মনোসামাজিক মানসিক স্বাস্থ্য

কিশোর-কিশোরী দের মাঝে বিষণ্ণতা

Written by Maya Expert Team

কিশোর-কিশোরী দের মাঝে বিষণ্ণতা
মাঝে মাঝে মন খারাপ থাকাটা স্বাভাবিক, কিন্তু আপনি কি অনেক সপ্তাহ বা মাস যাবত মন খারাপ করে আছেন? আপনি কি বিমর্ষ বা খিট-খিটে থাকেন এবং এই অনুভূতি কোন ভাবেই দূর হয় না? তাহলে বোধই আপনি বিষণ্ণতাই ভুগছেন। বিষণ্ণতা যে কোন বয়সেই দেখা দিতে পারে এবং কিশোর-কিশোরী দের মাঝে তা অনেক কষ্টের। এই প্রবন্ধটি লেখা হয়েছে যেন আপনি বুঝতে পারেন আপনার বিষণ্ণতা আছে কিনা এবং থাকলে যেন আপনি সাহায্য নিতে পারেন।


মনে রাখতে হবে-
১। বিষণ্ণতা একটি বিশেষ মানসিক অবস্থা যেখানে একজন ব্যাক্তি নিজেকে বিমর্ষ, অসহায়, নিরাশ অথবা খিট-খিটে অনুভব করে।
২। এর ফলে দৈনন্দিন কাজ এবং কৌতূহল হ্রাস পায়। যেমন কেউ যদি খেলাধুলা দেখতে পছন্দ করত তা আর করবে না।
৩। আপনি হয়ত অনেক বেশী বা অনেক কম খাবার খাবেন।
৪। আপনার বল কম থাকবে এবং আপনি ঘুমাতে পারবেন না অথবা বেশী ঘুমাবেন।
৫। আপনার নিজের জীবন অথবা নিজের সম্বন্ধে অসুখী অনুভূতি হবে, জিবিন মূল্যহীন মনে হবে এবং আপনি নিজের ক্ষতি নিজেই করতে চাইবেন।
৬। আপনি যা করেছেন বা করেন নাই তা নিয়ে আপনার অপ্রয়োজনীয় অপরাধবোধ হতে পারে।
৭। আপনার অনির্দিষ্ট শারীরিক রোগ দেখা দিতে পারে অথবা আপনি ব্যাখ্যাতিত ব্যাথা অনুভব করতে পারেন। আপনার মনোযোগ কম থাকবে এবং আপনি আপনার সমস্যা ব্যাখ্যা করতে পারবেন না।


কারা বিষণ্ণতায় ভুগতে পারে-
যে কেউ বিষণ্ণতাই ভুগতে পারে।এইটা আপনার বয়স, জাত, সামাজিক অবস্থা এবং লিঙ্গের উপর নির্ভর করে না। পিতা-মাতার বিচ্ছেদ অথবা স্কুলে বকা খাওয়ার কারনে অনেক কিশোর কিশোরী বিষণ্ণতাই ভুগে।কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে কোন কারন ছাড়াই বিষণ্ণতা দেখা দেয়। উভয় ক্ষেত্রেই বিষণ্ণতা এবং দুঃখী থাকার পার্থক্য নির্ণয় করতে হবে।

কিভাবে বুঝবো আমি বিষণ্ণ না দুঃখী?
মাঝে মাঝে দুঃখী হওয়া স্বাভাবিক কিন্তু এই অবস্থা ২ সপ্তাহের বেশী থাকলে অবশ্যই সাহায্য নিতে হবে। বিষণ্ণতা নির্ণয়ের কোন ডাক্তারি পরীক্ষা নেই যেমন আছে হাড় ভাঙ্গা বা ইনফেকশন এর ক্ষেত্রে। কিন্তু আপনি ডাক্তার বা পরামর্শদাতা এর কাছে জেতে পারেন এবং আপনার বিষণ্ণতা আছে নাকি তা কিছু প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে নির্ণয়ই করা যায়। আপনি নিজের পরিবর্তন গুলো নির্ণয় না করতে পারলেও আপনার আশে পাশের লোকজন বা আত্মীয় রা তা অনুভব করতে পারবেন।

বিষণ্ণতা হলে আমার কি হতে পারে?
১। পড়াশোনা করা কিংবা কাজ করে কঠিন হয়ে পরে।
২। আশে পাশের লোকজনের সাথে মিলিয়ে চলায় অসুভিধা হয়। বন্ধুদের সাথে মানিয়ে চলায় সমস্যা এবং পরিবারের সদস্য দের সাথে খিট-খিটে মেজাজ থাকে।
৩। শারীরিক সমস্যা হতে পারে এবং আপনি অনেক দুর্বল থাকতে পারেন।
৪। অনুভূতি থেকে দূরে থাকার জন্য সিগারেট ধরানো, নেশা করা, ঝুঁকিপূর্ণ যৌনমিলন ইত্যাদি তে আপনি লিপ্ত হতে পারেন।
৫। খিট-খিটে থাকার কারনে এমন কিছু করতে পারেন যার ফলে আপনি সমস্যায় পরতে পারেন যেমন চিৎকার দেওয়া বা জিনিষ পত্র ভাঙ্গা।
৬। অমনোযোগী থাকায় বিপদে পরতে পারেন বা ভুল করতে পারেন।
৭। আত্মহত্যা বা নিজের ক্ষতি করতে পারেন।

মানুষ কেন বিষণ্ণ হয়?
মন খারাপ কোন নির্দিষ্ট কারন নেই। এইটা আপনার আশে পাশের অবস্থার কারনে বা মস্তিষ্কে রাসায়নিক ভারসাম্যহীনতার জন্য হতে পারে। আপনার বুঝতে হবে যে আপনি বিষণ্ণ হলে তা আপনার দোষ না। কিছু কিছু কারন আপনাকে বিষণ্ণ করতে পারে ঃ
১। জেনেটিক-  আপনার পরিবারীর কেউ ক্লিনিক্যাল বিষণ্ণতায় ভুগলে, জেনেটিক কারনে আপনিও ভুগতে পারেন।
২। মৃত্যু- পরিবারের কার মৃত্যু বা বন্ধু হারালে আপনি বিষণ্ণতায় ভুগতে পারেন।
৩। দ্বন্দ্ব- পারিবারিক দ্বন্দ্ব যেমন পিতা-মাতার বিচ্ছেদ অথবা একান্নবর্তী পরিবার ভেঙ্গে যাওয়া।

About the author

Maya Expert Team