ইউরোলজি মূত্রনালির সংক্রমণ

মূত্রথলির (ইনফেকশন) সংক্রমণ

মূত্রথলির (ইনফেকশন) সংক্রমণ

ভূমিকা
সিস্টাইটিস মূত্রথলির একরকমের প্রদাহ যা মূত্রথলিতে সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। মূত্রথলির সংক্রমণের কারণ হতে পারেঃ

  • সঠিকভাবে মূত্রথলি খালি না করা- উদাহরণস্বরূপ গর্ভাবস্থা বা বর্ধিত প্রস্টেটের কারণে,
  • মূত্রনালীর (এক ধরণের নালী যা মূত্রথলি থেকে প্রস্রাব শরীরের বাইরে বের করে নিয়ে যায়) চারপাশে আঘাত পাওয়া বা কোষ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া,
  • ব্যাকটেরিয়া মলদ্বার থেকে মূত্রনালীতে স্থানান্তরিত হওয়া, উদাহরণস্বরূপ-যৌনমিলনের সময়,

সিস্টাইটিসের লক্ষণগুলো হলোঃ

  • ঘন ঘন প্রস্রাব করার চাপ হওয়া,
  • প্রস্রাব করার সময় ব্যথা বা তীব্র জ্বালা করা,
  • তলপেটে ব্যথা করা,


কখন
ডাক্তার দেখাতে হবে?
অন্যান্য সমস্যার কারণেও সিস্টাইটিসের লক্ষনগুলো দেখা দিতে পারে সেজন্য শিশু ও পুরুষদের সবসময়ই একজন চিকিৎসককে দেখানো উচিৎ যদি তাদের সিস্টাইটিসের লক্ষণ থেকে থাকে।

নারীরা যখন প্রথমবার এই রোগের লক্ষণগুলো অনুভব করেন তখনই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ। যদি তাদের তাদের বছরে তিনবারের বেশি সিস্টাইটিস হয়ে থাকে তাহলে তাদের আবারও ডাক্তার দেখানো উচিৎ।


নারীদের
সিস্টাইটিস
মহিলাদের মধ্যে সিস্টাইটিস আরও বেশি ঘটে থাকে কারণ মেয়েদের মূত্রনালী খাটো হয়। মুত্রনালীর মুখ মলদ্বারের খুব কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় ব্যাকটেরিয়ার জন্য মলদ্বার থেকে মুত্রনালীতে পৌছানোটা সহজ হয় এবং এর ফলে সংক্রমণ ঘটে।

প্রায় সব মহিলাদেরই জীবনে অন্তত একবার সিস্টাইটিস হয়ে থাকে। পাঁচজনের মধ্যে একজন মহিলা যাদের পূর্বে এই রোগ ছিলো তাদের আবারো এই রোগ হতে পারে (পুনরাবৃত্ত সিস্টাইটিস হিসেবে পরিচিত)। সিস্টাইটিস যেকোন বয়সে হতে পারে। তবে এটি যাদের মধ্যে বেশি প্রচলিতঃ

  • গর্ভবতী মহিলা,
  • যৌনকর্মে সক্রিয় মহিলা,
  • সেইসব মহিলা যারা মেনোপেজ অতিক্রম করেছেন,


পুরুষদের
সিস্টাইটিস
সিস্টাইটিস পুরুষদের মধ্যে কম ঘটে। এটি পুরুষদের জন্য আরও গুরুতর হতে পারে কারণ এক্ষেত্রে যেসব কারণে এই রোগ হতে পারে সেগুলো হলোঃ

  • মুত্রথলি বা প্রস্টেটের কোনধরণের আভ্যন্তরীন সংক্রমণ, যেমন-প্রস্টেট গ্রন্থির প্রদাহ,
  • প্রস্রাবের রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা, যেমন-টিউমার বা বর্ধিত প্রস্টেট (পুরুষাঙ্গ ও মুত্রাশয়ের মধ্যে অবস্থিত গ্রন্থি) এর কারণে।
  • পুরুষের সিস্টাইটিস সাধারণত গুরুতর হয়না যদি দ্রুত চিকিৎসা করা হয়, কিন্তু এটি খুব যণত্রণাদায়ক হতে পারে। যেসব পুরুষেরা পায়ুর মধ্য দিয়ে অরক্ষিত সহবাস করে থাকেন তাদের সিস্টাইটিস হওয়ার ঝুঁকি সামান্য বেশি থাকে।


সিস্টাইটিসের
চিকিৎসা
সাধারণত কম মাত্রার সিস্টাইটিস কিছু দিনের মধ্যেই ভালো হয়ে যায়। প্রচুর পরিমানে পানি পান করে এবং ব্যথানাশক ঔষধ যেমন প্যরাসিটামল বা আইবুপ্রফেন (ibuprofen) গ্রহণের মাধ্যমে বাড়িতে বসেই এর চিকিৎসা করা যায়। সম্পূর্ণ ভালো না হওয়া পর্যন্ত যৌনকর্ম থেকে বিরত থাকাটাও সহায়ক হতে পারে যেহেতু যৌনমিলনের ফলে সিস্টাইটিসের আরও অবনতি ঘটতে পারে।

অধিক গুরুতর সিস্টাইটিসের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

চিকিৎসা না করালে মুত্রাশয়ের সংক্রমণের কারণে কিডনিতে সংক্রমণ ঘটতে পারে যা কিডনি অকার্যকর করার মতো জটিলতার কারণ হতে পারে।

About the author

Maya Expert Team