বাচ্চাদের আচরণগত সমস্যার কারন

বাচ্চাদের আচরণগত সমস্যার কারন
আচরণের ভিন্নতা নিয়ে আদিকাল থেকেই মানুষের বিভিন্ন রকম ধ্যান-ধারনা আছে। শিশুদের ভালো আর খারাপ আচরন নিয়েও নানারকমের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে । এটা খুব স্বাভাবিক যে আপনার পরিবারের কাছে যে ধরনের আচরন খারাপ মনে হচ্ছে, তা অন্য আরেকটি পরিবারের ক্ষেত্রে তা স্বাভাবিক মনে হতে পারে। আবার এর উল্টোটাও ঘটতে পারে।

আপনার বর্তমান অবস্থান ও পরিস্থিতির উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। আপনার বর্তমান জীবনধারন ঠিক করে দেবে আপনি আপনার শিশুর আচরণকে কিভাবে নিচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, অনেক বাড়িতেই শিশুদের মাঝে বাড়ির জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখার প্রবণতা দেখা যায়। বাড়িতে খুব বেশি জায়গা না থাকলে শিশুদের এমন আচরণের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়া কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে।

শিশুদের আচরণ নিয়ে অভিভাবকদের মাঝেও বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কিছু অভিভাবক প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে অনেকটাই কঠোর হয়ে উঠেন। আবার অনেক অভিভাবক ছেলেমেয়েদের আচরনকে ধৈর্য্য নিয়ে বিচার করেন।

আপনার শিশুর চরিত্র কেমন তার উপরও অনেক কিছু নির্ভর করে। যেমন কিছু শিশু হইচই করে বাবা-মা’র জীবনকে অসহনীয় করে তুলতে পারে। আবার অনেক শিশুর মাঝে মনযোগ আকর্ষন করার একটা প্রবনতা দেখা যায়। এর বাইরে এমন অনেক শিশু আছে যারা নিজেদের সবার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখতে চায়।

যে সব সম্ভাব্য কারনে শিশুদের আচরণে সমস্যা দেখা দিতে পারে

নানাবিধ কারনে বাচ্চাদের আচরণে সমস্যা দেখা যায়। এখানে কয়েকটি সম্ভাব্য কারন তুলে ধরা হলঃ

পরিবারে বিভিন্ন ঘটনা যেমন, নতুন শিশুর জন্ম নেয়া, কারও দুর্ঘটনা বা মৃত্যু, বাড়ি বদল, শিশুর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা লোককে সরিয়ে দেয়া, স্কুলে ভর্তি হওয়া বা এসবের চেয়েও সামান্য ঘটনা শিশুদের আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক শিশুর জন্য এই ধরণের পরিবর্তনকে মেনে নেয়া কষ্টকর হয়ে যায়।

পরিবারে কী ধরণের পরিবেশ বিরাজ করছে তা নিয়ে সতর্ক থাকুন। কারন যখন আপনি রেগে থাকবেন বা আপনার পরিবারের কোন সমস্যা দেখা দিবে তখন শিশুরা খুব দ্রুত তা টের পাবে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে আপনার শিশুর সাথে মানিয়ে নিতে না পারলে শিশুর কাছ থেকে খারাপ আচরণ পেতে পারেন। এসময় নিজেকে দোষ দেবেন না, পাশাপাশি শিশুদের কথাও মাথায় রাখতে হবে। যেমন আচরণই করুক না কেন কোনভাবেই শিশুদের কথায় প্রতিক্রিয়া দেখানো যাবে না।

শিশুর জন্মের পর থেকেই আপনাকে বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। আর সেই পরিস্থিতিগুলোয় আপনি কেমনভাবে আচরণ করছেন তা একদম ছোট থেকেই শিশুদের মাথায় থেকে যাবে। আর এই আচরন দেখে আপনার শিশুও একধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আপনি হয়তো বাইরে বাজার করতে যাচ্ছেন, তখন আপনার শিশু আপনার সাথে যাবার জন্য বায়না ধরল বা কান্নাকাটি শুরু করল। আপনি হয়ত তখন চকলেট খাইয়ে শিশুকে শান্ত করলেন। কিন্তু এমনটা একবার হলে পরে আপনি যখনই বাজার করতে যাবেন তখনই শিশু চকলেটের জন্য আবদার শুরু করবে। ।

শিশুরা আপনার কতটুকু মনযোগ চাইছে তা বোঝার চেষ্টা করুন। শিশুটি হয়ত আপনার দৃষ্টি আকর্ষন করতে তার নিজের মত একটা উপায় বের করেছে। সেই উপায় যে সবসময় ভাল হবে, এমন না। এমনও হতে পারে আপনার শিশু একা বোধ করায় বা আদর পাওয়ার জন্য আপনাকে রাতে ঘুম থেকে উঠিয়ে দিচ্ছে। বিষয়টি আপনার সাময়িক শান্তিতে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। কিন্তু এই অবস্থায় আপনাকে শিশুর সমস্যাটাকে গুরুত্ব দিয়ে অনুভব করার চেষ্টা করুন। যাচাই করে দেখুন, শিশু যা চাইছে তা আসলেই তার প্রয়োজন কিনা। ভাল আচরণ করলে শিশুর প্রতি মনযোগ বাড়িয়ে দিন। এতে শিশু পরবর্তীতে ভাল আচরণ করতে আগ্রহী হয়ে উঠবে। আর যদি শিশুরা খারাপ বা বিরূপ আচরণ করে তাহলে তাদেরকে বুঝিয়ে দিতে হবে তার প্রতি আপনি কম খেয়াল রাখছেন। যাতে শিশুটি তার আচরণ ঠিক করার ব্যাপারটি নিজে থেকে অনুভব করে।

আপনার শিশুর আচরণ সবসময় একরকম থাকবে না। শিশুরা কেন আর কোন পরিস্থিতিতে বিরূপ আচরণ করছে তা নিয়ে ভাবুন। দরকার হলে আপনার সঙ্গীর সাথে আলোচনা করুন। এমনও হতে পারে আপনার শিশু ক্লান্ত বা ক্ষুধার্ত হওয়ার কারনে বিশেষ কোন আচরণ করছে। কোন কিছু নিয়ে অতি উৎসাহী, হতাশ বা বিরক্ত হয়ে গেলেও শিশুর আচরণে পরিবর্তন আসে।