বদমেজাজ

বদমেজাজ
সাধারণত ১৮ মাস বয়সের পর থেকে বাচ্চাদের মধ্যে খিটখিটে মেজাজের প্রবনতা দেখা দেয় এবং এটা এ বয়সের জন্য অস্বাভাবিক নয়। দুই বছর বয়সের প্রতি পাঁচ জন শিশুর একজনের প্রতিদিন এরকম হুটহাট মেজাজ খারাপের সমস্যা হয়। এর একটা কারণ হচ্ছে দুই বয়সি বাচ্চারা তাদের অনুভূতিকে প্রকাশ করতে চায়, কিন্তু সেটা সঠিকভাবে পারে না।

এতে করে তারা হতাশ বোধ করে এবং তাদের এই হতাশা ক্রোধের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। একজন শিশু যখন আরও স্পষ্টভাবে কথা বলতে শিখে যায়, তার মেজাজ খারাপ হবার সমস্যাও কমে যায়। চার বছর হয়ে গেলে এই বদমেজাজের সমস্যা প্রায় দেখা যায় না বললেই চলে।

এরকম বদমেজাজের সমস্যার সাথে কিভাবে খাপ খাওয়াতে পারেন তার কিছু পরামর্শ:

  • তার মেজাজ কেন খারাপ হচ্ছে তা বোঝার চেষ্টা করুন। যদি ক্ষুধা লাগার কারণে হয় তাহলে তো এর সমাধানও সহজ। হয়তো অন্য বাচ্চার উপস্থিতিতে সে হতাশা বা ঈর্ষা বোধ করতে পারে। হয়তো আপনার কাছ থেকে সে যতটা পাচ্ছে তার চেয়ে আরও বেশি সময়, মনোযোগ আর ভালোবাসা আশা করে।
  • বাচ্চার রাগকে বুঝুন এবং স্বাভাবিক ভাবে নিন। আপনিও হয়তো কখনো কখনো কোনো অনুভূতি রাগ দিয়ে প্রকাশ করেন।
  • তার মন অন্যদিকে ফেরান। যখনি মনে হবে বাচ্চা কোনোকিছু নিয়ে রেগে যাচ্ছে, সাথে সাথে তাকে অন্য কিছু নিয়ে ব্যস্ত করার চেষ্টা করুন। এমন হতে পারে যে আপনি জানালার বাইরের কোনো একটা দৃশ্য তাকে দেখালেন। যেমন, বলতে পারেন, “দ্যাখো, একটা বেড়াল! ” নিজের কণ্ঠকে যতটা সম্ভব বিস্মিত আর মজার করার চেষ্টা করুন।
  • মেজাজ খারাপ ঠিক হতে সময় দিন। আপনি যদি উল্টো রাগ করেন বা চেচামেচি করেন তাতে বাচ্চার রাগ ঠিক হবে না। আশেপাশের মানুষ কী বলে সেদিকে নজর না দিয়ে বরং নিজে শান্ত থাকার চেষ্টা করুন। আপনিও এতে সমানভাবে তাল মেলালে লাভ হবে না। যদি কোনো কিছুতে আপনি ‘না’ বলেই থাকেন, তাহলে মন বদলের দরকার নেই বা বাচ্চার মেজাজ ঠিক করার জন্য ‘হ্যাঁ’ বলবেন না। কারণ, বাচ্চাকে এটা ভাবতে দেয়া যাবে না যে সে কিছু পেতে চাইলে মেজাজ খারাপ করলেই কাজ হয়ে যাবে। একই কারণে বাচ্চাকে ঘুষ বা চকলেট দিলেও কোনো লাভ হবে না। যদি বাসায় থাকেন তাহলে বাচ্চাকে রেখে অন্য ঘরে চলে যান। কিন্তু আগে দেখে নিন তার নিজেকে আঘাত করার কোনো সম্ভাবনা আছে কি না।
  • বাচ্চাকে নিয়ে কেনাকাটা করতে যাবার সময় এরকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকুন। কখনো কখনো দোকানের ভেতরেই বাচ্চা কোনোকিছু নিয়ে রাগারাগি শুরু করতে পারে। এটা আপনার জন্য বিব্রতকর হতে পারে এবং সে কারণে নিজেকে ঠিক রাখা হয়তো আপনার জন্য কঠিন হবে। কেনাকাটা অল্প সময়ে সারুন। প্রথমে একটা – দুইটা জিনিস কিনতে যাবার সময় ওকে সাথে নিন। কোন জিনিসটি কেনা প্রয়োজন সে ব্যাপারে তার সাথে আগে আলাপ করুন এবং সম্ভব হলে বাচ্চার সহযোগিতা নিন।
  • শান্ত না হওয়া পর্যন্ত বাচ্চাকে শক্ত করে ধরে রাখুন। কোনো কোনো অভিভাবকের কাছে এটি বেশ কাজে দেয়, কিন্তু বাচ্চা রাগে হাতপা ছুড়তে থাকলে এটা কঠিন। যদি এমন হয় বাচ্চা রেগে না গিয়ে বরং মন খারাপ করেছে, এবং আপনি শান্তভাবে কথা বলে তাকে আশ্বস্ত করতে পারছেন তখন এটা বেশি কাজে দেবে।