কৈশোর স্বাস্থ্য খাদ্যাভ্যাস সংক্রান্ত সমস্যা

খাদ্যে অনীহা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা

এ জাতীয় সমস্যা বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে, সবচেয়ে বেশি দেখা যায় অ্যানোরেক্সিয়া, বুলিমিয়া ও বিঞ্জ ইটিং। খাদ্যে অনীহা হচ্ছে এক প্রকারের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা যাতে খাবার ও খাবার গ্রহণের সাথে অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ক তৈরি হয় এবং সবসময়ই ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার তীব্র ভীতি কাজ করে। যদি আপনি খাদ্যে অনীহায় ভোগেন, তাহলে আপনি নিম্নোক্ত এক বা একাধিক অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাবেনঃ

  • খাদ্য ও ওজন বৃদ্ধির ব্যাপারে আপনি নিবিষ্ট ও অতিসচেতন থাকবেন।
  • বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের কাছে আপনাকে রুগ্ন বা কম ওজন সম্পন্ন মনে হলেও ওজন হ্রাসের প্রতি আপনার আগ্রহ থাকবে।
  • খাবার গ্রহণ না করেও আপনার আশে পাশের মানুষদের সাথে এমন আচরন করবেন যেন তারা মনে কর যে আপনি খেয়েছেন।
  • খাদ্য প্রণালী গোপন রাখবেন কেননা তা অস্বাস্থ্যকর এবং সে সম্পর্কে আপনি জানেন।
  • খাদ্য গ্রহণে আপনি উৎকন্ঠিত হন, মন খারাপ করেন বা অপরাধবোধে ভোগেন।
  • নিজে নিজে বমি করার চেষ্টা করেন কিংবা ওজন কমানোর জন্য ল্যাক্সাটিভ বা জোলাপ গ্রহণ করেন

কী কী কারণে খাদ্যে অনীহা সৃষ্টি হয়?

যেকোনো একটি কারণে এটি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কম, কেননা এ সমস্যা সৃষ্টির পিছনে অনেক কারণ, ঘটনা, অনুভব অথবা চাপ কাজ করে থাকে যা আপনার মধ্যে পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর অসমর্থতার অনুভব জাগিয়ে তোলে।

এ সমস্যাগুলো হতে পারে কম আত্মসম্মানবোধ, বন্ধু ও পরিবারের সাথে এ সমস্যা, বিশেষ বা ঘনিষ্ঠ কারো মৃত্যু, বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কর্মক্ষেত্রের সমস্যা, আত্মবিশ্বাসের অভাব অথবা যৌন বা মানসিক হয়রানি। অনেক ব্যক্তিই খুব সাধারণভাবে তাদের স্বাস্থ্যহীনতা অর্থাৎ মোটা না হওয়া অথবা স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার কথা বলে। যন্ত্রণাদায়ক মুহূর্ত বা বেদনা ভোলা বা খাপ খাওয়ানোর জন্য আপনি খাবার গ্রহণকে সমাধান হিসেবে ধরে নিতে পারেন কিন্তু এ সম্পর্কে আপনি সচেতন-ই থাকবেন না।

উচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক প্রত্যাশা, পারিবারিক সমস্যা অথবা সামাজিক চাপের মুখে থাকা – প্রভৃতি অবস্থায় মানিয়ে নেয়ার জন্য আপনি খাদ্য ও তা গ্রহণের উপর জোর দিতে পারেন।

দুঃখময় ঘটনার কারণেও খাদ্যে অনীহা হয়ে থাকে। এ রকম ঘটনা হতে পারে আত্মীয়ের মৃত্যু, নিপীড়ন বা হয়রানির শিকার হওয়া, পরিবারের কারো ডিভোর্স বা তালাক হওয়া কিংবা নিজের যৌনতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা। দীর্ঘকাল অসুস্থতা বা বিফলতা, যেমন ডায়াবেটিস, বিষন্নতা, অন্ধত্ব, বধিরতায় যারা ভুগছেন, তাদের মধ্যেও এই সমস্যা দেখা যায়।

কিছু কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, এ সমস্যার পিছনে জীনগত বৈশিষ্ট্য দায়ী থাকতে পারে। অন্য কথায়, জেনেটিক কারণে কিছু কিছু ব্যক্তির মধ্যে এ সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এ জাতীয় সমস্যায় কারা আক্রান্ত হন?

বয়স, লিঙ্গ, সংস্কৃতি অথবা জাতি নির্বিশেষে যে কেউ খাদ্যে অনীহায় আক্রান্ত হতে পারেন। তরুণী নারী, বিশেষ করে ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী নারীরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন এবং আক্রান্তদের প্রায় ১০% থাকেন পুরুষ।

নিজে খাদ্যে অনীহায় আক্রান্ত মনে হলে কী করা উচিত?

খাদ্য অনীহা পোষণ করেন এমন ব্যক্তিরা প্রায়ই বলে থাকেন যে তাদের জীবনে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য না খেয়ে থাকা-ই একমাত্র পন্থা। তবে সময়ের সাথে সাথে এই না খেয়ে থাকা-ই আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করে দেয়। তাই সাথে সাথে নিজের ক্ষতি করার প্রবণতা অথবা মাদক বা ঔষধের অপব্যবহার বেড়ে যেতে পারে।

যদি আপনার মনে হয় এ সমস্যায় আপনি আক্রান্ত, তাহলে বিশ্বাসী কারো সাথে প্রথমে কথা বলুন। ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধব অথবা পরিবারের সদস্যদের কাছে কথা বলতে পারেন।

আপনার ডাক্তারও আপনাকে পরামর্শ দিতে পারেন এবং রোগ নির্ণয় এবং সম্ভাব্য চিকিৎসা, যা ব্যক্তিভেদে এবং খাদ্যে অনীহা’র ধরণের উপর ভিওি করে আলাদা হয়, সে সম্পর্কেও কথা বলতে পারেন।

কোনো বন্ধু বা আত্মীয় খাদ্যে অনীহায় আক্রান্ত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন?

কোনো বন্ধু বা আত্মীয় নিয়ে যদি চিন্তিত থাকেন তাহলে কী করা উচিত সে সম্পর্কে বুঝে ওঠা কঠিন হতে পারে। এ সমস্যায় আক্রান্তরা প্রায়ই বিষয়টি গোপন রাখেন এবং তাদের খাদ্য গ্রহণ ও ওজন নিয়ে সতর্ক থাকেন এবং অসুস্থ বা রুগ্ন থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

About the author

Maya Expert Team