বাই-পোলার-ডিজঅর্ডার ব্যক্তিত্ব সংক্রান্ত সমস্যা মনোসামাজিক মানসিক স্বাস্থ্য

বাইপোলার রোগের কারন

বাইপোলার রোগের কারন
বাইপোলার রোগের প্রকৃত কারন এখনো জানা যায়নি। তবে, বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে এই অবস্থা তৈরির জন্য কিছু সংখ্যক বিষয় একসাথে কাজ করে। বিষয়গুলো শারীরিক, পরিবেশগত, এবং সামাজিকতার জটিল মিশ্রন।


মস্তিষ্কে রাসায়নিক অসামঞ্জস্যতা
এটা বিশ্বাস করা হয় যে বাইপোলার রোগ মস্তিষ্কে রাসায়নিক অসামঞ্জস্যতার ফলে হয়। এই রাসায়নিক গুলো মস্তিষ্কের কাজ নিয়ন্ত্রন করে যা নিউরোট্রান্সমিটার নামে পরিচিত এবং নর-এড্রেনালিন, সেরোটোনিন এবং ডোপামিন এর অন্তর্ভূক্ত।

একটি অথবা দুটি নিউরোট্রান্সমিটারের মাত্রায় যদি অসামঞ্জস্যতা থাকে, একজন মানুষের মধ্যে বাইপোলার রোগের কিছু  উপসর্গ দেখা দিতে পারে। উদাহরনস্বরূপ বলা যায়, যখন নর-এড্রেনালিন এর মাত্রা অনেক উচ্চ হয় তখন উন্মত্ততা (ম্যানিয়া) পর্ব ঘটতে পারে এবং বিষাদের পর্বে নর-এড্রেনালিন এর মাত্রা কমে যায়।


জিনতত্ত্ব
এটাও ভাবা হয় যে বাইপোলার রোগের সাথে জিনগত সম্পর্ক রয়েছে, যেহেতু এই অবস্থা রক্ত সম্পর্কের অন্যান্যদের মধ্যেও দেখা যায়। অতএব, এই অবস্থা পরিবারের কোন সদস্যের মধ্যে দেখা দিলে অন্যান্যদের মধ্যেও দেখা দেয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।

তবে, কোন একক জ্বিন বাইপোলার রোগের জন্য দায়ী নয়। কিছু জিনের সমন্বিত প্রভাব এবং পরিবেশগত প্রভাব থেকে এর সূত্রপাত হয় বলে মনে করা হয়।


সূত্রপাত
চাপযুক্ত পরিস্থিতি বাইপোলার রোগের উপসর্গের সূত্রপাত ঘটায়, যেমন

  • সম্পর্কের ভাঙ্গন
  • শারীরিক নির্যাতন বা যৌন নির্যাতনের শিকার হলে, অথবা চরম আবেগময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে
  • প্রচন্ড শোক (কাছের মানুষ অথবা ভালবাসার কেউ মারা গেলে)

এই ঘটনা গুলো বাইপোলার আক্রান্তদের জীবনে যে কোন সময়ে বিষাদ পর্বের সুচনা করতে পারে।

বাইপোলার রোগের সুত্রপাত শারীরিক অসুস্থ্যতা, ঘুমের ব্যঘাত, এবং প্রাত্যহিক জীবনের নানান সমস্যা যেমন টাকার সমস্যা, কাজ অথবা সম্পর্কে সমস্যা ইত্যাদি কারণেও হতে পারে ।

About the author

Maya Expert Team