আইনি ধর্ষণ নারীর প্রতি সহিংসতা

ধর্ষন কিংবা যৌন নির্যাতনের শিকার হলে কোথায় সাহায্য পাবেন

যৌন নির্যাতন একটি অপরাধ, সুতরাং কোথায় ঘটেছে কিংবা সেটা কে করেছে তাতে কিছু আসে যায় না। এ ধরনের ঘটনায় সাহায্য চাইতে ভয় পাবেন না। যে কোন ধরনের অনাকাঙ্খিত স্পর্শ থেকে শুরু করে প্রাননাশী হামলা, ধষর্ন অথবা মুখ, যোনি বা পায়ুপথে যে কোন ধরনের যৌন সংসর্গই যৌন নির্যাতনের পর্যায়ে পড়ে। এরকম একটা ধারনা চালু আছে যে কেউ যৌন নির্যাতনের শিকার হলে শরীরে ধস্তাধস্তি কিংবা আঘাতের চিহ্ন থাকবে। কিন্তু শরীরে যদি কোন চিহ্ন বা আঘাতের লণ নাও থাকে তারপরও এরকম যেকোন কর্র্মকান্ড অপরাধের পর্যায়ে পড়বে।

ম্যাঞ্চেস্টারের সেন্ট মেরী’স সেক্সুয়াল অ্যাসাল্ট রেফারেল সেন্টারের পরিচালক এবং পরামর্শক বার্নি রায়ান বলেছেন- “কেউ কেউ আশঙ্কা করে যে যদি শরীরে কোন রকম আঘাতের চিহ্ন না থাকে তাহলে তাদের কথা কেউ বিশ্বাস করবে না। কিন্তু ব্যাপারটা মোটেই এরকম নয়। আমরা মোটেই আঘাতের চিহ্ন আশা করি না। যৌন নির্যাতনের শিকার মানুষটির জন্য, এ ঘটনা কতটা পীড়াদায়ক ছিল অথবা সে কতটা লাঞ্ছিত বোধ করছে তার উপর নির্ভর করে না।”

১৬ থেকে ২৪ বছরের তরুনীরাই সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার হলেও, যে কোন বয়সের, বর্নের অথবা যোগ্যতার নারীই যৌন নিপীড়নের শিকার হতে পারেন। অপরিচিত কিংবা অনেক ক্ষেত্রে পরিচিত মানুষও নিপীড়ন করতে পারে। হতে পারে সে আপনার সঙ্গী ছিল অথবা আছে, কিংবা সে আপনার স্বামী, আত্মীয়, বন্ধু অথবা সহকর্মীও হতে পারে। বেশিরভাগ নিপীড়নের ঘটনাই ঘটে যিনি নিপীড়ন করেন অথবা যে নিপীড়নের শিকার হয় তার বাড়িতে। যৌন নিপীড়ন এমন একটি কাজ যা কিনা নিপীড়নের শিকার মানুষটির সক্রিয় অনুমতি ছাড়াই ঘটে থাকে। অর্থাৎ এ ধরনের ঘটনায় নিপীড়নের শিকার মানুষটির কোন রকম সম্মতিই থাকে না। মনে রাখবেন, যদি আপনি যৌন নিপীড়নের শিকার হন সেটার জন্য আপনি কোন ভাবেই দায়ী নন। আপনি কি পরেছিলেন, কোথায় গিয়েছিলেন অথবা কি পান করেছিলেন সেটা কোন ব্যাপার নয়। যৌন নিপীড়নের জন্য সবসময় নিপীড়ক নিজেই দায়ী।

যদি আপনি যৌন নিপীড়নের শিকার হন

যদি আপনি কখনো যৌন নির্যাতনের শিকার হন তাহলে নিজেকে অসহায় ভাববেন না। আপনাকে সাহায্য করতে পারে এমন বেশ কিছু সেবা রয়েছে। আপনি যদি পুলিশের কাছে রিপোর্ট লেখাতে না চান আপনাকে লেখাতে হবে না। কেউ আপনাকে এ নিয়ে কোন রকম জোর জবরদস্তি করবে না। তবে, সংক্রামক যৌন রোগ কিংবা অনাকাঙ্খিত গর্ভধারন থেকে বাঁচতে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের স্মরনাপন্ন হোন। যদি আপনি তাৎক্ষনিক ভাবে সহায়তা পেয়ে যান, সেক্ষেত্রে আপনার পোশাক পাল্টাবেন না বা না ধুয়ে ফেলবেন না। কেননা আপনি যদি পরবর্তিতে পুলিশের সহযোগীতা নিতে চান সেক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমান করতে যে সব আলামতের প্রয়োজন পড়বে কাপড় পাল্টালে বা ধুয়ে ফেললে সেগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

আপনি কোথায় সাহায্য নিতে যাবেন সেটা নির্ভর করছে আপনার এলাকায় কি কি সেবা সহজলভ্য এবং আপনি কি করতে চান তার উপরে। নিচের সংস্থাগুলো থেকে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় সহযোগীতা পেতে পারেন অথবা তারা আপনাকে এধরনের বিশেষ সহযোগীতা (ফরেনসিক পরীক্ষা) কোথায় পাবেন তার হদিস দিতে পারবে।

  • কারো সাথে নিজের পরিচয় গোপন করে কথা বলুন। যেমন, মায়া আপা
  •  ব্লাস্ট এমন একটি সংস্থা যারা গত ২০ বছর ধরে যারা মানবাধিকার এবং এ সম্পর্কিত আইনী সহয়তা নিয়ে কাজ করছে।
  • ব্র্যাক এর কিছু সাহায্য সেবা।
  • আপনার স্থানীয় হাসপাতালের ডাক্তার
  • হাসপাতালের জরুরী ও দূর্ঘটনা বিভাগ
  • পুলিশ

যৌন নিপীড়নের প্রতিকার করে এমন প্রতিষ্ঠান গুলোর কাছ থেকে চিকিৎসা, বাস্তবানুগ এবং মানসিক সহযোগীতা পাওয়া যায়। আপনাকে সাহায্য করতে তারা কাছে উপযুক্ত প্রশিক্ষন পাওয়া চিকিৎসক এবং পরামর্শক রয়েছে। যদি আপনি পুলিশের কাছে যেতে চান সেক্ষেত্রে তারা এধরনের অপরাধ দমনে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তার সাথে আপনার অনানুষ্ঠানিক আলোচনার ব্যবস্থা করে দিতে পারবে, যিনি পুরো বিষয়টির সঠিক ব্যখ্যা দিতে পারবেন।

ফরেনসিক পরীক্ষা

যদি আপনি যৌন নিপীড়নের শিকার হন তাহলে আপনাকে ফরেন্সিক পরীক্ষা করাতে হবে এমন কোন বাধ্য বাধকতা নেই। কিন্তু একটা ফরেনসিক পরীক্ষা থেকে আপনার অভিযোগের সপক্ষে প্রমান পাওয়া যাবে। ফরেনসিক পরীক্ষা সাধারনত হয়ে থাকে সেক্সুয়াল এ্যাসাল্ট রেফারেল সেন্টার অথবা পুলিশের পরীক্ষাগারে , আর পরীক্ষা চালাবেন ডাক্তার অথবা ফরেন্সিক মেডিসিনে বিশেষ প্রশিক্ষণ পাওয়া কোন নার্স। সেখানে নিপীড়ন করার সময় আপনার শরীরে যেসব স্থানে স্পর্শ করা হয়েছে সেখান থেকে তারা কিছু নমুনা সংগ্রহ করবেন (যেমন চুল, শরীরের কোন তরল অথবা ঘর্ষনের চিহ্ন)। তার পাশাপাশি ডাক্তার বা নার্স আপনাকে এই নিপিড়নের ঘটনা নিয়ে কিছু প্রশ্ন করবেন।

গোপনীয়তা

আপনার নাম পরিচয় সহ সব ধরনের তথ্যই গোপন থাকবে। তদুপরি, যদি পুলিশ তদন্ত করে বা বিচার প্রক্রিয়ার কোন পর্যায়ে প্রয়োজন পড়ে সেক্ষেত্রে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে। অর্থাৎ সেগুলো আদালতে প্রকাশ করা হতে পারে। যদি কোন তদন্ত বা বিচার কার্য পরিচালিত না হয় সেক্ষেত্রে আপনার অনুমতি ছাড়া এসব তথ্য কারো কাছে প্রকাশ করা হবে না। তবে কোন ক্ষেত্রে যদি অন্য কেউ এই একই রকম বিপদে পড়বার ঝুকিতে থাকে সেক্ষেত্রে আপনার দেয়া তথ্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

নিপীড়নের শিকার হওয়া নারীর দরকারি সহায়তা

আপনার কোন আত্মীয় কিংবা বন্ধু যৌন নিপীড়নের শিকার হলে আপনার যা যা করতে পারেন-

  • যে মানুষটি নিপীড়নের শিকার হয়েছে তার কথা মন দিয়ে শুনুন, কিন্তু কোন প্রশ্ন করবেন না। কেন সে বাধা দেয়নি এ প্রশ্ন করতে যাবেন না। এ প্রশ্ন করলে তার মনে হতে পারে এ ঘটনার জন্য সে নিজেই দায়ী।
  • তাকে সত্যিকারের সহযোগীতা করুন, যেমন: প্রয়োজনীয় জায়গাগুলোতে তার সাথে যান।
  • তার সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা রাখুন, উদাহরন হিসেবে বলা যায় সে পুলিশে কাছে যেতে চায় নাকি চায় না এটা তার উপরে ছেড়ে দিন।
  • মনে রাখবেন এধরনের ঘটনার পর নিপীড়নে শিকার হওয়া মানুষটি স্পর্শের ব্যাপারে খুবই সংবেদনশীল হয়ে পড়েন। এমনকি জড়িয়ে ধরলেও তিনি বিপর্যস্ত বোধ করতে পারেন। তাই যে কোন ধরনের স্পর্শের আগে তাকে আভাস দিন। যদি তার সাথে আপনার যৌন সম্পর্ক থাকে তাহলে আরো বেশি সাবধান হতে হবে কারন এধরনের ঘটনার পর যৌন সম্পর্কের ব্যাপারে ভিতী তৈরি হয়ে যায়। এক্ষেত্রে তাকে কোন কিছু নিয়ে কোন ভাবেই জোরাজুরি করবেন না।
  • নিপীড়নের ঘটনাটি তাকে ভুলে যেতে বলবেন না। এধরনের ঘটনা ভুলতে এবং নিজের আবেগ অনুভূতি সামলাতে সময় লাগবে। আপনি ধৈর্য্য ধরুন এবং মনোযোগ দিয়ে তার সব কথা শুনুন।

এ ব্যাপারে আপনি আমাদের সহযোগীতা নিতে পারেন।

About the author

Maya Expert Team