ইউরোলজি মূত্রনালির সংক্রমণ

মূত্রথলির সংক্রমণ – রোগনির্ণয়

মূত্রথলির সংক্রমণ – রোগনির্ণয়

আপনার যদি আগে সিস্টাইটিস(মুত্রথলির সংক্রমন) হয়ে থাকে তাহলে হয়তো আপনি ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগেই এই রোগের উপসর্গ গুলো চিনতে এবং সণাক্ত করতে সক্ষম হবেন।

অবশ্য সিস্টাইটিসের উপসর্গযুক্ত পুরুষ ও শিশুদের উচিৎ উপসর্গ দেখা দেওয়ামাত্র তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

আপনি একজন মহিলা হলে আপনার ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিৎ যদিঃ

  • আপনার সিস্টাটিসের উপসর্গ প্রথমবারের মতো দেখা দেয়,
  • আপনার প্রস্রাবের সাথে রক্ত আসে (হেমাচুরিয়া),
  • আপনার শরীরের তাপমাত্রা ৩৮°সে.(১০০°ফা.) এর মতো বেশি হলে,
  • খুব বেশি ব্যথা হলে,
  • বছরে তিনবারের বেশি সিস্টাইটিস হলে,
  • গর্ভবতি হলে,
  • ক্যাথেটার পরিহিত হলে (catheter- এক ধরণের নল যা প্রস্রাবকে একটি নিষ্কাশন ব্যাগের মধ্যে প্রবাহিত করার জন্য মুত্রনালীতে ঢোকানো হয়, সাধারনত অস্ত্রপোচারের পর এধরণের নল প্রায়ই ব্যবহার করা হয়),

আপনার উপসর্গ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করার মাধ্যমে চিকিৎসক সিস্টাইটিস সণাক্ত করতে সক্ষম হবেন।

প্রস্রাবের নমুনা
আপনার প্রস্রাবের একটি নমুনা চিকিৎসক আরও পরীক্ষার(প্রস্রাবের কালচার – urine culture) জন্য পরীক্ষাগারে পাঠাতে পারেন। এটি দরকার হতে পারে যদিঃ

  • আপনার পুনরাবৃত্তিক সিস্টাইটিস হয়ে থাকে (এক বছরে তিনবারের বেশি),
  • আপনার কিডনী সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকতে পারে – সিস্টাইটিস এর একটি লক্ষণ হতে পারে,
  • আপনি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দমনকারী (immunosuppressant) চিকিৎসার অধীন হয়ে থাকলে – এই ধরণের চিকিৎসা শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলে, এর ফলে আপনি আরও বেশি সংক্রমণ প্রবণ হয়ে উঠতে পারেন,
  • আপনার ডায়াবেটিস থাকলে – সিস্টাইটিস ডায়াবেটিস সংক্রান্ত জটিলতা হতে পারে,
  • আপনার যৌনবাহিত সংক্রমণ(STI) থাকতে পারে – যেমনঃ গনোরিয়া ও ক্ল্যামাইডিয়া
  • আপনার অন্যধরণের সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে – যেমনঃ ক্যান্ডিডার(ছত্রাক) সংক্রমণ।

কোন ধরণের ব্যাকটেরিয়া আপনার সিস্টাইটিসের জন্য দায়ী তা প্রস্রাব পরীক্ষাটি(urine culture) নিশ্চিত করবে, যদি অন্যকোন কারণে এই রোগ হয়ে থাকে তাও এই পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা পড়বে।


এছাড়াও কিছু অতিরিক্ত পরীক্ষা
যদি আপনার এমন ধরণের পুনরাবৃত্তিক সিস্টাইটিস হয়ে থাকে যা অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি সাড়া দেয়না সেক্ষেত্রে এমনকি প্রস্রাবের কালচার(urine culture) পরীক্ষা করার পরেও আপনাকে একজন বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার জন্য বলা হতে পারে। আপনার আরও কিছু পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে, যেমনঃ

  • আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান,
  • এক্স-রে,
  • সিস্টোস্কোপ(cystoscopy), একটি খুব ছোট ফাইবার অপটিক(fibre optic) ক্যামেরা যাকে সিস্টোস্কোপ(cytoscope) বলে, তার মাধ্যমে যখন আপনার মুত্রাশয় পরীক্ষা করা হয় তখন তাকে সিস্টোস্কোপি(cytoscopy)। সিস্টোস্কোপ (cystoscope) একটি ভীষণ পাতলা নল যার একপ্রান্তে একটি লাইট এবং একটি ক্যামেরা থাকে।এই নলটিকে আপনার মূত্রনালীতে (এক ধরণের নালী যা মূত্রথলি থেকে প্রস্রাব শরীরের বাইরে বের করে নিয়ে যায়) প্রবেশ করানো হয় এবং এটি মুত্রথলির ভেতরের ছবি একটি পর্দায় প্রেরণ করে।

About the author

Maya Expert Team