কৈশোর স্বাস্থ্য খাদ্যাভ্যাস সংক্রান্ত সমস্যা

বাচ্চাদের খাদ্যে অনীহা নিয়ে অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ

যদি আপনার শিশু খাদ্যে অনীহা প্রকাশ করে, তাহলে কীভাবে এর প্রতিক্রিয়া দেখাবেন বা তাকে কীভাবে সাহায্য করবেন, সে ব্যাপারে সংশয়ে থাকতে পারেন।

আপনার ভূমিকা বুঝতে পারা

পূর্বের আচরণ থেকে হঠাৎ করে আপনার ছেলে বা মেয়ের আচরণে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে; তারা পশ্চাৎপদ, স্পর্শকাতর এবং এমনকী উদ্ধত হয়ে যেতে পারে। যখন কথা বলা বা আলোচনা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তখন তাদের সাথে কথা বলা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এটা আপনাকে মনে রাখতে সাহায্য করবে যে, তারা আত্মপক্ষ সমর্থনে আগ্রাসী হয়ে উঠার সম্ভাবনা বেশি, কেননা খাদ্যে অনীহা জনিত নিয়ন্তরণের মাধ্যমে তারা নিজেদের সমস্যার মোকাবেলা করছে এবং প্রথম পদক্ষেপেই এই অভ্যাস ত্যাগ করতে তারা অপারগতা প্রকাশ করবে।

যদি এ সমস্যার সমাধানের জন্য আপনার সন্তান চিকিৎসা গ্রহণরত থাকে, তাহলে তাদের নিরাময়ের জন্য চিকিৎসাকারী দল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে, আপনার শর্তহীন ভালোবাসা ও সমর্থনকেও খাটো করে দেখবেন না।

ইটিং ডিজঅর্ডারের জন্য কাজ করা স্বেচ্ছাস্ববী একটি সংগঠনের এর প্রধান কার্যনির্বাহী সুসান রিংউড বলে থাকেন যে, “যারা ইটিং ডিজঅর্ডার থেকে আরোগ্য লাভ করেন, তারা তাদের হিতৈষীদের কাছ থেকে পাওয়া শর্তহীন ভালোবাসা ও সমর্থন এর গুরুত্ব সম্পর্কে বলে থাকেন, এমনকী আক্রান্ত ব্যক্তির আচরণ সহজে বোধগম্য নয় জেনেও তখন আপন জন যে সমর্থন দিয়েছিলেন সেটার কথা।”

অভিভাবক ও তত্ত্বাবধানকারী হিসেবে আপনার ভূমিকা জানতে সন্তানের চিকিৎসাকারী দলের একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন এবং বাসায় সাহায্যের জন্য আপনি কী করতে পারেন সে সম্পর্কে পরামর্শ নিন। কথা বলা এবং খাবার গ্রহণ সম্পর্কিত বিষয়ে নিম্নলিখিত টিপস সহায়ক হতে পারে।

আলোচনার জন্য টিপস

শিশুর সমস্যা নিয়ে কথা বলা খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে, বিশেষ করে তারা যদি বুঝতেই না পারে যে তারা কোনো সমস্যায় আক্রান্ত। তবে, আরোগ্যের জন্য কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ, তাই চেষ্টা করতে থাকুন।

ইটিং ডিজঅর্ডার নিয়ে কখন তাদের সাথে সরাসরি কথা বলতে হবে, সে সম্পর্কে সুসান রিংউড নিম্নোক্ত পরামর্শ দিয়ে থাকেনঃ

  • কী বলবেন তার প্রস্তুতি নিন
  • দোষারূপ বা মূল্যায়ন করবেন না
  • তারা কী অনুভব করছে তার প্রতি মনোযোগ দিন
  • শান্ত থাকুন
  • উদাহরণ দেওয়ার জন্য তথ্যাবলী সংগ্রহে রাখুন
  • নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন

নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের জন্যও এটি সহায়ক হতে পারেঃ

  • ইটিং ডিজঅর্ডার সম্পর্কে যতদূর জানা সম্ভব চেষ্টা করুন। এর ফলে আপনি কী নিয়ে কাজ করছেন সে সম্পর্কে বুঝতে পারবেন।
  • যেকোনো অবস্থাতেই আপনি যে তাদের ভালোবাসেন এবং সবসময় তাদের পাশে থাকবেন- এ বিষয়ের উপর জোরদিন।
  • তাদের চেহারা বা বাহ্যিক রূপ সম্পর্কে কথা বলা এমনকী প্রশংসা করা থেকেও বিরত থাকুন। অন্য পদ্ধতিতে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করূন – যা হতে পারে, বিবেচক হওয়ার জন্য তাদের প্রশংসা করা বা বিদ্যালয়ে কোনো সাফল্য পাওয়ার জন্য অভিনন্দন দেওয়া।
  • অন্যান্য ব্যক্তির খাদ্য প্রণালী বা ওজনের সমস্যা নিয়ে কথা বলবেন না।
  • যেসব বিশেষ ও পেশাদারী সাহায্য বর্তমান আছে, সেগুলো সম্পর্কে কথা বলুন, এবং যখন তারা প্রস্তুত হবে তখন আপনি এগুলোর মাধ্যমে সাহায্য ও সমর্থন করবেন সে সম্পর্কেও বলুন।
  • খাবার জড়িত থাকে না এমন সব কাজ, যেমন শখের কাজ বা বন্ধুদের সাথে ভ্রমণ প্রভৃতি সম্পর্কে ইতিবাচকভাবে কথা বলুন।
  • সরাসরিভাবে তারা আপনার সাথে কথা না বললে মন খারাপ করবেন না এবং সবকিছু গোপন রাখার জন্য বিরক্তি প্রকাশ করবেন না। এর পিছনে তার সাথে আপনার সম্পর্ক দায়ী নয় বরং অসুস্থতা দায়ী।
  • সাহায্যের জন্য আপনি কী করতে পারেন তা তাকে জিজ্ঞাসা করুন।
  • আপনার অনুভব বা মনের অবস্থা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করুন। এর ফলে আপনার সন্তানও একই কাজ করতে উৎসাহিত হবে।
  • এ কথা মনে রাখবেন যে ইটিং ডিজঅর্ডারের জন্য যে অনুভব কাজ করছে তা প্রকাশ করা তাদের জন্য সত্যিকার অর্থেই কঠিন হতে পারে।
  • নিজে সুষম খাদ্য গ্রহণ ও পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্যায়াম করার মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন।

খাদ্য গ্রহণ সম্পর্কিত টিপস

  • সন্তান যদি চিকিৎসাধীন থাকে, তাহলে খাওয়ার জন্য সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা জানতে শিশুর চিকিৎসাকারী দলকে জিজ্ঞাসা করুন।
  • একসাথে বাজারে যান এবং উভয়ের কাছেই গ্রহণযোগ্য এমন খাবার কিনুন।
  • পরিবারের মতামত ও প্রত্যাশার সাথে সম্মতি রেখে কী এবং কখন খাবার খেতে হবে তা নির্দিষ্ট করে নিন।
  • পরিবারের কেউ খাবারের পরিমাণ, উপস্থিত ক্যালরি বা চর্বির পরিমাণ নিয়ে কথা বলবেন না, সেটি নিশ্চিত করুন।
  • কম ক্যালরি যুক্ত অথবা সংযমিত খাবার তাদের সামনে বা বাসায় খাওয়া পরিহার করুন।
  • খাবার গ্রহণের পুরো সময়টি হালকা ও ইতিবাচক রাখার চেষ্টা করুন, এমনকী আপনি মনে মনে এরকম অনুভব করে না থাকলেও বাইরে তা প্রকাশ করবেন না।
  • সমস্যা নিয়ন্ত্রণের একটি পন্থা হিসেবে তারা যদি খাবার রান্না করায় যুক্ত হতে চেষ্টা করে, তাহলে কোমলভাবে রান্নার পরিবর্তে টেবিল গোছাতে বা বাসন-কোসন ধোয়ার জন্য বলুন।
  • খাওয়ার সময় তাদের প্রতি গভীর মনোযোগ দিতে যাবেন না। আপনার খাবার উপভোগ করুন এবং তারা সাথে কথোপথনের চেষ্টা করুন।
  • খাবার খাওয়ার পর পরিবারের সাথে সময় কাটানো যায় এমন কাজ, যেমন খেলা বা টিভি দেখা প্রভৃতি করতে পারেন। এতে খাবার রেচন অথবা অতিরিক্ত ব্যায়াম করার আগ্রহ থেকে তাদের মনযোগ সরানো যাবে।
  • যদি মাঝে মধ্যে এক দুই বার খাবার গ্রহণের সময়টি আশানুরূপ না হয়, তাহলে হতাশ হবেন না, এগিয়ে চলুন।

সহযোগিতা ও সমর্থন

পুরো অবস্থাটি পরিবারের বুঝে ওঠা ও তাতে সমর্থন দেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তার দেখান। আপনার ডাক্তার ও শিশুর ডাক্তার তখন সম্মিলিতভাবে আপনাকে পরামর্শ দিতে পারবেন। সেই সাথে, ইটিং ডিজঅর্ডারের সাথে জড়িত যেকোন বিষয়ের সাথে মানিয়ে নেয়া সম্পর্কে একজন পরামর্শকের সাথেও কথা বলতে পারেন।

About the author

Maya Expert Team