বাই-পোলার-ডিজঅর্ডার ব্যক্তিত্ব সংক্রান্ত সমস্যা মনোসামাজিক মানসিক স্বাস্থ্য

বাইপোলার ডিজঅর্ডার

Written by Maya Expert Team

ভুমিকা

বাইপোলার ডিজঅর্ডার নামক মানসিক রোগটি একসময় ‘উন্মত্ত বিষাদ’ (ম্যানিক ডিপ্রেশন) নামে পরিচিত ছিল। এটা এমন একটা অবস্থা যা আপনার মনকে আক্রান্ত করবে এবং যা্র ফলে আপনার মন একটি মানসিক চরম অবস্থা থেকে বিপরীত আরেকটি চরম অবস্থায় পরিবর্তিত হতে থাকবে।

যদি আপনার বাইপোলার রোগ থাকে, আপনার মধ্যে যে লক্ষণগুলো দেখা দিবে-

  • বিষাদ- যেখানে আপনি হতাশ এবং উদ্যমহীন বোধ করবেন
  • ম্যানিয়া- যেখানে আপনি নিজের মধ্যে উন্মত্ততা অনুভব করবেন

বাইপলার রোগের উপসর্গ নির্ভর করবে আপনি কিরকম মানসিকতা বা মেজাজ অনুভব করছেন তার উপর। সাধারণ “পর্যায়ক্রমিক” মেজাজ পরিবর্তন ছাড়া, বাইপোলার রোগের প্রত্যেক চরম পর্ব কয়েক সপ্তাহ অথবা তার থেকেও বেশী সময় স্থায়ী হতে পারে। এবং কারো কারো ক্ষেত্রে, স্বাভাবিক মেজাজ খুব সহসা ফেরত আসে না।


বিষাদ
বাইপোলার রোগের বিষাদ পর্ব প্রথমে দেখা দেয়। আপনার উন্মত্ততা (ম্যানিক) পর্ব ধরা পড়ার পূর্বে (যা পরবর্তীতে এমনকি ১ বছর পরেও ধরা পড়তে পারে) আপনি হয়তো ক্লিনিক্যাল বিষাদগ্রস্থ হিসেবে নির্ণীত হতে পারেন। উন্মত্ততা (ম্যানিক) পর্ব শুরু হওয়ার পর আপনাকে বাইপোলার হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

বিষাদ পর্বের সময়, নিজেকে আপনার অপদার্থ বা অকর্মণ্য মনে হবে, ভীষণ রকম হীনমন্যতায় ভুগবেন যা এক পর্যায়ে আপনাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করতে পারে। যদি আপনি আত্মহত্যা প্রবনতায় ভুগেন অথবা গুরুতর বিষাদগ্রস্থ হয়ে পড়েন ,যত দ্রূত সম্ভব একজন চিকিৎসক অথবা একজন মনরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন ।

উন্মত্ততা (ম্যানিয়া)
বাইপোলার রোগের উন্মত্ততা (ম্যানিক) পর্বের সময়, আপনি খুব সুখী অনুভব করবেন এবং আপনার মাথায় প্রচুর উচ্চাভিলাষী ভাবনা আসতে থাকবে। আপনি প্রচুর অর্থ ব্যয় করে ফেলতে পারেন যা হয়ত বহন করার সামর্থ্য আপনার নেই। ঘুম এবং খাওয়ার ইচ্ছা কমে যাওয়া, দ্রুত কথা বলা, এবং খুব সহজেই রেগে যাওয়া বাইপোলার রোগের উন্মত্ততা (ম্যানিক) পর্বের আরো কিছু লক্ষণ।

উন্মত্ততা (ম্যানিক) পর্বের সময়, আপনি খুব সৃজনশীল অনুভব করতে পারেন এবং ম্যানিয়াকে একটি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা মনে হতে পারে। তবে, বাইপোলার রোগের ম্যানিক পর্বের সময় আপনার আরো কিছু মানসিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেখানে আপনি এমন কিছু দেখবেন অথবা শুনবেন যার কোন অস্তিত্ব নেই কিংবা এমন ধারনা দ্বারা প্রভাবিত হবেন যা সত্যি নয়।

বাইপোলার ডিজঅর্ডারের সাথে বসবাস
বাইপোলার রোগের উন্মত্ততা (ম্যানিক) এবং বিষাদ পর্ব প্রায়ই এত বেশি তীব্র হয় যে, আপনার প্রাত্যহিক জীবন এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। তবে, বাইপোলার রোগের চিকিৎসার কিছু বিকল্প পদ্ধতি আছে যা আপনাকে সুস্থ করে তুলতে পারে। বাইপোলার রোগের চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য হলো, এর পর্ব গুলোর প্রতিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসার চেষ্টা করা, যাতে যতটুকু সম্ভব স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারে।

এটা মনে করা হয় যে, চিকিৎসার সমন্বিত রূপ এই রোগ নিয়ন্ত্রনের সবচেয়ে ভাল উপায়। যার মধ্যে রয়েছে

  • ম্যানিয়া (উন্মত্ততা) হাইপোম্যানিয়া (কম গুরুতর ম্যানিয়া) এবং বিষাদের বিভিন্ন পর্ব প্রতিরোধ করার জন্য ঔষধ গ্রহন – এগুলো মুড স্ট্যাবিলাইজার হিসেবে পরিচিত এবং দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিদিন খেতে হয়।
  • উন্মত্ততা (ম্যানিক) এবং বিষাদ পর্ব যখন তীব্র রুপ ধারন করে তখন তা নিয়ন্ত্রনে করার জন্য ঔষধ গ্রহন।
  • বিষাদ অথবা উন্মত্ততা (ম্যানিক) কে প্রভাবিত করে এমন বিষয়গুলোকে এবং এদের লক্ষণ গুলোকে চিহ্নিত করে রাখা।
  • মনস্তাত্বিক চিকিৎসা- যেমন বিষাদর সাথে মানিয়ে নিতে কথা বলার থেরাপী এবং আপনাকে পরামর্শ দেওয়া যে কিভাবে আপনি আপনার সম্পর্কগুলোকে আরও উন্নত করবেন।
  • জীবন-যাপনের ক্ষেত্রে পরামর্শ- যেমন নিয়মিত শরীরচর্চা করা, যেসব কাজ আপনি উপভোগ করে থাকেন, এবং যা আপনাকে অর্জনের অনুভূতি যোগায় সেসব কাজের পরিকল্পনা করা, এবং আপনার খাদ্যাভ্যাস এবং বেশী ঘুমানোর উপর পরামর্শ দেয়া।


বাইপোলার রোগ এবং গর্ভাবস্থা
বাইপোলার রোগ, অন্যান্য সকল প্রকার মানসিক সমস্যার মত গর্ভাবস্থার সময় আরো খারাপ হতে পারে।


বাইপোলার রোগের কারন কি?
বাইপোলার রোগের প্রকৃত কারন জানা নেই। তবে, এটা মনে করা হয় যে কিছু জিনিস এটার আক্রমনকে প্রভাবিত করতে পারে। অতিরিক্ত চাপ, অতীতের কোন সমস্যা, এবং অনবদ্য  জীবন-পরিবর্তনকারী ঘটনা , সাথে জীনতত্বীয় এবং রাসায়নিক ব্যাপারও থাকতে পারে।


কারা আক্রান্ত হয়?
প্রতি ১০০ জনের মাঝে একজনের মধ্যে এই অবস্থা সনাক্ত হয়ে থাকে।

বাইপোলার রোগ যেকোন বয়সেই আক্রমন করতে পারে, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ১৮ থেকে ২৪ বছরের মাঝে প্রথম দেখা দেয়। যেকোন পুরুষ এবং মহিলার বাইপোলার রোগ হতে পারে।

বাইপোলার রোগে মেজাজ পরিবর্তনের ধরন মানুষ ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। উদাহারনস্বরূপ, কারো কারো পুরো জীবনে কয়েকবার মাত্র বাইপোলার রোগের পর্ব গুলো ঘটে থাকে, মাঝের সময় টুকুতে তারা স্বাভাবিক থাকেন, আর কিছু মানুষের জীবনে বার বার পর্ব গুলো ঘটতে থাকে।

Image Courtesy: বেশতো

About the author

Maya Expert Team