প্লেয়িং ফর ডেভলোপমেনট মনোসামাজিক সন্তান প্রতিপালনসংক্রান্ত সকল জিজ্ঞাসা সন্তান লালনপালন

বাচ্চাকে সক্রিয় রাখুন

Written by Maya Expert Team

জন্মের পর থেকেই শিশুকে শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখা জরুরি। শিশু হামাগুড়ি দিতে শেখার আগেই তাকে কোনো কিছু ধরার জন্য হাত বাড়াতে ও কোনো জিনিস ধরতে শেখান, টানতে ও ধাক্কা দিতে শেখান, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নড়াচড়া করতে শেখান। এগুলো সে দিনের যেকোনো সময়ই অনুশীলন করতে পারে, সেটা হতে পারে যখন সে মাটিতে বসে আপনার সাথে খেলে, আবার যখন সে আপনার কোলে শুয়ে থাকে।

যেসব শিশু হাঁটতে শিখে গেছে তাদের অবশ্যই সারাদিনে অন্তত ১৮০ মিনিট (তিন ঘণ্টা) শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা উচিত। ঘর ও বাইরে এবং দিনের বিভিন্ন সময়ে মিলিয়ে তা হতে পারে।

শিশুরা তাদের শরীর ব্যবহার করে হামাগুড়ি দিতে, হাঁটতে, দৌড়াতে ও লাফাতে পছন্দ করে। আপনি যত তাদেরকে শক্তি ব্যয়ের সুযোগ দেবেন, তারা ততই খুশি হবে।

হয়তো খেয়াল করবেন দিনের কিছু সময় কর্মচঞ্চলতায় কাটানোর পর তারা আরাম করে ঘুমায়, আর সবকিছুই সহজভাবে নিচ্ছে। খেলার মধ্য দিয়ে শিশুকে সক্রিয় থাকতে দিয়ে আপনি আসলে তার পেশীর বিকাশ এবং সাধারণ সুস্থতায় সাহায্য করছেন। শিশু অবস্থায় তৈরি অভ্যাস বড় হবার পরও বলবৎ থাকে এবং তাকে সুস্থ ও ফিট থাকতে সাহায্য করে।

শিশুকে কর্মচঞ্চল রাখা বিষয়ে কিছু পরামর্শ:

  • বাচ্চাকে সোজা করে শুইয়ে দিন যাতে সে পা ছুড়তে পারে।
  • হামাগুড়ি দিতে শিখে গেলে বাচ্চাকে মেঝেতে হামাগুড়ি দিতে দিন। তবে, নিরাপত্তার দিকটিও লক্ষ্য রাখবেন।
  • বাচ্চাকে সবসময় বাগি-তে বহন না করে মাঝে মাঝে আপনার সাথে হাঁটতে দিন
  • একটু বড় বাচ্চারা পার্কে খেলতে পছন্দ করে, কারণ সেখানে তারা বেয়ে উঠা, দোল খায়ওয়া কিংবা ইচ্ছামতো দৌড়ানোর সুযোগ পায়।
  • যেসব খেলনা হাতে ধরে বিভিন্ন দিকে নড়াচড়া করানো যায়, সেধরনের খেলনা বাচ্চার সমন্বয় করার ক্ষমতা এবং হাতের পেশীকে সবল করতে সহায়ক হয়।
  • স্থানীয় অবকাশ কেন্দ্রগুলোতে বাচ্চার সাথে অভিভাবকদের খেলার বিভিন্ন সুযোগ ও উপাদান থাকে।
  • একদম ছোটো বয়স থেকেই বাচ্চাকে সাঁতার কাটাতে পারেন। তাদের রোগ প্রতিরোধক টিকার কোর্স শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।

 

About the author

Maya Expert Team