরোট্রান্সমিটারের মাত্রার পরিবর্তনের কারনে সিজোফ্রেনিয়া হতে পারে। কিছু গবেষনা বলে যে, এদের মধ্যে ভারসাম্যহীনতার জন্যই সিজোফ্রেনিয়া হতে পারে। কেউ কেউ এমন প্রমানও পেয়েছেন যে, নিউরোট্রান্সমিটারের প্রতি শরীরের সংবেদনশীলতা কমে যাওয়াও সিজোফ্রেনিয়ার একটি কারন।

৪) গর্ভাবস্থা এবং প্রসব সংক্রান্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
যদিও গর্ভাবস্থা এবং প্রসব সংক্রান্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো তেমন জটিল হয় না, কিন্তু গবেষনায় দেখা গেছে এই সংক্রান্ত কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পরবর্তীতে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ভুমিকা রাখে।

  • গর্ভাবস্থায় রক্তপাত, গরভকালীন ডায়াবেটিস অথবা প্রি-এক্লাম্পশিয়া
  • গর্ভাবস্থায় বাচ্চার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, সেটা স্বাভাবিকের চেয়ে কম ওজন বা বেশি ওজন দুটোই হতে পারে।
  • গর্ভাবস্থায় ভাইরাস সংক্রমন
  • জন্মের সময় জটিলতা, যেমন কোন কারনে অক্সিজনের অভাব ঘটা, জরুরী ভিত্তিতে সিজারিয়ান অপারেশন করা ইত্যাদি

৫) সূত্রপাত
সিজোফ্রেনিয়ার ঝুকিতে থাকা মানুষদের মধ্যে যে যে কারনে সিজোফ্রেনিয়ার সূত্রপাত হতে পারে-

৬) চাপ
মানসিক চাপ সংক্রান্ত যে বিষয় গুলো সিজোফ্রেনিয়ার সুত্রপাত ঘটাতে পারে তা হলো – আপনজন কারো মৃত্যু, চাকরী হারানো, সম্পত্তি হারানো, কোন সম্পর্কের অবসান হওয়া বা বিবাহ বিচ্ছেদ অথবা শারীরিক, মানসিক বা যৌন নির্যাতন। এই সব কারনে কারো সিজোফ্রেনিয়া হয় না, তবে কেউ যদি সিজোফ্রেনিয়ার ঝুকিতে থাকেন তবে এই সব কারনে সিজোফ্রেনিয়ার সূত্রপাত হতে পারে।

৭) ঔষধের অপব্যবহার
ঔষধের অপবুবহারের কারনে সরাসরি সিজোফ্রেনিয়া হয়না, তবে গবেষনায় দেখা গেছে ঔষধের অপব্যবহার সিজোফ্রেনিয়া অথবা অন্যান্য মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি বাড়িয়ে দেয় ।

কিছু কিছু মাদক যেমন গাজা (ক্যানাবিস), কোকেইন, LSD অথবা অ্যাম্ফিটামিন সিজোফ্রেনিয়ার কিছু উপসর্গের সূত্রপাত ঘটায়। অ্যাম্ফিটামিন অথবা কোকেইন সাইকোসিস ঘটাতে পারে এবং যারা পূর্বে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল, তাদের মধ্যে পুনরায় এর সুত্রপাত হতে পারে।

তিনটি বড় ধরনের গবেষনায় দেখা গেছে যে, ১৫ বছরের নিচের কিশোর-কিশোরী যারা নিয়মিত গাজা সেবন করে, ২৬ বৎসর বয়সের মধ্যে তাদের সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা চারগুন বেশি।

About the author

Maya Expert Team