বাই-পোলার-ডিজঅর্ডার ব্যক্তিত্ব সংক্রান্ত সমস্যা মনোসামাজিক মানসিক স্বাস্থ্য

বাইপোলার ডিজঅর্ডার নিয়ে জীবন-যাপন

বাইপোলার ডিজঅর্ডার নিয়ে জীবন-যাপন

যদিও বাইপোলার একটি দীর্ঘ-মেয়াদী অসুস্থতা, তবে কার্যকরী চিকিৎসা এবং নিজের কিছু প্রচেষ্টা ও কৌশল, আপনার প্রাত্যহিক জীবনে এর প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

কর্মক্ষম থাকা এবং স্বাস্থ্যকর খাওয়া-দাওয়া করা
স্বাস্থ্যকর খাওয়া-দাওয়া করা এবং সুস্থ ও সবল থাকা প্রত্যেকের জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম বাইপোলার রোগের উপসর্গ কমিয়ে ফেলতে সাহায্য করে (বিশেষ করে বিষাদজনিত উপসর্গ) । এটা আপনাকে কিছু একটা লক্ষ ঠিক করতে এবং একটা রুটিন মেনে চলতে সাহায্য করবে।

একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও সমন্বিত ব্যায়াম, আপনার ওজনকে ঠিক রাখতে সাহায্য করে, কারণ বাইপোলার রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ায় আপনার ওজন বেড়ে যেতে পারে। । কিছু ওষুধ ডায়াবেটিস এর সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় এবং কিছু কিছু দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার মাত্রাও বাড়িয়ে দেয়। তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও সমন্বিত ব্যায়াম এসব ঝুকি কমাতে সাহায্য করে।

আপনার বছরে অন্তত একবার হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে দেখা উচিৎ। এক্ষেত্রে আপনার ওজন মাপা হবে, আপনার রক্তচাপ এবং রক্ত পরীক্ষা করে দেখা হবে।


নিজের যত্ন এবং নিজের ব্যবস্থাপনা
নিজের যত্ন আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ন অংশ। আপনার নিজের স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নেয়া এবং নিজের ভাল থাকা এর অন্তর্ভুক্ত। নিজের যত্ন মানে নিজেকে সবল রাখা এবং ভাল শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করা, অসুস্থতা অথবা দূর্ঘটনা প্রতিরোধ করা এবং পুষ্টির দিকে এবং দীর্ঘ-মেয়াদী অসুস্থতা প্রতিরোধের দিকে আরো বেশী কার্যকরভাবে যত্ন নেওয়া।

নিজের যত্ন নিলে, দীর্ঘ-মেয়াদী অসুস্থতা প্রতিরোধে অনেক উপকার পাওয়া যায়। যারা নিজের যত্ন নেয়, তারাই দীর্ঘ-জীবি হয়, কম অসুস্থ হয়, , রাগ, বিষাদ, অবসাদ কম হয়। তারাই একটি ভাল মানের জীবন পেতে পারে, আরো বেশি কর্মক্ষন এবং স্বাধীন থাকতে পারে।


রোগ সম্পর্কে কথা বলা
বাইপোলার আক্রান্ত মানুষ নিজের রোগ নিয়ে সহজভাবে পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে কথা বললে, এর মাধ্যমে তারা উপকৃত হয়। কথা বলার মাধ্যমে থেরাপী এই রোগ সারাতে খুবই কার্যকরী , বিশেষ করে বিভিন্ন পর্বের স্থায়ীত্ব কমাতে এটি সাহায্য করে ।


মাদক, মদ, ও চাপ উপেক্ষা করা
বাইপোলার আক্রান্ত কিছু মানুষ তাদের চাপ কমানোর জন্য মাদক অথবা মদ খেয়ে থাকে । এটি শারীরিক এবং সামাজিক উভয়দিকেই ক্ষতি করে। বাইপোলার আক্রান্ত কিছু মানুষ যদি একবার কার্যকরী চিকিৎসা পায়, মদ ও মাদক নেওয়া বন্ধ করে দিতে পারে।

মদ ও মাদক উপেক্ষা করা ম্যানিক (উন্মত্ততা), হাইপোম্যানিক, অথবা বিষাদের উপসর্গ সারিয়ে তোলার ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করে।

অতিরিক্ত চাপ এড়িয়ে চলা খুব গুরুত্বপূর্ন, এমনকি কাজ-সম্পর্কিত চাপও। যদি আপনি কর্মজীবি হয়ে থাকেন, আপনি কয়েক ঘন্টা কম কাজ করুন এবং আরামদায়কভাবে করুন, বিশেষ করে যদি আপনার কাজের চাপ উপসর্গকে বাড়িতে তোলে।


বাইপোলার ডিজঅর্ডার নিয়ে জীবন-যাপন অথবা আক্রান্ত কারো যত্ন নেওয়া
যিনি বাইপোলার আক্রান্ত রোগীর যত্ন নিচ্ছেন তার জন্য এটা খুব কঠিন একটা কাজ। অসুস্থতার সময়, বাইপোলার আক্রান্ত রোগীর ব্যাক্তিত্বের পরিবর্তন হতে পারে, এবং তারা আক্রমনাত্মক হতে পারে। কখনো কখনো সমাজকর্মী এবং পুলিশও এই রোগের শিকার হতে পারে। এ রোগে আক্রান্তদের কাছে সম্পর্ক এবং পারিবারিক জীবন কে অত্যাচার মনে হতে পারে।


আত্নহত্যা প্রবনতার সম্মুখীণ হওয়া
আত্নহত্যার চিন্তা বাইপোলার রোগের একটি প্রচলিত উপসর্গ। চিকিৎসা ছাড়া , এই চিন্তা আরো শক্তিশালী হতে পারে। কিছু গবেষনায় দেখা যায় যে, বাইপোলার রোগীর সাধারন মানুষের তুলনায় ১৫ থেকে ২০ গুন আত্নহত্যার প্রবনতা বেশী থাকে। গবেষনা থেকে আরো দেখা যায় যে বাইপোলার আক্রান্ত ২৫-৫০% মানুষ কমপক্ষে একবার হলেও আত্নহত্যার চেষ্টা করে । আত্নহত্যার চিন্তা অসুস্থতার পর্ব গুলোতে আরো ঊচ্চমাত্রায় দেখা যায়। তাই দ্রুত রোগ নির্নয় এবং চিকিৎসা এই প্রবণতাকে প্রতিরোধ করতে পারে।

যদি আপনি আত্নহত্যাপ্রবন হয়ে থাকেন অথবা আপনার মধ্যে গুরুতর বিষাদের উপসর্গ দেখা দিয়ে থাকে, দ্রুত আপনার চিকিৎসক বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন ।


নিজের ক্ষতি
নিজের ক্ষতি করার ইচ্ছা বাইপোলার রোগের একটি অন্যতম উপসর্গ। নিজের মানসিক যন্ত্রনাকে বিক্ষিপ্ত করার জন্য বা নিজের উপর নিয়ন্ত্রন ফিরে পাবার জন্য অনেকে নিজের ক্ষতি করে থাকেন। তবে এটা আত্মহত্যা অথবা আত্মহত্যার প্রবনতার সাথে সম্পর্কিত নয় ।

About the author

Maya Expert Team