ব্যক্তিত্ব সংক্রান্ত সমস্যা মনোসামাজিক মানসিক স্বাস্থ্য স্কিৎজোফ্রেনিয়া

সিজোফ্রেনিয়া নির্ণয়

সিজোফ্রেনিয়া নির্ণয়
সিজোফ্রেনিয়া নির্ণয়ের জন্য কোন একক পরীক্ষা নেই। সাধারণত একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ দ্বারা পর্যবেক্ষণের পর এই রোগ নির্ণীত হয়।

যদি সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গ নিয়ে আপনি চিন্তিত থাকেন, তবে যত দ্রুত সম্ভব আপনার চিকিৎসককে দেখান। যত প্রাথমিক পর্যায়ে সিজোফ্রেনিয়ার চিকিৎসা শুরু হয় তত ভাল ফলাফল পাওয়া যায়।

আপনার চিকিৎসক আপনার উপসর্গ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন এবং পরীক্ষা করে দেখবেন যে এগুলো অন্য কোন কারণ যেমন মাদকের জন্য ঘটছে কি না। প্রয়োজন হলেই শুধুমাত্র আপনাকে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ অথবা মনোবিজ্ঞানীর কাছে পাঠানো হবে।


মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী দল(MHT)
যদি সিজোফ্রেনিয়া নির্ণীত হয়, আপনার চিকিৎসক সম্ভবত আপনাকে একজন মনরোগ বিশেষজ্ঞ অথবা মনোবিজ্ঞানীর কাছে প্রেরণ করবেন ।

একজন মনরোগ বিশেষজ্ঞ অথবা মনোবিজ্ঞানী, আপনার উপসর্গ নিয়ে বিস্তারিত যাচাই বাছাই করবেন। তারা আপনার ব্যক্তিগত ইতিহাস এবং বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইবেন ।

নির্ণয় করার জন্য, বেশীরভাগ মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ “রোগনির্ণয় সংক্রান্ত তালিকা” করবেন যেখানে নিশ্চিত উপসর্গের মাধ্যমে একজন মানুষের সিজোফ্রেনিয়া আছে বলে নির্দেশ করা যায়।


সিজোফ্রেনিয়া নির্ণীত হতে পারে যদিঃ
আপনার কমপক্ষে নিচের মধ্যে অন্তত দুটি উপসর্গ থাকেঃ

  • বিভ্রম, অলীক কিছুর অস্তিত্বে বিশ্বাস, অগোছালো চিন্তা অথবা আচরণ, বা নেতিবাচক উপসর্গ রয়েছে এমন রোগ যেমন আবেগের অসামঞ্জস্যতা থাকে।
  • যদি আপনার উপসর্গ আপনার কাজ, পড়াশুনা, অথবা প্রাত্যহিক কাজে মারাত্মক প্রভাব সৃষ্টি করে
  • যদি আপনি ছয় মাসের বেশী উপসর্গ প্রত্যক্ষ করে থাকেন
  • সম্ভাব্য অন্য সকল কারণ যেমন হতাশা, মাদক ব্যবহারকে বাদ দেওয়া গেলে।

সম্পর্কিত অসুস্থতা
কারো সিজোফ্রেনিয়া আছে কিনা তা অনেক সময় পরিষ্কার করে নাও বলা যেতে পারে। যদি আপনার একই সময়ে অন্যান্য উপসর্গ থাকে একজন মনরোগ বিশেষজ্ঞ আপনার অন্যান্য মানসিক অসুস্থতা আছে বলে ধরে নিতে পারেন ।

সিজোফ্রেনিয়ার সাথে সম্পর্কিত কিছু মানসিক অসুস্থতা আছে। কিভাবে আপনার অসুস্থতা আপনাকে আক্রান্ত করেছে তা আপনার মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ জিজ্ঞেস করবেন যাতে তারা আত্মবিশ্বাসের সাথে আপনাকে নিশ্চিত করতে পারেন যে আপনার সিজোফ্রেনিয়া হয়েছে এবং অন্য কোন মানসিক রোগ হয়নি যেমনঃ

বাইপোলার রোগ (ম্যানিক ডিপ্রেশন) বাইপোলার আক্রান্ত লোক উন্মত্ততা (উত্তেজিত মন এবং চরম উত্তেজিত আচরণ) থেকে গভীর হতাশায় আন্দোলিত হয়। বাইপোলার আক্রান্ত কিছু মানুষ অলীক কণ্ঠস্বর শোনেন অথবা অন্য রকম অলীক অস্তিত্ব অনুভব করেন অথবা বিভ্রম এ আক্রান্ত হতে পারেন।

সিজোয়া আক্রান্ত রোগ (Schizoaffective disorder) – সিজোয়া আক্রান্ত রোগ প্রায় সময়েই সিজোফ্রেনিয়ার ধরন হিসেবে বর্ননা করা হয়, কারন এর উপসর্গ সিজোফ্রেনিয়ার এবং বাইপোলার রোগ এর অনুরূপ। কিন্তু সিজোয়া আক্রান্ত রোগ তার নিজস্ব দিক থেকে মানসিক রোগ। এটা একজন মানুষের জীবনে একবার কাজ করতে পারে অথবা বার বার হতে পারে, চাপ এ পড়লে।


অন্য কারো কাছ থেকে সাহায্য গ্রহণ
আক্রান্তদের চিন্তার ধরন বিভ্রান্তিমূলক হওয়ার কারনে, সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্ত লোক চিকিৎসকের কাছে যেতে অনাগ্রহী হতে পারেন যদি তারা মনে করেন যে তাদের আসলে কোন সমস্যা নেই।

অতীতে যাদের তীব্র সিজোফ্রেনিয়া ছিল তাদের জন্যে একজন স্বাস্থ্য সমন্বয়ক নিয়োজিত হতে পারে। যদি এরকম হয়, তবে সে সমন্বয়কের কাছে আপনার চিন্তার কথা জানিয়ে যোগাযোগ করুন।

যদি কারো প্রথম বারের মত তীব্র সিজোফ্রেনিয়ার এপিসোড হয়, তখন একজন বন্ধু, আত্নীয়, অথবা অন্য কাছের মানুষের প্রয়োজন যে তাকে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে বলবে। সিজোফ্রেনিয়ার অবস্থা দ্রুত খারাপ হলে, আপনার জরুরি বিভাগে যাওয়া উচিত যেখানে একজন ডিউটি ডাক্তার থাকবেন, যিনি আপনাকে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর আগে হয়তো উত্তেজনা কমিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারবেন।

যদি কেউ তীব্র সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্ত অবস্থায় সাহায্য নিতে অস্বীকার করে, তাহলে ধারনা করা হয় যে তারা নিজের এবং অন্যদের জন্য ঝুঁকির কারন হতে পারেন।


নির্ণয়ের পর:
যদি আপনি (অথবা আপনার বন্ধু কিংবা আত্নীয়) সিজোফ্রেনিক হিসেবে নির্ণীত হয়ে থাকেন, তাহলে এখন সামনে কি হবে তা নিয়ে আপনি দুশ্চিন্তা করবেন। এই অবস্থার সাথে জড়িত কলংক’র কথা ভেবে আপনি দুশ্চিন্তিত হতে পারেন, অথবা ভীত সন্ত্রস্ত হতে পারেন এবং নিজেকে গুটিয়ে ফেলতে পারেন। তবে আশা হারাবেন না, এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ন যে সব রোগ নির্ণয় প্রকৃত প্রস্তাবে সেই রোগ সম্পর্কে সঠিক ও সরাসরি তথ্য পাওয়া আর চিকিৎসার সুযোগ গুলো সম্পর্কে জানার পথে একটি প্রথম ভালো পদক্ষেপ।

About the author

Maya Expert Team