আইনি সাইবার ক্রাইম সাইবার ক্রাইম আইন

বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ দমনে তথ্যপ্রযুক্তি আইন

বাংলাদেশে সাইবার ক্রাইমের পরিচিতি বা এ অপরাধ দমনের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনটি অনেকেরই জানা নেই।“তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬” আমাদের সাইবার অপরাধ দমনের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়। পরবর্তীতে ২০০৯ এবং ২০১৩ সালে এই আইনে কিছু সংশোধন আনা হয়।

তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০৬-এর ৫৬ ধারায় বলা হয়েছে,

(১) যদি কোনো ব্যক্তি জনসাধারণের বা কোনো ব্যক্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে বা ক্ষতি হবে মর্মে জানা সত্ত্বেও এমন কোনো কাজ করেন, যার ফলে কোনো কম্পিউটার রিসোর্সের কোনো তথ্যবিনাশ, বাতিল বা পরিবর্তিত হয় বা তার মূল্য বা উপযোগিতা হ্রাস পায় বা অন্য কোনোভাবে একে ক্ষতিগ্রস্ত করে |

(২) এমন কোন কম্পিউটার সার্ভার,কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা অন্য কোন ইলেকট্রিক সিস্টেম অবৈধভাবে প্রবেশ করার মাধ্যমে এর ক্ষতিসাধন করেন যাতে তিনি মালিক বা দখলদার নন,তাহলে তার এই কাজ হবে একটি হ্যাকিং অপরাধ। কোন ব্যক্তি হ্যাকিং অপরাধ করলে তিনি অনূর্ধ্ব ১০ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।এককোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন ।

তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০৬-এর ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে,

যদি কোন ব্যক্তি ইচ্ছে করে ওয়েবসাইট বা অন্য কোন ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন,যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারে বা যার মাধ্যমে মানহানি ঘটে,আইনশৃঙ্খলার ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানি দেয়া হয়, তাহলে তার এই কাজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে । কোন ব্যক্তি এ ধরনের অপরাধ করলে তিনি অনাধিক ১০ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন এবং অনাধিক এককোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০৬-এর ৬৮ ধারায় বলা হয়েছে,

সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দিয়ে এই আইনের অধীনে সংগঠিত অপরাধের দ্রুত ও কার্যকর বিচারের উদ্দেশ্যে এক বা একাধিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারবে।গঠিত সাইবার ট্রাইব্যুনালে সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শ করে সরকার একজন দায়রা জজ বা একজন অতিরিক্ত দায়রা জজকে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। এই ট্রাইব্যুনাল ‘সাইবার ট্রাইব্যুনাল’ নামে অভিহিত হবে।ট্রাইব্যুনাল তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০৬-এর আইনের অধীন অপরাধের বিচার করবেন।

৭৪ ধারায় বলা হয়েছে,

ফৌজদারি কার্যবিধিতে যা কিছুই থাকুক না কেন,এ উদ্দেশ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন না হওয়া পর্যন্ত এই আইনের অধীনে দায়রা আদালত বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করবে।সরকার সরকারি গেজেট,প্রজ্ঞাপন দিয়ে এক বা একাধিক সাইবার আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারে। সাইবার আপিল ট্রাইব্যুনাল অধীন সাইবার ট্রাইব্যুনাল বা দায়রা আদালত ঘোষিত রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল শুনবে ও নিষ্পত্তি করবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি(সংশোধন)আইন-২০০৯-এর৮ম অধ্যায়ে(ধারা ৫৪ থেকে ৮৪)

কম্পিউটার সম্পর্কিত অপরাধ,তদন্ত,বিচার ও দণ্ড ইত্যাদি বিষয়ে বিষদ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।এই আইনের ৭৬ নং ধারা অনুসারে অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা–

(১)ফৌজদারি কার্যবিধিতে যা কিছুই থাকুক না কেন,নিয়ন্ত্রক বা নিয়ন্ত্রক হতে এ উদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা বা সাব-ইন্সপেক্টরের পদমর্যাদা নয় এমন কোন পুলিশ কর্মকর্তা এই আইনের অধীনে কোন অপরাধ তদন্ত করবেন।

(২)এই আইনের অধীনে অপরাধসমূহ অ-আমলযোগ্য(non-cognizable) হবে। এ আইনের সঠিক উপস্থাপনা ও আইনের বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা অপরিহার্য। যা সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (সংশোধিত) আইন ২০১৩

আপনি যদি অন্য কারো কম্পিউটারে তার অনুমতি ব্যাতিরেকে প্রবেশ করেন বা অন্য কোন ব্যক্তিকে প্রবেশ করতে সহায়তা করেন তাহলে আপনার ৭ থেকে ১৪ বছরের জেল হতে পারে। শুধু তাই নয় এই অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় আপনি জামিনও পাবেন না। এমনকি বিনা পরোয়ানায় পুলিশ আপনাকে গ্রেফতার করতে পারবে।

ইংল্যান্ড বিশ্বে প্রথম সাইবার আইন প্রনেতা হিসেবে তৈরি করে কম্পিউটার মিসইউজ অ্যাক্ট ১৯৯০। ই-অপরাধ প্রতিরোধে ২০০৮ সালে জাতীয় ই-অপরাধ ইউনিটও গঠন করা হয়। ভারতেও তৈরি হয় তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০০।বাংলাদেশে ২০০৬ সালে তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ আইন তৈরি হয় এবং পরে এ আইন সংশোধন করা হয় । সমস্যা হলো আমাদের দেশে আইন থাকলেও আইনি অব্যবস্থাপনা নিয়ে জনসাধারনের মধ্যে চাপা ক্ষোভ রয়েছে। বর্তমানে আমাদের দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারির সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে সরকারও এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।আর প্রতিনিয়ত সাইবার অপরাধের সংখ্যাও বাড়ছে । ইন্টারনেট ব্যবহারকারিদের বেশিরভাগেরই এ আইন সম্পর্কে কোন ধারনা নেই তাই বুঝে হোক বা না বুঝে হোক সাইবার অপরাধ সংগঠিত করে যাচ্ছে ও দিন দিন সাইবার অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে । তাই এই আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে আইনের প্রচার বাড়াতে হবে ও প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

সূত্র – bdlaws.minlaw.gov.bd, parliament.gov.bd

About the author

Maya Expert Team