কৈশোর স্বাস্থ্য খাদ্যাভ্যাস সংক্রান্ত সমস্যা

কিশোরী মেয়েদের ওজন স্বাভাবিকের চাইতে কম হলে

আপনার ওজন স্বাভাবিকের চাইতে কম হলে আপনার কেবল এনার্জি কমে যায় তাই নয়; ফ্যাকাসে, ছোপ ছোপ দাগযুক্ত চামড়া, পাতলা চুল এবং ভঙ্গুর নখের কথা শুনতে কেমন লাগে বলুন তো?

আপনি হয়ত কয়েকবার ভেবেছেন যে আপানার ওজন কম। হয়ত আপনার বন্ধু ও মা-বাবাও বলেছেন এ কথা। আপনি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমাদের বি.এম.আই ক্যালকুলেটর  ব্যবহার করে দেখতে পারেন। হয়ত আপনার কোন স্বাস্থ্য সমস্যা আছে যা পরীক্ষা করে দেখা দরকার। অথবা আপনি হয়ত স্বাস্থ্যকর, ভারসাম্যপূর্ণ খাবার গ্রহণ করছেন না। আবার এটা কাজের চাপ বা অন্য মানসিক কারনে হতে পারে। আপনার কিশোর বয়সে শরীরে অনেক ধরনের পরিবর্তন হয়। কিশোরী মেয়েরা এই পরিবর্তনগুলোর কারনে অখুশি থাকতে পারে, কিন্তু এই পরিবর্তনগুলো পরবর্তীতে আপনার গর্ভধারণ করার জন্য জরুরী। অবস্থা যাই হোক না কেন, আপনি আপনার ওজন বা খাদ্যাভ্যাস নিয়ে চিন্তিত হলে কাউকে জানান। আপনি অনেক ভাবে সাহায্য পেতে পারেন।

এটা কি খাওয়ার অনিয়মের জন্য হচ্ছে?

আপনি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সম্বন্ধে সবকিছু জানার পরও অন্যান্য কারনে স্বাস্থ্যকর খাবার নাও খেতে পারেন। আপনি যদি খাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তিত হয়ে থাকেন, অথবা চাপ, হীনমন্যতা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কিংবা বাড়িতে বা স্কুলে কঠিন সময় পার করার ফলে খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে থাকেন, তাহলে সম্ভবত আপনি খাওয়ার অনিয়মে ভুগছেন।

যারা খাওয়ার অনিয়মে ভোগেন তাদের কাছে এই অনিয়ম জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করার একটি উপায় বলে মনে হয়। কিন্তু এটা আসলে একটা বিভ্রান্তি, তারা কিছু নিয়ন্ত্রন করেন না, নিয়ন্ত্রন করে খাওয়ার অনিয়ম।

আপনার খাওয়ার অনিয়মের সমস্যা থাকলে তার সমাধান আছে। আপনার বাবা-মা বা অন্য কোন বিশ্বস্ত কাউকে সমস্যাটার কথা জানান।

আপনার ওজন স্বাভাবিকের চাইতে কম কেন?

BMI ক্যালকুলেটরের হিসেবে যদি দেখা যায় যে আপনার ওজন স্বাভাবিকের চাইতে কম, তাহলে এটা কেন হল তা ভেবে বের করার চেষ্টা করুন।

  • আপনি কি অসুস্থ ছিলেন?
  • আপনি কি অস্বাস্থ্যকর খাবার খান অথবা সকালের বা দুপুরের খাবার বাদ দেন এবং হালকা স্ন্যাক্স খেয়ে থাকেন?
  • কাজের চাপ বা দুশ্চিন্তার কারনে কি আপনার খিদে পায় না?
  • আপনি কি ওজন কমানোর চেষ্টা করছিলেন? স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখার চাইতে কি আপনি হালকা-পাতলা হয়ে থাকতে আগ্রহী?
  • আপনি কি না খেয়ে থাকতে পারার মাধ্যমে আপন নিয়ন্ত্রন ক্ষমতাকে অনুভব করেন?

এটা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ওজন স্বাভাবিকের চাইতে কম হওয়াটা আপনার জন্য ভাল নয়। এটি বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে আপনার স্বাস্থ্যের জন্য একটি দুঃসংবাদ। এর ফলাফলগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ

শক্তিহীন হয়ে পড়া – ওজন কম হলে আপনি সবসময় ক্লান্ত বোধ করবেন। পরীক্ষার পড়া রিভাইজ দিতে গেলে, খেলতে গেলে বা সঙ্গীদের সাথে বেড়াতে গেলে এটা খুব একটা সাহায্য করে না।

পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়া – ওজন কম হলে সম্ভবত আপনার শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব রয়েছে। অল্প বয়সী মেয়েদের জন্য ক্যালসিয়াম বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারন এটি মজবুত ও সুস্থ হাড় গঠনে সহায়তা করে। আপনি যথেষ্ট পরিমাণে ক্যালসিয়াম না পেলে ভবিষ্যতে আপনার অস্টিওপোরসিস (একধরনের হাড়ের অসুখ) হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সুস্বাস্থ্যের জন্য আয়রনও জরুরী। আপানার মাসিক শুরু হলে ঋতুস্রাবের সাথে অনেক আয়রন শরীর থেকে বের হয়ে যাবে। অন্যান্য ধরনের পুষ্টির ঘাটতির কারনে আপানার ত্বক ও চুল স্বাস্থ্যহীন হয়ে পড়তে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যাওয়া – ওজন কম হলে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পূর্ণ কাজ করে না, তাই সর্দি-কাশি, জ্বর বা কোন ধরনের সংক্রমণে আপনি সহজেই আক্রান্ত হয়ে পড়েন।

মাসিক দেরিতে হওয়া বা বিঘ্নিত হওয়া– যদি আপনার মাসিক শুরু না হয়ে থাকে তাহলে তা ওজন কম হওয়ার কারনে হচ্ছে না। আবার আপনার মাসিক শুরু হলেও ওজন কম হওয়ার কারনে তা বন্ধ হয়ে থাকতে পারে। ওজন কম হওয়ার কারনে তা থেকে আপনার হরমোনের সমস্যা তৈরি হলে এমনটি হতে পারে।

ভবিষ্যতে বাচ্চা নিতে গেলে সমস্যা হওয়া – ওজন কম হওয়ার কারনে আপনার মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে পরে বাচ্চা নেয়ার সময় আপনার সমস্যা হতে পারে।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

আপনার ওজন কম হলে ধীরে ধীরে আপনার বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী স্বাভাবিক ওজন লাভ করার চেষ্টা করুন।

তবে ওজন বাড়ানোর জন্য সঠিক উপায় অবলম্বন করাটা জরুরী। চকলেট, কেক, কোমল পানীয়, এবং অন্যান্য উচ্চ-ক্যালরিযুক্ত খাবার, যেগুলোতে প্রচুর চর্বি এবং চিনি থাকে, খেলে শরীরের মাংসের বদলে মেদ বাড়তে পারে। তারচেয়ে বরং নিচের উপদেশগুলো মেনে চলুনঃ

  • শর্করাযুক্ত খাবার, যেমন পাস্তা (wholemeal pasta), লাল চালের ভাত (brown rice), আলু বা মসুরডাল খান।
  • প্রতিদিন পাঁচটি ভাগে ফলমূল ও শাকসবজি খান।
  • মাছ, মাংস, এবং শিম বা অন্যান্য বীজ-জাতীয় আমিষ খান
  • প্রতিদিন তিনটি ভাগে ক্যালসিয়াম গ্রহণ করুন। একবারে একগ্লাস দুধ, একটু দৈ বা ম্যাচের বাক্সের সমান পনির খান।
  • প্রক্রিয়াজাত করা মাংস, কেক বা বিস্কিটের মধ্যে থাকা সম্পৃক্ত চর্বি খাওয়া কমিয়ে দিন
  • চিনিযুক্ত খাদ্য ও পানীয়, যেমনঃ চকলেট, কেক এবং বিস্কিট ও কোমল পানীয় খাওয়া কমিয়ে দিন।
  • আপনি ওজন বাড়াতে চাইলে স্বাস্থ্যকর ও প্রচুর শক্তির যোগান দেয় এমন খাবার খান।
  • নিয়ম করে সকালের খাবার খান। সিরিয়াল বা ওটের ওপর ফলমূল বা কিশমিশ ছিটিয়ে দিয়ে খান।
  • ফলমূল দিয়ে তৈরি স্মুদি বা মিল্কশেক খুব ভাল নাস্তা। আপনি এগুলো বাড়িতে বানিয়ে স্কুলে নিয়ে যেতে পারেন।
  • টোস্টের উপর পিনাট বাটার মাখিয়ে নিলে সেটি খুব পুষ্টিকর নাস্তা হতে পারে।
  • দৈ বা পুডিং (rice puddings) খেয়ে দেখতে পারেন।

About the author

Maya Expert Team

Leave a Comment