রমজান মাসে মেজাজ শান্ত রাখুন

রোজা রাখলে, বিশেষ করে গরমের দিনে রমজান মাস হলে মেজাজ সামলে রাখাটা বেশ মুশকিল হয়ে যায়। এসময় আমাদের ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত, শুষ্ক এবং ঘুম ঘুম চোখে ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়। ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্ত, যখন সময় আর কাটতে চায় না তখন ছাড়া সব সময় মনে হয় কিছু করার সময় নেই। এ সব মিলিয়ে মেজাজ হয়ে থাকে তিরিক্ষি এবং ঘন ঘন ঝগড়া বাধে।

মেজাজের উপর এই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাওয়ার কারণ কী? বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কারণটি হচ্ছে রক্তে চিনি কমে যাওয়া। শক্তির জন্য আপনার মস্তিস্কের চিনি দরকার এবং চিনির পরিমাণ কমে গেলে আপনি হতোদ্যম, ঝগড়াটে হয়ে পড়েন এবং কোন কিছুতে মনোযোগ দিতে সমস্যায় পড়েন। এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে সেহরিতে ঠিক ভাবে খাওয়া। জটিল ধরনের শর্করাযুক্ত এবং আঁশযুক্ত খাবার খান যা স্বাস্থ্যকর এবং যা থেকে ধীরে ধীরে শক্তি নির্গত হয়।

হঠাৎ করে ক্যাফেইন নেয়া বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে দ্বিতীয় কারন। ক্যাফেইন কম পরিমাণে হলেও দুশ্চিন্তার কারন হতে পারে। ক্যাফেইন মস্তিস্ককে উজ্জীবিত করে, যার ফলে এতে আসক্তি তৈরি হয়। যাদের নিয়মিত ক্যাফেইন গ্রহন করতে হয় তারা সেটি গ্রহণ করা বন্ধ করে দিলে মাথা ব্যাথা ও অবসাদের মত বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এজন্য রমজান মাসের এক সপ্তাহ আগে থেকে এই ক্যাফেইনের মাত্রা কমানোর অভ্যাস করা ভাল। চা, কফি ও অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় গ্রহণ কমিয়ে দিন।

ধূমপায়ীরাও একই সমস্যায় ভোগেন। তাদের শরীরে নিকোটিনের পরিমাণ কমে গেলে তারা দ্রুত রেগে যান। এ থেকে বাঁচতে হলে রমজান মাস শুরু হওয়ার আগে থেকেই সিগারেট কম খাওয়ার অভ্যেস করুন। সিগারেটের সংখ্যা কমিয়ে আনুন এবং পুরো রমজান মাস এভাবে চালিয়ে যান। আপনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হলে হয়ত এভাবে অভ্যেসটি ছেড়েও দিতে পারবেন।

এবার আসি গরম, ট্র্যাফিক, আর দূষণের কথায়। বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কম হওয়া, আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়া এবং প্রচুর ঘাম হওয়ার কারণে আপনি আরও ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এসময় জরুরি দরকার না হলে বাইরে না বেরোনোই ভাল। সম্ভব হলে ভিড় এড়িয়ে চলুন।

এবার আপনার রাগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কিছু কথা। নিচের ধাপ গুলো মেনে চলুন-

১০ পর্যন্ত গুনুন: চিৎকার করে উঠতে মনে চাইলেই থেমে যান! ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গুনুন তারপর যা বলতে চাইছিলেন তা বলুন। রাগ প্রাথমিক পর্যায়ে সবচেয়ে তীব্র থাকে এবং তা ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড স্থায়ি হয়। এই অবস্থা পার হয়ে গেলে আপনি আরও পরিষ্কার ভাবে চিন্তা পারবেন।

ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস নিন এবং ছাড়ুন: স্বাভাবিকের চাইতে ধীরে শ্বাস ছাড়তে থাকুন। যখন নিঃশ্বাস ছাড়বেন তখন আরও শান্ত হয়ে যান এবং যা নিয়ে উত্তেজিত ছিলেন তা যেতে দিন। রাগের সময় আমরা ধীরে শ্বাস নেই এবং দ্রুত ছাড়ি, রাগ কমানোর কৌশলটি হচ্ছে এর বিপরীতটা করা।

নিজের কথা খুলে বলুন: যখনই পরিষ্কার ভাবে চিন্তা করতে পারবেন তখন আপনি যা নিয়ে বিরক্ত ছিলেন তা অপর জনকে বুঝিয়ে বলুন, কিন্তু তার যেন মনে না হয় যে আপনি কোন ধরনের সংঘর্ষে যেতে চাইছেন। আপনার প্রয়োজনগুলো সহজ ভাবে এবং সরাসরি বলুন তবে অপরকে নিয়ন্ত্রণ বা আঘাত করার চেষ্টা না করে সেটি করুন। এতে পরিস্থিতি ভিন্ন ভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন। রাগ পুষে রাখবেন না।

কথা বলার আগে ভাল করে ভেবে নিন: রাগের মাথায় আমরা এমন কিছু বলে ফেলতে পারি যার জন্য পরে পস্তাতে হয়। আপনার ভাবনা গুছিয়ে নেয়ার জন্য একটু সময় নিন তারপর কথা বলুন এবং অপরকেও তা করার সুযোগ দিন।

আপনার অবস্থান পরিবর্তন করুন: এসময় আপনি বসে থাকলে দাড়িয়ে যান এবং দাড়িয়ে থাকলে বসে পড়ুন। কথোপকথনের কারণে বিরক্ত লাগলে সেটি বন্ধ করে দিন।

রসিকতা করে দেখতে পারেন: পরিস্থিতি হালকা করে নিলে সাহায্য হতে পারে। তবে শ্লেষপূর্ণ বাক্য ব্যবহার করবেন না- এতে অপরজন আঘাত পেতে পারে এবং হিতে বিপরীত হতে পারে।

“আপনি”-র বদলে “আমি” ব্যবহার করুন: সমালোচনা করা এবং দোষারোপ এড়ানোর জন্য যা নিয়ে সমস্যা হচ্ছে তা বোঝাতে “আমি” দিয়ে বাক্য গঠন করুন। যথাযথ সম্মান দিয়ে একটি বিষয়ে স্থির থেকে কথা বলুন। যেমন ধরুনঃ “তুমি ঘরের কোন কাজ করনা” বলার চাইতে “আমি মন খারাপ করেছি তুমি খাওয়ার পর বাসন মাজতে সাহায্য না করে ঘুমোতে যাওয়ায়” এমনভাবে বলুন।

আপনার রাগ সনাক্ত করুন: এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি এসময় বুঝতে পারবেন যে আপনার হৃদস্পন্দন বেড়ে যাচ্ছে এবং নিঃশ্বাস দ্রুততর হচ্ছে। একই সাথে দেখবেন যে আপনার হাতের মুঠো শক্ত এবং কাঁধ আড়ষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আপনার নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার অভিজ্ঞতা থাকলে ওই জায়গা ছেড়ে বেরিয়ে আসুন।

নিজ চেষ্টায় উপায়গুলো মেনে রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন এবং রমজান মাসে ভাল থাকুন।

 

0 comments

Leave a Reply