খেলার সৃষ্টিশীল উপায় ভাবুন

খেলার ছলে শেখার কিছু উপায়

বাচ্চাকে নানা ধরনের খেলার সুযোগ করে দিন। সেগুলো খুব জটিল বা ব্যয়বহুল হতে হবে এমন নয়।

বাচ্চার সাথে বই নিয়ে বসুন বা তাকে গান বা ছড়া শোনান। এতে করে তার ভাষা এবং চিন্তার আদান-প্রদানের দক্ষতা বাড়বে।

বাসায় বা হাতের নাগালে আছে এমন জিনিস ব্যবহার করুন। নিচের উপায়গুলো কাজে লাগাতে পারেন।

নিজেও অংশ নিন। খেলনার চাইতে আপনার কাছ থেকেই শিশুটি বেশি শিখবে।

যে কোনো বয়স

পানি নিয়ে খেলা

যে কোনো বয়সের বাচ্চাই পানি নিয়ে খেলতে পছন্দ করে। সেটা গোসলের চৌবাচ্চা হোক, আর প্যাডলিং পুল, কিংবা প্লাস্টিকের বড় গামলা ।

প্লাস্টিক বোতল ব্যবহার করে একজন আরেকজনের গায়ে পানি ঢালতে পারেন কিংবা পানি ছিটাতে পারেন। এছাড়াও ভেঙ্গে যাবে না এমন অন্য কিছু যেমন প্লাস্টিকের নল, স্পঞ্জ, ঝাঁঝরি, ফানেল, চামচ ইত্যাদিও ব্যবহার করতে পারেন। বাচ্চার সাথে সাথে আপনিও যেহেতু ভিজে যাবেন, সুতরাং নিজেকে যতটুকু সম্ভব সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করুন।

বাচ্চাকে কোনো অবস্থাতেই পানিতে একা ছেড়ে যাবেন না। একটা ছোটো বাচ্চা ৫ সেমি ( ২ ইঞ্চি) পানিতেও ডুবে যেতে পারে।

বই পড়া

একদম ছোটো বয়স থেকেই বাচ্চাকে পাশে বসিয়ে বই দেখাতে পারেন বা পড়ে শোনাতে পারেন। লাইন ধরে পড়তে হবে এমন নয়, বরং কী দেখছেন তা নিয়ে বাচ্চার সাথে কথা বলুন। একদম নবজাতক বাচ্চারাও ছবিওয়ালা বই দেখতে পছন্দ করে।

স্থানীয় বইয়ের দোকানগুলোতে বাচ্চাদের বিভিন্ন ধরনের বই থাকে। কেউ কেউ বিভিন্ন বয়সের বাচ্চাদের বয়স অনুযায়ী গল্পের বই রাখে। প্রতিদিন দশ মিনিটের জন্য হলেও যদি একটা ছবিওয়ালা বই নিয়ে বাচ্চার সাথে সময় কাটান, তাতেও বাচ্চার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিকাশ সাধন হয় এবং বইয়ের প্রতি তাদের আগ্রহ তৈরি হয়।

৪ মাস বয়স থেকে

ঝুনঝুন শব্দ

প্লাস্টিকের মুখ-ঘুরিয়ে খোলা যায় এমন বোতলে কিছু শুকনো ডাল বা মটর দানা রাখুন। বাচ্চার সামনে সেটা নাড়িয়ে শব্দ করুন এবং বাচ্চাও আপনাকে দেখে শিখবে কীভাবে সেটা নাড়িয়ে শব্দ তৈরি করতে হয়।

কিছু কিছু শুকনা মটর বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে, কিংবা বাচ্চা ভুল করে গিলে ফেললে শ্বাসনালীতে আটকে যেতে পারে। সেজন্য বোতলের মুখ ভালোভাবে সিল করে দিন যাতে সেগুলো বের হয়ে না যায়।

১৮ মাস বয়স থেকে

ময়দার তাল দিয়ে খেলা

আপনি নিজেই খেলা জন্য ময়দার তাল বানিয়ে নিতে পারেন। এক কাপ পানি, এক কাপ ময়দা, ২ টেবিল চামচ টারটার ক্রিম, আধা কাপ লবণ, এক টেবিল চামচ রান্নার তেল আর কিছু খাবার রঙ একটি সসপ্যানে নিয়ে তাল বানিয়ে নিন। দলাটি শক্ত না হওয়া পর্যন্ত মধ্যম আঁচে নাড়তে থাকুন। ঠাণ্ডা হবার পর শিশুকে দেখান সেটা দিয়ে সে কীভাবে নানা আকার ও আকৃতির জিনিস বানাতে পারে। প্লাস্টিকের বাক্সে করে এটাকে ফ্রিজে রেখে দিন যাতে পরেও ব্যবহার করা যায়।

রান্নাবাড়ি খেলা

একটা পাত্র আর চামচ নিয়ে, সেই পাত্রের মধ্যে ‘সত্যিকারের’ কিছু উপকরণ, যেমন ময়দা, ডাল, চাল, চিনি, কাস্টার্ড পাউডার ইত্যাদি নিয়ে বাচ্চার সাথে রান্না রান্না খেলতে পারেন। আপনি ও আপনার বাচ্চা মিলে সেগুলো পানি দিয়ে মিশিয়ে রান্না করার মতো ভান করতে পারেন।

ছবি আঁকা ও রঙের ব্যবহার

ক্রেয়ন, ফেল্ট টিপ বা পাউডার রঙ ব্যবহার করুন। পানি ব্যবহার করে আপনি পাউডার রঙকে গাঢ় করে নিতে পারেন।

প্রথমেই বাচ্চাকে দেখিয়ে দিন কীভাবে সে ক্রেয়ন বা রঙ করার তুলি ধরবে। হাতের কাছে কাগজ না থাকলে সিরিয়াল বাক্সের ভেতরের অংশ বা পুরনো ব্যবহার করা খামও কাজে লাগাতে পারেন।

কাগজের ব্যাগ বা খাম দিয়ে পাপেট বানানো

কাগজের ব্যাগ বা পুরনো খাম কেটে হাতে নিয়ে খেলার পাপেট বানাতে পারেন। হরেক রকম চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে কাগজের ওপর চেহারা আঁকুন বা কোনো কিছুর ছবি আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিন। পাপেটগুলোকে পরস্পর কথা বলান, কিংবা বাচ্চার সাথে বা বাচ্চাকে দিয়ে কথা বলান।

হাঁটা

বাচ্চা যখনি একটু একটু হাঁটতে শিখবে, তাকে আপনার সাথে হাঁটাতে উৎসাহ দিন। নিরাপত্তার জন্য তাকে ধরে রাখতে পারেন। তাতে হয়তো আপনার হাঁটার গতি ধীর হয়ে যাবে, কিন্তু দুজনে মিলে বেশ ভালোই ব্যায়াম হবে।

২৪ মাস বয়স থেকে

সাজ-পোশাকের খেলা

পুরনো হ্যাট, গ্লাভস, স্কার্ফ, গজ কাপড়ের টুকরা, টি-টাওয়েল, পর্দা, রাতের পোশাক এসব সংগ্রহ করুন। বন্ধু বা আত্মীয়দের কাছ থেকে ফেলে দেয়ার মতো পুরনো কাপড় জোগাড় করুন বা এমন কাপড় কিনে রাখুন।

দেখে নিন কোনো ছেঁড়া সুতা, তার বা ফিতা বের হয়ে আছে কি না যা বাচ্চা বা আপনার গলায় পেঁচিয়ে বা অন্যভাবে কোন বিপদের কারণ হতে পারে।

কাগজের প্লেট বা সিরিয়াল বাক্সের পেছনের অংশ দিয়ে মুখোশ বানিয়ে নিতে পারেন। চোখের অংশটা ফুটো করে নিন এবং সুতা বা তার দিয়ে মুখে বেঁধে নিন।

টিভি

দুই বছর বয়সের পর থেকে বাচ্চার দিনে টেলিভিশন দেখার সময় দুই ঘণ্টা বা তার কম হলে ভাল। আর খুব ভাল হয় যদি দুই বছর বয়সের আগে বাচ্চা মোটেও টিভি না দেখে। তবে যে সময় বাচ্চা টেলিভিশন দেখবে, সে সময়টুকু সে যেমন আনন্দ পাবে, তেমনি আপনিও অন্য কাজ সেরে নেবার সুযোগ পাবেন। কিন্তু তাই বলে সারাক্ষণই যেন বাচ্চা টিভি না দেখে। আপনার বাচ্চা টিভিতে কি দেখছে তাও খেয়াল রাখুন। সম্ভব হলে মাঝে মাঝে আপনিও বাচ্চার সাথে দুখুন এবং যা দেখছেন তা নিয়ে বাচ্চার সাথে আলাপ করুন।

দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য টেলিভিশন প্রযোজ্য নয়।

৩০ মাস বয়স থেকে

মডেল তৈরি করা

কার্ডবোর্ডের বাক্স, কার্টন, দইয়ের বাক্স, দুধের বোতলের মুখ এরকম হরেক জিনিস যা আপনার মাথায় আসে সেগুলো সংগ্রহ করুন। বাচ্চাদের জন্য ব্যবহার করা সহজ এমন আঠা কিনে দিন এবং সেসব জিনিস দিয়ে বাচ্চাকে নিজের মন মতো বিভিন্ন জিনিস তৈরি করতে সাহায্য করুন।