ডিলিং উইথ ডিফিকাল্ট বেহেভিওর মনোসামাজিক শিশুকে সামলানো সন্তান লালনপালন

শিশুর আচরণগত সমস্যা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?

শিশুর আচরণগত সমস্যা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?
যদি আপনার শিশু মন্দভাবে আচরণ করে থাকে, তাহলে প্রথমে বিবেচনা করুন তাদের ব্যবহারটি মূল সমস্যা কি না। এ ব্যাপারে এখনই ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন কি না কিংবা এ ধাপটি তারা একসময় পার করে ফেলবে কি না, সে সম্পর্কে ভাবুন। এ সমস্যা ধৈর্য্য ধরে কিছুদিন সহ্য করে নেয়া উত্তম সিদ্ধান্ত হবে।

অন্যান্য ব্যক্তিদের কাছে শিশুর খারাপ আচরণটি মন্দ হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে কি না তা ভেবে দেখুন। আপনার কাছে সমস্যা মনে না হলে বা দুশ্চিন্তার কারন না হলেও অন্যরা তার ব্যবহারকে সমস্যাজনক ভাবতে পারে।

কখনো কখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার কারনে সমস্যা আরো বেড়ে যেতে পারে। তবে, কোনো সমস্যা যদি আপনার এবং আপনার শিশুর অথবা পরিবারের দুর্দশার কারণ হয়, তাহলে এ সমস্যা দূরীকরণের জন্য পদক্ষেপ নেয়া অত্যাবশ্যক।

যা সঠিক মনে হয় সেটা করুনঃ যে সিদ্ধান্তই নেয়া হোক না কেন, তা যেন আপনার, শিশুর এবং পরিবারের জন্য সঠিক হয়। কোনো একটি সিদ্ধান্ত যা আপনি বিশ্বাস করেন না বা আপনার কাছে সঠিক মনে না হয়, তাহলে সে পদক্ষেপ কাজ করবে না। আপনি যা বলছেন সে অনুযায়ী যদি কাজ না করেন, তাহলে এ ব্যাপারটি শিশুদের নজরে আসে।

হার মেনে নেবেন নাঃ একবার কোনো কিছু করার সিদ্ধান্ত নিলে, তা করতে পিছপা হবেন না। কোনো কিছুর সমাধান হতে সময় নেয়। সঙ্গী, বন্ধু, অন্যান্য অভিভাবক, স্বাস্থ্য পরিদর্শক অথবা আপনার ডাক্তারের সাহায্য নিন। আপনি কি করতে যাচ্ছেন সে সম্পর্কে কারো সাথে আলোচনা করা শ্রেয়।

সিদ্ধান্তে অটল থাকবেনঃ শিশুদের ক্ষেত্রে অটল থাকতে হয়। শিশুদের আচরণের প্রতি আপনি আজকে এক ধরণের প্রতিক্রিয়া এবং পরবর্তী আরেক ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখান, তাহলে তা শিশুদের দ্বিধাদ্বন্দে ফেলে দিবে। সেই সাথে শিশুর সংস্পর্শে বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে যারা থাকেন, তারাও যাতে একই পদ্ধতিতে সমস্যার সমাধান করেন, সে বিষয়টির প্রতিও নজর রাখা প্রয়োজন।

অতি মাত্রায় প্রতিক্রিয়া দেখাতে যাবেন নাঃ এটা করা কঠিন হতে পারে। দিনের পর দিন আপনার শিশু বিরক্তিকর কাজ করতে থাকলে, তা আপনার রাগ এবং হতাশা বৃদ্ধির কারন হয়ে দাঁড়াবে। তাদের উপর এই রাগ বা ক্ষোভ প্রকাশ সহজ হতে পারে। যদি এ রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তাহলে পুরো পরিস্থিতিই হাতের নাগাল থেকে চলে যাবে।

কখনো কখনো বিরক্তি বা রাগ প্রকাশ না দেখানো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, তবে মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। কোনো কিছু করা থেকে বিরত থাকার জন্য শিশুকে একবার বলার পর, উভয় পক্ষই উপভোগ করে বা ভালো লাগে এমন কাজ বা বিষয়ের প্রতি মনোনিবেশ করুন। হতাশা কমানোর জন্য বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করুন, যা হতে পারে অন্যান্য অভিভাবকদের সাথে আপনার অনুভুতি নিয়ে কথা বলা।

শিশুর সাথে কথা বলুনঃ কোনো বিষয় অনুধাবন করার জন্য শিশুদের কথা বলার সামর্থ্য থাকতে হয় না। যদি তারা বুঝতে পারে কেন আপনি চাচ্ছেন কোনো কাজ তারা করুক, তাহলে তা উপকার বয়ে আনে। উদাহরণস্বরূপ, রাস্তা পার হওয়ার সময় কেন আপনি চান আপনার হাত তারা ধরে রাখবে কিংবা বাসায় ফিরে যাওয়ার সময় বগিতে (গাড়ি) কেন বসবে প্রভৃতি বিষয় বোঝানো উচিত।

আপনার সাথে কথা বলার জন্য শিশুকে উৎসাহিত করুনঃ শিশুরা কেন রাগান্বিত বা মন খারাপ করে থাকে সে বিষয় বোঝানোর সুযোগ দান তাদের হতাশা কমাতে সহযোগিতা করবে।

ভালো বিষয়ের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রাখুনঃ যখন কোনো শিশুর আচরণগত সমস্যা থাকে, তখন তাদের দ্বারা করা ভালো কাজ বা বিষয়গুলো নজরে নাও আসতে পারে। যখন তারা ভালো কিছু করে থাকে তখন আপনি তাদের উপর সন্তুষ্ট হলে সে ব্যাপারে বলুন। তাদের প্রতি মনযোগ দেয়া, আলিঙ্গন বা হাসির মাধ্যমে আপনার আনন্দ বা সন্তুষ্টি তাদের প্রতি প্রকাশ করতে পারেন। অকারণেই এগুলো করা যায়। তার নিজস্ব আচরণের কারনে আপনি তাকে ভালোবাসেন, এ বিষয়টি তাদের নজরে আনুন।

পুরষ্কার দিনঃ ভালো আচরণ প্রদর্শনের জন্য শিশুকে পুরষ্কার বা উপহার প্রদানের মাধ্যমে সহযোগিতা করুন। যেমন, তাদের প্রশংসা করুন কিংবা চা বা নাস্তা গ্রহণের সময় তাদের প্রিয় খাবার দিতে পারেন। যদি শিশুর আচরণ ভালো হয়, তাহলে এর জন্য আপনি আনন্দিত সে সম্পর্কে তাকে বলুন। “শাবাস! আমার কথামতো তোমার খেলনাগুলো বাক্সে রেখে দেয়ার জন্য”- এরকম কথা বলতে পারেন।

কোনো কাজ করার কথা বললে তা করার পূর্বে উপহার বা পুরষ্কার দিতে যাবেন না। কারন তখন তা পুরষ্কার না হয়ে ঘুষের মতো কাজ করবে।

শিশুকে প্রহার বা মারা থেকে বিরত থাকুনঃ কোনো কাজ করার মুহূর্তে শিশুকে মারলে তা ঐ সময় কাজটি করা থেকে শিশুদের থামাবে, তবে মারা বা প্রহার দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক ফলাফল দেয় না।

উদাহরণের মাধ্যমে শিশুরা শিখে, তাই আপনি যখন শিশুকে আঘাত করেন, তখন তারা ধরে নেয় এই মারা বা আঘাত করা আচরনের একটি গ্রহণযোগ্য অংশ। যেসব শিশুরা তাদের পিতামাতার কাছ থেকে আক্রমনাত্মক ব্যবহার পায়, তাদের মধ্যে এই ধরনের মনোভাব সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকে। যে ধরনের ব্যবহার আশা করেন না সেই ধরনের ব্যবহার নিজে করার পরিবর্তে শিশুদেরকে উদাহরণের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদানই উত্তম।

শিশুর আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রহারের থেকেও অনেক কার্যকর বিকল্প পদ্ধতি রয়েছে।


আচরণগত সমস্যার জন্য অতিরিক্ত
সাহায্য
আচরণগত সমস্যার সমাধানের জন্য আপনি বিশেষ সহায়তা পাবেন, তাই এর সমাধানের জন্য আপনাকে একা সংগ্রাম করতে হবেনা। শিশুদের মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ অথবা একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

কখনো কখনো শুধুমাত্র একটুখানি সমর্থন এবং অনুপ্রেরণার প্রয়োজন হতে পারে আপনার। কিছু কিছু শিশুদেরকে বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হতে পারে যেখানে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য তারা পায়।

আচরণগত সমস্যা তীব্রভাবে আছে এমন শিশুর কারনে অনেক চাপের মধ্যে থাকতে পারেন। নিজেকে নিজে সাহায্য অর্থাৎ আত্মনির্ভর হওয়ার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। আপনার এলাকার সমর্থন গ্রুপ বা দল সম্পর্কে জানতে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

About the author

Maya Expert Team