ডিলিং উইথ ডিফিকাল্ট বেহেভিওর মনোসামাজিক শিশুকে সামলানো সন্তান লালনপালন

বাচ্চার আচরণ সামাল দিতে হাঁপিয়ে উঠছেন?

বাচ্চার আচরণ সামাল দিতে হাঁপিয়ে উঠছেন?
কোনো অভিভাবকই সব দিক থেকে নিখুঁত হয় না। প্রত্যেক বাবা-মারই খারাপ দিন যায়, এবং কখনো কখনো এমনও হয় যে একটার পর একটা ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে দেয়।

বেশিরভাগ শিশুই নির্দিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে অস্বস্তি বোধ করে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী সমস্যা হয় জামা- কাপড়, খাওয়া আর ঘুমাতে যাওয়া নিয়ে।

আপনি যদি ক্লান্ত হন বা গম্ভীর থাকেন, কিংবা আপনার শিশু ক্লান্ত বা দুরন্ত হয়, তাহলে আপনাদের সারাটা দিন একসাথে ভাল যাবে না। দুজনেই হয়তো সমানে তর্ক করতে থাকবেন। এমনকি খুব ছোটোখাটো বিষয়ও আপনার মেজাজ খারাপ করে দিতে পারে। আপনি যদি চাকরি করেন, এবং যেটুকু সময় আপনি বাচ্চাকে দেন তার পুরোটা যদি রাগারাগিতেই কেটে যায় তাহলে সেটা বেশ হতাশাজনক।

বাচ্চা যদি বোঝে তার কারণে আপনি এরকম বিপর্যস্ত হচ্ছেন, তাহলে তার আচরণ আরও খারাপ হতে থাকবে। আপনাকে বিপর্যস্ত করার জন্য সে তখন ইচ্ছা করেই হয়তো সবকিছু নিয়ে সমস্যা তৈরি করবে। নিচের পরামর্শগুলো আপনার জন্য সহায়ক হতে পারে:

সময়সূচীতে পরিবর্তন আনুন। আপনার জন্য সময় খারাপ হলে রুটিনে একটু অদল-বদল করে অথবা যেভাবে সমস্যাগুলোকে সামলাতে চেষ্টা করছেন তাতে কিছু পরিবর্তন আনলেই খারাপ ব্যবহারের এই চক্র বন্ধ করতে তা যথেষ্ট হতে পারে। যদি কোনো নির্দিষ্ট কাজের সময়ই রাগারাগি শুরু হয় তাহলে তার সময় পাল্টে দেবার চেষ্টা করুন। বাচ্চা যখন ক্লান্ত বা ক্ষুধার্ত নয়, কিংবা যখন সে বেশ খোশমেজাজে থাকে, তখন কঠিন কাজগুলো করার চেষ্টা করুন। যেমন, নাস্তার পরে তার রাতে ঘুমানোর কাপড় পাল্টে দিন, কিংবা দিনের যে সময় দুপুরের খাবার খান তার আগেই খেতে বসুন।

আপনার বাচ্চা উপভোগ করে এমন কাজগুলো একসাথে করার চেষ্টা করুন। সেটা যে বিশেষ বা দামী কিছু হতে হবে এমন নয়। সাঁতার কাটতে যান, লাইব্রেরিতে যান কিংবা তাকে নিয়ে পার্কে খেলতে যান। আপনা বাচ্চাকে বুঝতে দিন যে সে খুশি হলে আপনিও খুশি হন। তাহলে সে এটাও বুঝবে যে রেগে থাকা বাব-মার চাইতে হাসি-খুশি বাবা-মার সাথে সময় কাটানো বেশি আনন্দের।

নিজেই একবার চিন্তা করে দেখুন সবসময় রাগারাগি করে আসলে কোনো লাভ হচ্ছে কি না। কখনো কখনো আপনার রাগ দেখানো কিংবা বাচ্চাকে ‘না’ বলা কাজে দিতে পারে, কিন্তু সবসময় নয়।

দুঃখ প্রকাশ করুন। যখন নিজের ক্লান্তি বা বিপর্যস্ততার কারণে মেজাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন, বাচ্চার কাছে ক্ষমা চান। এতে দুজনেরই ভালো লাগবে।

মনে রাখতে হবে যে সব বাচ্চা এক নয়। কেই চুপচাপ বসে থাকতে পছন্দ করে, কেউ সবকিছুতেই প্রচণ্ড কৌতূহলী থাকে এবং ঘুরে ঘুরে দেখতে চায়। আপনার বাচ্চা যদি দুরন্ত হয়, তাহলে তাকে নিরাপদে নিজের মতো করে সবকিছু দেখার সুযোগ দিন।

এটাও মনে রাখতে হবে যে আপনি এবং আপনার সঙ্গীর পারস্পরিক আচরণও কিন্তু বাচ্চার ওপর প্রভাব ফেলে। যদি আপনার ও আপনার সঙ্গীর মধ্যে কোনো কারণে খারাপ সময় যায়, নাম প্রকাশ না করেই সেটা নিয়ে মায়া কম্যুনিটিতে কথা বলুন এবং সাহায্যের জন্য পরামর্শ নিন। যদি আপনার সঙ্গী বা পরিবারের আর কারো দ্বারা আপনি ব্যবহারে বা শারীরিকভাবে নির্যাতিত হন, সেজন্য সাহায্য নিন। মায়া ভয়েসে আপনার কথা জানান। আপনারই মতো একই অবস্থায় আছে বা ছিলো, এমন কেউ আপনাকে হয়ত বলতে পারবেন কীভাবে এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারেন।

ছোটো বাচ্চা তো এখনো শিখছে। তিন বছরের শিশুরা সবসময় বোঝেনা বা মনে রাখতে পারে না তাদের কোনটা করা উচিত আর কোনটা উচিত নয়। এমনকি তিন বছর পার হয়ে গেলেও বাচ্চার পক্ষে সবকিছু মনে রেখে চলা কঠিন।

কেউই নিখুঁত নয়, না আপনি না আপনার বাচ্চা। সুতরাং, খুব বেশী কিছু আশা করবেন না।

নিজের দিকেও খেয়াল রাখুন। বাচ্চার দেখাশোনা করা শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রচণ্ড ক্লান্তিকর হতে পারে। নিজের জন্য কিছু সময় বের করতে পারলে হয়তো আপনার ভালো লাগবে। রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ুন, কিংবা আপনার অনুভূতিগুলো কারো সাথে শেয়ার করুন।


কথা বলুন
অন্যদের সাথে, বিশেষ করে বাবা-মা’র সাথে কথা বললে ও সময় কাটালেও অনেকসময় ভালো বোধ হয়। কখনো কখনো অন্য অভিভাবকেরাই পরিস্থিতিগুলো বোঝে। তাদেরকে দেখে হয়তো বাইরে থেকে মনে হয় তারা অনেক শান্ত আর দক্ষ (হয়তো তারাও আপনাকে দেখে তাই ভাবে), কিন্তু তারাও হয়তো আপনার মতোই রাগারাগি করে আর হতাশ থাকে।

আপনার এলাকার আর কোনো অভিভাবকের সাথে যদি আপনার পরিচয় না থাকে, তাহলে আপনার স্বাস্থ্য পরিদর্শকের সাথে কথা বলুন। তারা হয়তো আপনাকে এরকম কোনো বাবা-মা’র সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে পারবেন যারা আপনারই মতো পরিস্থিতি পার করছেন।

স্থানীয় অভিভাবক সংঘের সাথে আলাপ করে দেখতে পারেন। মায়া ভয়েসেও আপনার সে সুযোগ রয়েছে। সবাই যে দলের মধ্যে মন খুলে কথা বলবে তা নয়, কিন্তু সেখান থেকে অনেকের সাথেই আপনার পরিচয় বা বন্ধুত্ব হতে পারে, যাদের সাথে একান্তে কথা বলতে পারেন বা আপনার বাচ্চার সমবয়সি বাচ্চা থাকলে তারাও একসাথে সময় কাটাতে পারে। যদি প্রথম দলে আপনি কোনো সহায়তা না পান, তাহলে দ্বিতীয় আরেকটি দলে চেষ্টা করতে পারেন।

যদি সবদিনই খারাপ যায় আর আপনার মনে হয় যে আপনি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছেন না, তাহলে সাহায্য নিন। স্বাস্থ্য পরিদর্শকের সাথে কথা বলুন কিংবা হেল্পলাইনে ফোন দিন। আপনি কিসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন সেটা বুঝতে পারবে এমন কারো সাথে কথা বলতে পারলে আপনার সমস্যা সমাধানের প্রথম ধাপটি সহজ হয়ে যাবে।

গোপনীয় বিষয়ে সাহায্য ও পরামর্শ
কখনো কখনো আপনার অন্য সমস্যাও থাকতে পারে। প্রচণ্ড বিপর্যস্ত অবস্থায় কেবল বাচ্চার মুখের দিকে চেয়ে হাসি-খুশি থাকাটা আপনার জন্য অসম্ভব হতে পারে। তেমন হলে আপনি যাদের সাথে একান্তে কথা বলতে পারেন:

  • ডাক্তার
  • আপনার নির্দিষ্ট সেবিকা
  • মনোচিকিৎসক
  • নাম প্রকাশ না করে মায়া আপায়

আরও তথ্যের জন্য পড়ুন:

দুরন্ত বাচ্চার সাথে মানিয়ে নেয়া

বিষণ্ণ বোধ করছেন?

About the author

Maya Expert Team