ব্যক্তিত্ব সংক্রান্ত সমস্যা মনোসামাজিক মানসিক স্বাস্থ্য স্কিৎজোফ্রেনিয়া

সিজোফ্রেনিয়ার সাথে জীবন-যাপন

সিজোফ্রেনিয়ার সাথে জীবন-যাপন
বেশিরভাগ সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্ত মানুষ সুস্থ্ হয়ে উঠে, যদিও অনেকের ক্ষেত্রেই উপসর্গগুলো পুনরায় দেখা দিতে পারে।

সকলের সমর্থন এবং চিকিৎসার মাধ্যমে আপনি আপনার অবস্থা এমন ভাবে নিয়ন্ত্রিত রাখতে পারবেন যেন তা আপনার জীবনে কোন বড় প্রভাব ফেলতে না পারে।


তীব্র সিজোফ্রেনিক এপিসোড
সনাক্তকরণ
অসুস্থ্ হওয়ার উপসর্গকে চিনতে পারা শেখাটা আপনাকে সুস্থ্ হতে সাহায্য করতে পারে। এটা আপনার ক্ষুধা কমিয়ে দিতে পারে, আপনি রাগান্বিত হতে পারেন, অথবা চাপ অনুভব করতে পারেন অথবা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। আপনি আরো কিছু হালকা উপসর্গ দেখতে পারেন যেমন সন্দেহপ্রবনতা কিংবা ভীতিজনক কিছু, মানুষের উদ্দেশ্য নিয়ে চিন্তিত হওয়া, আস্তে আস্তে অদৃশ্য কারো কথা শোনা, অথবা মনযোগে ব্যঘাত ঘটা। এমন  কাউকে জিজ্ঞেস করতে পারেন যাকে আপনি বিশ্বাস করেন যে আপনার আচরনে কোন পরিবর্তন দেখতে পেলে আপনাকে সে যেন তা জানায়।

তীব্র সিজোফ্রেনিয়ার প্রয়োজনীয় উপসর্গ চিনতে পারা অনেক গুরুত্বপূর্ন, যেহেতু এটা অ্যান্টিসাইকোটিক ঔষধ এবং অতিরিক্ত সমর্থন দ্বারা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

যদি আপনি আবারো তীব্র সিজোফ্রেনিয়ার এপিসোডে ভোগেন, তাহলে আপনার জন্যে লিখিত পরিচর্যা পরিকল্পনা অনুসরন করা উচিত, বিশেষত সংকট মোকাবেলার জন্যে করে রাখা পরিকল্পনা। আপনার যত্নের পরিকল্পনায় পুনরায় রোগ দেখা দিলে সম্ভাব্য কি কি উপসর্গ হতে পারে, গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ এর নাম্বার ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করে রাখতে পারেন।


এলকোহল এবং মাদক এড়িয়ে চলা
এলকোহল এবং মাদক স্বল্প-মেয়াদী সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের হাত থেকে মুক্তি দিতে পারে, কিন্তু এগুলো আপনাকে দীর্ঘ-মেয়াদীভাবে উপসর্গ সৃষ্টির মাধ্যমে খারাপ অবস্থায়ও নিয়ে যেতে পারে। মাদক এবং এলকোহল, অ্যান্টিসাইকোটিক ঔষধ এর মত খারাপ ভাবে প্রতিক্রিয়া করতে পারে। যদি আপনি বর্তমানে মাদক অথবা এলকোহল ব্যবহার করে থাকেন এবং যদি তার ব্যবহার বন্ধ করা আপনার জন্যে কঠিন হয়ে যায়, তাহলে আপনার মনরোগ বিশেষজ্ঞ অথবা চিকিৎসকের কাছে সাহায্য চাইতে পারেন।


নিয়মিত ঔষধ নেওয়া
আপনি ভাল অনুভব করলেও ব্যবস্থাপনাপত্র অনুসারে ঔষধ নেওয়া গুরুত্বপূর্ন । চলমান ঔষধ গ্রহন পুনরায় রোগাক্রান্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। যে ঔষধগুলো খাচ্ছেন, সেগুলোর ব্যাপারে বা তাদের যেকোন পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নিয়ে আপনার যেকোন প্রশ্ন থাকলে মনবিজ্ঞানী বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে আলাপ করুন।

ঔষধের প্রচারপত্র পড়া খুব প্রয়োজনীয় যাতে ঐ ঔষধের সাথে অন্যান্য ঔষধ এবং সাপ্লিমেন্ট এর সম্ভাব্য যেকোন প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ থাকে। যদি আপনি ঔষধ ছাড়াও অন্য কোন ঔষধ যেমন ব্যথা নিরামক বা পেইন কিলার অথবা যেকোন পুষ্টিযুক্ত সাপ্লিমেন্ট নিয়ে থাকেন তবে তা আপনার স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ দ্বারা পরীক্ষা করিয়ে নেয়াটা খুব জরুরী। কারণ এগুলোর সাথে অনেকসময় অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধের প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে।


নিয়মিত পর্যালোচনা
নিয়মিত আপনার চিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী, মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করুন, এবং নিজেকে পরীক্ষা করান। এভাবে আপনি এবং আপনার চিকিৎসক উভয়েই আপনার মানসিক অবস্থার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে পারেন, এবং যদি তা পুনরায় দেখা দেয় তবে এই পদ্ধতিতে তা খুব শীঘ্রই সনাক্ত করা যায়।


নিজের যত্ন
নিজের যত্ন নেওয়া জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর মানে আপনি নিজের স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিজেই নিয়ে থাকেন এবং সেখানে আপনার প্রিয়জনদেরও আপনার প্রতি সমর্থন থাকবে।

নিজের যত্ন বলতে বুঝায় একটি পরিকল্পনা যা নির্দেশ করবে কিভাবে আপনি প্রতিদিন কর্মক্ষম থাকবেন। এছাড়াও আছে ভাল শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যচর্চা মেনে চলা, অসুস্থতা কিংবা দূর্ঘটনা প্রতিরোধ করা এবং ছোট খাট শারীরিক অসুস্থতা কিংবা দীর্ঘমেয়াদী রোগাক্রান্ত অবস্থার সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়া।

দীর্ঘমেয়াদী রোগাক্রান্ত অবস্থায় থাকা মানুষ বেশ স্বচ্ছন্দ্যে থাকতে পারে যদি তারা নিজেদের যত্নের প্রতি সতর্ক থাকে। এভাবে তারা দীর্ঘায়ু হতে পারে, তাদের ব্যথা, রাগ, হতাশা, এবং দুশ্চিন্তা কমাতে পারে, বেশী কর্মক্ষম এবং স্বাধীন জীবন কাটাতে পারে।

About the author

Maya Expert Team