জন্মসংক্রান্ত পরিকল্পনা নারী স্বাস্থ্য- গর্ভাবস্থা

বাচ্চা জন্ম দেয়ার উপায়গুলো জেনে নিন

বাচ্চা জন্ম দেয়ার উপায়গুলো জেনে নিন

বাড়িতে বাচ্চা প্রসব করা
আপনার গর্ভাবস্থা স্বাভাবিক হলে এবং গর্ভের শিশু ও আপনি দুজনেই সুস্থ থাকলে আপনি বাড়িতে বাচ্চা জন্ম দেয়ার কথা ভাবতে পারেন।

তেমন হলে একজন চিকিৎসক আপনার সাথে থাকবেন যিনি প্রসবের সময় আপনাকে সহায়তা করবেন। আপনার কোন সাহায্য প্রয়োজন হলে বা প্রসবকালীন সময়ে কোন কিছু যদি ঠিক মত না হলে সেই চিকিৎসক আপনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করবেন। বাসায় বাচ্চা প্রসব করার সুবিধাগুলো হচ্ছে:

  • পরিচিত পরিবেশের মধ্যে থাকার কারণে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন এবং সহজে মানিয়ে নিতে পারবেন
  • হাসপাতালে যাওয়ার জন্য প্রসব প্রক্রিয়া ব্যহত হবে না
  • আপনার আরও সন্তান থাকলে তাদেরকে ছেড়ে যেতে হবে না
  • আপনার স্বামীর কাছ থেকে আপনাকে আলাদা হতে হবে না।
  • যে সেবিক আপনার দেখাশোনা করবেন তাঁর সাথে গর্ভাবস্থা থেকেই পরিচিত হতে পারবেন
  • বাড়িতে প্রসবের সিদ্ধান্ত নিলে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন:
  • কোন জটিলতা দেখা দিলে আপনাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে
  • বাড়িতে এপিডিউরাল ( স্নায়ুরজ্জুতে ব্যাথানাশক ইনজেকশন ) পাওয়া যাবে না
  • আপনার জমজ বাচ্চা হওয়ার কথা থাকলে অথবা গর্ভে শিশুর অবস্থান উল্টো (breech baby) হলে ডাক্তার আপনাকে হাসপাতালে প্রসব করার পরামর্শ দিতে পারেন।


বাড়িতে প্রসবের পরিকল্পনা

বাড়িতে প্রসব করা আপনার ও শিশুর জন্য নিরাপদ হবে কিনা তা ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন। যদি সেটি নিরাপদ হয় তাহলে আপনার ধাত্রী ও তার সহায়তায় আরো কয়েকজনের একটি দল প্রস্তুত করতে হবে।

বাড়িতে প্রসব করার ক্ষেত্রে আপনি নিচের প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করতে পারেনঃ

  • হাসপাতালে যেতে হলে সেখানে কতক্ষন সময় লাগবে?
  • কোন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে?
  • সবসময়ের জন্য আপনার কাছে কোন ধাত্রী থাকবেন কিনা?
  • বাচ্চা জন্মদানের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের চৌবাচ্চা (birthing pool) যোগাড় করা যাবে কিনা?


হাসপাতালে প্রসব
বেশিরভাগ মহিলাই হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে বাচ্চা প্রসব করে থাকেন। হাসপাতালে বাচ্চা প্রসব করলে আপনার দেখাশোনার জন্য সবসময় একজন ধাত্রী থাকবেন, এবং প্রয়োজনে হলে ডাক্তাদেরো কাছে পাবেন। কোন ধরনের সেবা আপনি চান সেগুলো আপনি ঠিক করে নিতে পারবেন। হাসপাতালে কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে সে বিষয়ে চিকিৎসক আপনাকে অবহিত করবেন।

হাসপাতালে বাচ্চা প্রসব করার সুবিধাগুল হচ্ছে:

  • সরাসরি প্রসুতি রোগ বিশেষজ্ঞ (obstetricians) ও এন্যাস্থেসিস্ট (anaesthetist অর্থাৎ অপারেশনের সময় যে ডাক্তার অজ্ঞান করে থাকেন, ব্যথা কমানোর ব্যবস্থা করেন)-এর সহায়তা নিতে পারবেন
  • অন্যান্য বিশেষায়িত সেবা, যেমন ব্যথা কমানোর জন্য এপিডিউরাল ( স্নায়ুরজ্জুতে ব্যাথানাশক ইনজেকশন ) পাবেন
  • কোন সমস্যা হলে বিশেষ শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র থাকবে হাসপাতালে

হাসপাতালে বাচ্চা প্রসব করার ক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখুন:

  • প্রসবের পর আপনি সরাসরি বাসায় চলে যেতে পারেন অথবা আপনাকে প্রসবোত্তর পরিচর্যার ওয়ার্ডেও নিয়ে যাওয়া হতে পারে
  • হাসপাতালে আপনার গর্ভাবস্থায় পরিচর্যাকারী নার্সের পরিবর্তে অন্যকোন নার্স আপনার দেখাশোনা করতে পারেন


হাসপাতালে প্রসবের পরিকল্পনা
কোন হাসপাতাল আপনার জন্য ভাল হবে তা ঠিক করতে আপনার স্বামী আপনাকে সাহায্য করতে পারেন। কাছাকাছি একাধিক হাসপাতাল থাকলে আপনি একটি নির্বাচন করতে পারেন। কোন হাসপাতালটি আপনার জন্য সবচেয়ে ভাল তা ঠিক করার জন্য কোন হাসপাতালে কী সুবিধা পাওয়া যায় সে ব্যাপারে খোঁজ নিন।

হাসপাতাল সম্পর্কে জানতে নিচের প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করতে পারেন:

  • প্রসবের আগে প্রসুতি সেবার ব্যবস্থা গুলো দেখে পরিদর্শনের সুবিধা আছে কি না?
  • জন্মদান পরিকল্পনা (birth plan) নিয়ে কখন আলোচনা করা যাবে?
  • প্রসবকালীন উপকরণ যেমন ম্যাট, বাচ্চা জন্ম দেয়ার সময় ব্যবহৃত বিশেষ চেয়ার, বা ছোট কুশন এগুলো পাওয়া যাবে কি না?
  • বাচ্চা জন্ম দেয়ার জন্য ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের চৌবাচ্চা (birthing pool) ওই হাসপাতালে আছে কি না?
  • আমাকে কতক্ষণ বা কতদিন হাসপাতালে থাকতে হতে পারে?
  • এছাড়া দরকার হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা প্রসূতি বিভাগের লোকজনদেরও প্রশ্ন করতে পারেন।
  • বাচ্চাকে যেখানেই জন্ম দেয়ার পরিকল্পনা করেন না কেন, সেটি আপনি গর্ভাবস্থার যেকোনো সময়ে পরিবর্তন করতে পারবেন। কোন বিষয়ে সংশয় থাকলে বা বাড়তি কিছু জানার প্রয়োজন পড়লে ডাক্তারের সাথে আলাপ করুন।

About the author

Maya Expert Team