আঘাত করা, কামড় দেয়া, লাথি মারা, মারামারি করা

আঘাত করা, কামড় দেয়া, লাথি মারা, মারামারি করা
বেশিরভাগ ছোটো বাচ্চাই সাধারণত কোনো কারণ ছাড়াই অন্য বাচ্চাকে আঘাত করে, কামড় দেয় বা ধাক্কা-ধাক্কি করে। এমনটা তারা কৌতূহলের বশেই করে এবং তারা বোঝেনা যে আঘাত করা বা চুল ধরে টানায় ব্যথা লাগে।

কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনার বাচ্চা বড় হয়ে আক্রমণাত্মক হবে। এগুলো যে গ্রহণযোগ্য আচরণ নয় সেটা আপনার বাচ্চাকে শেখানোর অনেক উপায় আছে:

  • বাচ্চাকে পাল্টা আঘাত করবেন না, কামড় দেবেন না কিংবা লাথি মারবেন না। এতে বাচ্চা ভাবতে পারে যে এসব আচরণ দোষের কিছু নয়। উল্টো। তাদের বোঝান যে এসব আচরণে ব্যথা পাওয়া যায় এবং এগুলো গ্রহণযোগ্য আচরণ নয়।
  • বাচ্চাকে ওই পরিস্থিতি থেকে সরিয়ে আনুন। যদি অন্য বাচ্চা সামনে থাকে তাহলে বলুন যে আপনি চেলে যাবেন, নয়তো আপনার বাচ্চার আচরণের উন্নতি না হলে সেই বাচ্চাকে কিছুক্ষণের জন্য চলে যেতে অনুরোধ করুন। এই পদ্ধতি কাজে লাগাতে চাইলে এটা করার জন্য মানসিকভাবে আপনাকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
  • বাচ্চাকে অন্য ঘরে পাঠিয়ে দিন। যদি আপনি বাসায় থাকেন তাহলে কিছু সময়ের জন্য এই পদ্ধতিটি কাজে লাগান। তবে, একা একা বাচ্চাকে রাখা কতটা নিরাপদ সেটাও নিশ্চিত হয়ে নিন।
  • বাচ্চার সাথে কথা বলুন। বাচ্চারা অনেক সময় মনক্ষুণ্ণ থাকে বা অনিরাপদ বোধ করে, এবং তাদের সেই অনুভূতি তারা আক্রমণাত্মক আচরণ দিয়ে প্রকাশ করে। তাদের উদ্বেগের কারণ বের করতে পারাই সমস্যা সমাধানের প্রথম ধাপ।
  • বাচ্চাকে বোঝান যে আপনি তাকে ভালবাসেন, কিন্তু তার এই আচরণগুলো আপনার পছন্দ হচ্ছে না। হয়তো সে ভালোবাসার চাহিদা থেকেই এরকম আচরণ করছে। যখন সে ভালো কিছু করছে তাকে প্রশংসা করুন, আর যখন দেখবেন সে বাজে আচরণ করছে না, তাকে যথেষ্ট আদর দিন।
  • বাচ্চার অনুভূতি প্রকাশের জন্য অন্য কোনো উপায় বের করুন। তাকে খোলা জায়গায়, যেমন কোনো পার্কে নিয়ে যান এবং চিৎকার করতে করতে দৌড়াতে বলুন। বাচ্চা যদি বোঝে আপনি তার অনুভূতির জায়গাটা বুঝতে পারছেন, তাহলে আক্রমণাত্মক না হয়েও সে তার অনুভূতি প্রকাশ করতে শিখবে। আপনি বলতে পারেন, “আমি জানি যে তোমার অনেক রাগ হচ্ছে কারণ … ” । আপনি যদি বোঝাতে পারেন যে তার হতাশার জায়গাটা আপনিও বুঝতে পারছেন, তাহলে সেও তার বিভিন্ন অনুভূতিকে আলাদা করতে পারবে, এবং নিজে থেকেই সে বিষয়ে ভাবতে পারবে।
  • অভিজ্ঞ কারো সাথে কথা বলুন। যদি আপনি আপনার বাচ্চার আচরণের ব্যাপারে প্রচণ্ড চিন্তায় থাকেন, তাহলে ডাক্তার বা স্বাস্থ্য পরিদর্শকের সাথে কথা বলুন।