অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজঅর্ডার মনোসামাজিক মানসিক স্বাস্থ্য

অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজঅর্ডার- কারন

অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজঅর্ডার- কারন
অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজঅর্ডার (OCD) এর উপর অনেক গবেষনা করা হয়ে থাকলেও এর প্রকৃত কারন এখনো সনাক্ত করা হয়নি।

তবে, কিছু ক্ষেত্রে OCD জিনগত, স্নায়ুবিক, আচরনগত, এবং পরিবেশগত বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বয়ে সূত্রপাত হয়।


জিনগত কারন
OCD আক্রান্ত হওয়ার কারন হিসাবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে জিনগত প্রভাব ভুমিকা পালন করে। গবেষনা বলে বলে যে, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত নির্দিষ্ট কিছু জিন দ্বারা সৃষ্ট মস্তিষ্কের গঠনের উপর বিশেষ প্রভাব OCD এর ক্ষেত্রে ভুমিকা রাখে।

যদিও নির্দিষ্ট কোন জিন OCD এর সাথে সম্পর্কিত নয়, কিছু তথ্য প্রমানাদি বলে বংশানুক্রমিক ভাবে OCD চলে আসতে পারে । একজন OCD আক্রান্ত মানুষ যার রক্ত সম্পর্কের কোন আত্মীয়ের OCD রয়েছে, তার OCD তে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সাধারনের তুলনায় প্রায় চার গুন বেশী ।

জিনতত্ত্বীয় এবং পারিবারিক গবেষনায় দেখা যায় OCD এর সাথে আরো কিছু বিষয়ের সম্পর্ক থাকতে পারে, যেমনঃ

  • টিকস (tics) – শরীরের কিছু পেশীর দ্রুত, বারবার, অনিচ্ছাকৃত সংকোচন
  • টুরেটস সিন্ড্রোম (Tourette’s syndrome) – এমন একটি অবস্থা যাতে একজন মানুষ একই কাজ বা একই শব্দ অনবরত করতেই থাকে
  • OCD আক্রান্ত কিছু মানুষের টিকস অথবা টুরেটস সিন্ড্রোম থাকতে পারে।


মস্তিষ্কের অস্বাভাবিকতা
মস্তিষ্কের বিভিন্ন ইমেজিং পরীক্ষা নিয়ে গবেষনায় দেখা যায়, OCD আক্রান্তদের কিছু অস্বাভাবিকতা আছে, যেমন মস্তিষ্কের কিছু অংশে রক্তপ্রবাহ এবং কার্যকারীতা বেড়ে যাওয়া। মস্তিষ্কের যে অংশ তীব্র আবেগ এবং আবেগজনিত প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রন করে, OCD থাকলে মস্তিষ্কের সেই অংশই আক্রান্ত হয়। গবেষণায় আরো দেখা গেছে কগনিটিভ বিহ্যাভিয়ারাল থেরাপী (CBT) অথবা সিলেকটিভ সেরেটোনিন রিআপটেক ইনিহিবিটর (SSRIs) এর মাধ্যমে মস্তিষ্কের সেই অংশের কার্যকারিতা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়।

সেরেটোনিন
সেরেটোনিনও OCD তে ভূমিকা পালন করে। সিরোটোনিন একটি নিউরোট্রান্সমিটার যা মস্তিষ্কের এক কোষ থেকে অন্য কোষে তথ্য প্রেরন করে। শরীরবৃত্তীয় বেশ কিছু বিষয় যেমন, শারীরিক কাজ, মেজাজ, উদ্বেগ, স্মৃতি এবং ঘুম – এসব কিছুকে সিরোটোনিন নিয়ন্ত্রন করে।

এটা নিশ্চিতভাবে যানা যায়নি কিভাবে সেরেটোনিন OCD তে ভূমিকা পালন করে, কিন্তু OCD আক্রান্তদের মধ্যে সিরোটোনিন এর মাত্রা কমে যায়, সেই প্রমান পাওয়া গেছে।

কিছু ঔষধ যা মস্তিষ্কে সেরেটোনিন এর মাত্রা বাড়ায় , যেমন নির্দিষ্ট ধরনের অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, OCD এর চিকিৎসায় কার্যকরী বলে প্রমানিত হয়েছে।


জীবনের কোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
জীবনের গুরুত্বপূর্ন কোন ঘটনা যেমন তীব্র শোকের কোন ঘটনা অথবা পারিবারিক ভাঙ্গন, যাদের OCD হবার সম্ভবনা আছে (যেমন, জ্বিনগত কারন), তাদের মধ্যে OCD এর সূত্রপাত ঘটাতে পারে।

জীবনের বড় কোন ঘটনা OCD এর উপর ব্যপক প্রভাব বিস্তার করতে পারে। উদাহরনস্বরূপ বলা যায়, ভালবাসার কোন মানুষের মৃত্যুর কারনে, তাকে একটা ভয় আচ্ছন্ন করে ফেলতে পারে যে, এবার পরিবারের অন্য কারোরও ক্ষতি হবে।

মানসিক চাপ, যার সুত্রপাত জীবনের নানা ঘটনা থেকে হতে পারে, OCD এর উপসর্গকে আরো জটিল করে তোলে । তবে, মানসিক চাপের কারনে OCD হয় না।


পরিবার এবং বেড়ে উঠা
পরিবারের মধ্যে আপনি কিভাবে বেড়ে উঠছেন, সাধারনত তার সাথে OCD এর কোন সম্পর্ক থাকে না। তবে দেখা যায় যে সব সন্তানকে বাবা মা যদি অতিরিক্ত পরিমানে আগলে রাখে, তাদের OCD হবার সম্ভবনা বেশি থাকে।

পরিবারের মধ্যে OCD আক্রান্ত কেউ থাকলে, এটাও অন্যদের প্রভাবিত করতে পারে। উদাহরনস্বরূপ বলা যায়, একজন OCD আক্রান্ত ব্যাক্তি তার সন্দেহ বাতিকগ্রস্ততার কারনে, তাদের পরিবারের কোন সদস্যকে বার বার একই কাজের কথা জিজ্ঞেস করতে পারে, যেমন ঘরের দরজা বন্ধ করা হয়েছে কিনা।

যদি পরিবারের সদস্যরা সারাক্ষণই OCD আক্রান্ত ব্যাক্তিকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে যে, যা কিছু করা হচ্ছে তার ভালর জন্যই করা হচ্ছে, তাহলে তাদের সাহায্য এবং চিকিৎসা নেয়ার ইচ্ছেকে নষ্ট করে দিতে পারে।

সংক্রামন
OCD আক্রান্ত অনেকেই বিশেষকরে শিশু এবং যুবকরা জানায় যে, কোন একটি সংক্রামনের পর থেকেই তাদের OCD এর সুত্রপাত হয়েছে। এই বিষয়ে একটি মতবাদ বলে যে, কেউ সংক্রমিত হলে শরীরে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, তা মস্তিষ্কের একটি অংশকে প্রভাবিত করতে পারে, যার থেকে OCD হতে পারে।

এই সংক্রমন সরাসরি OCD এর জন্য দায়ী নয়, তবে যেসব বাচ্চারা জিনগত ভাবে OCD এর ঝুকিতে আছে, তাদের মধ্যে বারবার সংক্রমন OCD এর সুত্রপাত ঘটাতে পারে

সংক্রমনের ফলাফল হিসেবে যে OCD এর সুত্রপাত হয়, তা সংক্রমনের এক অথবা দু সপ্তাহের মধ্যে ঘটে থাকে।

About the author

Maya Expert Team