ব্যক্তিত্ব সংক্রান্ত সমস্যা মনোসামাজিক মানসিক স্বাস্থ্য স্কিৎজোফ্রেনিয়া

সিজোফ্রেনিয়ার চিকিৎসা

সিজোফ্রেনিয়ার চিকিৎসা
বাংলাদেশে প্রায় সকল মানসিক রোগের ক্ষেত্রে কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপীর পরিবর্তে প্রধানত ওষধ ব্যবহার করে চিকিৎসা করা হয়। যে ঔষধ গুলো সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত সেসব ঔষধ সম্পর্কে নিচে বলা হল।


অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ সমূহ
অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ সমূহ তীব্র সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়। অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ সমূহ মস্তিষ্কে রাসায়নিক ডোপামাইন বন্ধ করে দিয়ে কাজ করে। অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ সমূহ সাধারনত ব্যবহারের কয়েক ঘন্টার মাঝে আবেগ এবং রাগ অথবা আগ্রাসন কমিয়ে ফেলতে পারে, কিন্তু অন্যন্য উপসর্গ যেমন অলীক অস্তিত্বে বিশ্বাস অথবা বিভ্রম চিন্তা মুছে ফেলতে কিছুদিন অথবা কয়েক সপ্তাহ সময় নিতে পারে।

অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ সমূহ মুখে খাওয়া যায় (ঔষধের মত করে) অথবা ইনজেকশন হিসেবে নেওয়া যেতে পারে (ডেপট নামে পরিচিত)। কিছু “দ্রুত কার্যকর” অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ সমূহ সচরাচর দেওয়া হয়। এগুলো প্রত্যেক দু অথবা চার সপ্তাহে একটি করে ইনজেকশনের আকারে নেওয়া যেতে পারে।

আপনি অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ সমূহ নিতে পারেন যতদিন না পর্যন্ত আপনার তীব্র সিজোফ্রেনিয়ার এপিসোড চলে যায়। তবে, বেশিরভাগ মানুষ তীব্র সিজোফ্রেনিয়া এবং দীর্ঘ অসুস্থ্যতা থেকে রক্ষা পেতে প্রথম সিজোফ্রেনিয়ার এপিসোড থেকেই এক থেকে দু বছরের জন্য ঔষধ নিয়ে থাকেন।

প্রধানত দু ধরনের অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ আছেঃ

  • স্বাভাবিক অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ সমূহ, অ্যান্টিসাইকোটিক এর প্রথম প্রজন্ম যা ১৯৫০এর দশকে আবিষ্কৃত হয়েছে।
  • নতুন অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ সমূহ , অ্যান্টিসাইকোটিক এর একটি নতুন প্রজন্ম যা ১৯৯০ এর দশকে আবিষ্কৃত হয়েছে।

নতুন অ্যান্টিসাইকোটিক গুলো তাদের ব্যবহারের সাথে সম্পৃক্ত পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার জন্য সাধারনত প্রথম পছন্দ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে, তারা প্রত্যেকের জন্য উপযুক্ত অথবা কার্যকরী নয়।

স্বাভাবিক এবং নতুন উভয় অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ সমূহ পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, যদিও প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই এমন হয় না এবং তাদের ভিন্নতা মানুষ ভেদে ভিন্ন হয়।


স্বাভাবিক অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াঃ

  • শরীর বা হাত পা কাঁপা
  • মাংশ পেশীর আকস্মিক টান
  • মাংশ পেশীর খিঁচুনী
  • স্বাভাবিক এবং নতুন উভয় অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ সমূহর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হতে পারেঃ
  • তন্দ্রাচ্ছন্নভাব
  • ওজন বৃদ্ধি, বিশেষ করে কিছু নতুন অ্যান্টিসাইকোটিক্স সেবনের ফলে
  • ঝাপসা দৃষ্টি
  • কোষ্ঠ্যকাঠিন্য
  • যৌন মিলনে অনাগ্রহ
  • শুষ্ক মুখ

যদি আপনার পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া গুরুতর হয় তাহলে মনরোগ বিশেষজ্ঞকে জানান। এর বিকল্প অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ থাকতে পারে, এছাড়া আপনি অন্যান্য ঔষধ এর সাথে নিতে পারেন যা পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার থেকে রক্ষা করবে।

মনরোগ বিশেষজ্ঞক, মনোবিজ্ঞানী, চিকিৎসককে দেখানো ছাড়া আপনার অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ নেওয়া বন্ধ করবেন না। যদি বন্ধ করে থাকেন তবে পুনরায় আপনার উপসর্গ দেখা দিতে পারে।


মানসিক
চিকিৎসা
সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত মানুষকে মানসিক চিকিৎসা সাহায্য করতে পারে এই রোগের বিভিন্ন উপসর্গ যেমন অলীক অস্তিত্বে বিশ্বাস অথবা বিভ্রম এর উপসর্গ নিয়ে ।

তারা সিজোফ্রেনিয়ার কিছু নেতিবাচক উপসর্গ যেমন সাধারন অনীহা এবং কোন কিছু উপভোগ করতে না পারা – এগুলোর চিকিৎসাতে সাহায্য করতে পারে।


প্রচলিত মানসিক চিকিৎসাগুলো হলঃ

১) কগনেটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি (CBT)
কগনেটিভ বিহেভিওরাল থেরাপী (CBT), যদিও বাংলাদেশে বেশী অনুশীলন করা হয়না, এটি আপনাকে অনিচ্ছাকৃত চিন্তা অথবা আচরনের ধরন সনাক্ত করতে সাহায্য করবে, এবং বাস্তবধর্মী ও প্রয়োজনীয় চিন্তা-ভাবনা প্রতিস্থাপন করতে শেখায়।

২) ফ্যামিলি থেরাপী
সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্ত অনেক মানুষ তাদের যত্ন এবং সাহায্যের জন্য পরিবারের সদস্যদের উপর নির্ভর করেন। যেখানে বেশীর ভাগ সদস্য পরিবারের কাউকে সাহায্য করতে পেরে খুশী হয়, সেখানে অনেক দিন ধরে সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্ত কারো যত্ন নেওয়া যেকোন পরিবারের জন্য চাপ হয়ে দাঁড়ায়।

ফ্যামিলি থেরাপী নিজেকে এবং পরিবারকে ভাল অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি উপায়।

ফ্যামিলি থেরাপী প্রায় ছয় মাসের একটি অনানুষ্ঠানিক সাক্ষাতকে যুক্ত করে। সাধারনত যা থাকেঃ

  • সিজোফ্রেনিয়া সম্পর্কিত তথ্য নিয়ে আলোচনা
  • সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্ত কাউকে সহায়তা করার উপায় ব্যাখ্যা করা
  • কিভাবে সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের দ্বারা সৃষ্ট বাস্তব সমস্যা সমাধান করা যায় তার আলোচনা

আপনি এবং আপনার পরিবার যদি মনে করেন ফ্যামিলি থেরাপী থেকে সুবিধা পেতে পারেন, তাহলে আপনার মনরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী, অথবা চিকিৎসককে তা জানান।

About the author

Maya Expert Team