টিকা এবং পরীক্ষা করানো নারী স্বাস্থ্য- গর্ভাবস্থা

আ্লট্রাসাউনড, স্ক্যান, স্ক্রিনিং ও টেস্ট

আ্লট্রাসাউনড, স্ক্যান, স্ক্রিনিং ও টেস্ট
আপনি গর্ভবতী জানার সাথে সাথেই আপনার ডাক্তার বা কোন প্রসূতি সেবা কেন্দ্রের সাথে প্রসবপূর্ব সেবার জন্য যোগাযোগ করুন। প্রসবপূর্ব সেবার অংশ হিসাবে যে আলোচনা সভাগুলো হয়, আপনার এলাকায় কোথায় হয় – খোজ নিন, এই সভাগুলোতে আপনার মত অন্য মহিলাদের সাথে দেখা হবে যা আপনাকে মা হয়ে উঠতে সাহায্য করবে।


প্রসবপূর্ব সেবার মূলকথা
কোন সেবা কেন্দ্র থেকে, কীভাবে প্রসবপূর্ব সেবা শুরু করবেন সে ব্যপারে সিদ্ধান্ত নিন। প্রসবপূর্ব সেবার সাক্ষাৎ গুলোতে আপনি কি কি সেবা পাবেন সে বিষয়ে জেনে নিন।


প্রসবপূর্ব সেবাপ্রদানকারী দলের ভুমিকা
প্রসবপূর্ব সেবাপ্রদানকারী দলে যারা থাকেন যেমন ডাক্তার, সোনোগ্রাফার, প্রসূতিবিশেষজ্ঞ তাদের কার কি ভূমিকা জেনে নিন।


আপনার প্রথম প্রসবপূর্ব সাক্ষাৎ
আপনার প্রথম প্রসবপূর্ব সাক্ষাৎ-এ, ডাক্তার আপনাকে কি জিজ্ঞাসা করতে পারেন, কি কি পরীক্ষা করাতে পারেন – এই তথ্যগুলো জেনে নিন।


প্রসবপূর্ব যেসকল চেকআপ ও পরীক্ষা আপনাকে দেওয়া হবে
প্রতিটি প্রসবপূর্ব সাক্ষাৎ-এ, নিয়মিত যে চেকআপ গুলো করানো হয়, যেমন রক্তচাপ ও মুত্র পরীক্ষা, – এগুলো আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কে অনেক প্রয়োজনীয়
তথ্য সরবরাহ করবে।


প্রসবপূর্ব সাক্ষাতের প্রস্তুতি
ডাক্তারের কাছ থেকে কি কি জানতে চাইবেন, আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন, প্রয়োজনে লিখে নিন। যদি দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে কিছু হালকা খাবার সাথে নিয়ে নিন।


আলট্রাসাউনড স্ক্যান
জেনে নিন এই রুটিন স্ক্যান কিভাবে করা হয় এবং আপনাকে তা কখন করতে বলা হবে। বেশিরভাগ হাসপাতালে গর্ভাবস্থায় কমপক্ষে ২টি আলট্রাসাউনড পরীক্ষা করানো হয়। প্রথমটি সাধারণত ৮-১৪ সপ্তাহের মধ্যে করা হয়। একে অনেক সময় তারিখ নির্ধারণী স্ক্যান বলা হয় কারন এটি সন্তান কখন জন্মগ্রহণ করবে তা বলতে সাহায্য করে। ২য় স্ক্যানটি সাধারণত ১৮-২০ সপ্তাহের ভিতর করা হয় এবং একে অস্বাভাবিকতা নির্ধারণী স্ক্যান বলা হয় কারন এতে বাচ্চার গঠনগত অস্বাভাবিকতার পরীক্ষা করা হয়।

আলট্রাসাউনড স্ক্যান শব্দ তরঙ্গ ব্যাবহার করে গর্ভে থাকা বাচ্চার ছবি তৈরি করে। এটি সম্পূর্ণরুপে ব্যাথামুক্ত, জানামতে মা ও শিশুর ওপর কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই এবং গর্ভাবস্থার যে কোন সময় করা যায়। যদি আপনার এই স্ক্যান বিষয়ক কোন উদ্বেগ বা প্রশ্ন থাকে তবে আপনার ডাক্তার বা প্রসূতি বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।


অস্বাভাবিকতা নির্ধারণী স্ক্যান

১৮-২০ সপ্তাহের দিকে করা এই স্ক্যান সম্পর্কে জানুন।

এই বিশদ স্ক্যানটি আপনার গর্ভাবস্থার ১৮-২০ সপ্তাহের দিকে করা হয়। এটি আপনার সন্তানের সম্ভাব্য শারীরিক সমস্যা (অস্বাভাবিকতা) নির্ণয় করার চেষ্টা করে। তবে বলে রাখা ভাল এটা সব ধরণের সমস্যা নির্ণয় করতে পারে না।

এই স্ক্যান সকল গর্ভবতী নারীকেই করতে বলা হলেও, এটি করা বা না করা সম্পূর্ণ আপনার ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। এবং এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনি আপনার প্রসবপূর্ব সেবাপ্রদানকারীদের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

স্ক্যানের আগে আপনাকে পানি পান করতে বলা হবে।এতে আপনার মুত্রথলি পূর্ণ থাকবে। পরিপূর্ণ মুত্রথলি জরায়ুকে উপরে ঠেলে দেয়ার ফলে ছবি আরও পরিষ্কার আসবে।এরপর আপনি চিত হয়ে শুয়ে পড়বেন এবং আপনার পেটের ওপর কিছু তরল জেলি জাতীয় পদার্থ দেওয়া হবে। একটি দন্ড (probe) আপনার চামড়ার উপর আগে পিছে করা হবে এবং এর মাধ্যমে আপনার জরায়ুতে উচ্চ মাত্রার শব্দ তরঙ্গ প্রেরণ করা হবে। এই শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে ছবি তৈরি করবে যা টিভি পর্দায় দেখা যাবে। অনেক সময় স্ক্যান চলাকালীন সময় সনোগ্রাফার স্ক্যানে মনোনিবেশ করার কারনে কিছুটা চুপচাপ থাকলেও চেকাপ শেষ হবার পর তারা আপনার সকল প্রশ্নেরই উত্তর দিবেন।

অধিকাংশ হাসপাতালই আপনার সঙ্গীকে আপনার সাথে স্ক্যান রুমে থাকার আহবান জানাবে।


বংশগত অসুস্থতার জন্য পরীক্ষা ।
সিকেল সেল এনিমিয়া (sickle cell anemia) এবং মাস্কুলার ডিসট্রফির (muscular dystrophy) মত কিছু বংশগত অসুখ গর্ভাবস্থায় নির্ণয় করা যায়।

কিছু রোগ বংশগতভাবে বাবা-মা এর যেকোন একজন বা উভয়ের থেকেই আসতে পারে। উদাহরণস্বরূপ সিসটিক ফাইব্রোসিস, হিমোফিলিয়া,মাস্কুলার ডিস্ট্রফি, সিকেল সেল এবং থ্যালাসেমিয়ার কথা বলা যায়। আপনার, আপনার সঙ্গীর অথবা আপনার কোন আত্মীয়ের কোন বংশগত সমস্যা থাকলে বা আপনার অন্য কোন সন্তানের কোন প্রকার অস্বাভাবিকতা থাকলে তা আপনার ডাক্তার কে জানান।

আপনি গর্ভাবস্থার শুরুর দিকেই পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারবেন আপনার শিশু ঝুঁকিতে আছে কিনা বা আক্রান্ত হয়েছে কিনা। আপনি আপনার ডাক্তার এর সাথে পরামর্শ করে বিশেষজ্ঞ কাউন্সেলর এর সাথে দেখা করতে পারেন। তবে এটি করার আদর্শ সময় গর্ভবতী হবার আগে বা গর্ভাবস্থার একেবারে শুরুর দিকে।


অস্বাভাবিকতা নির্ধারণী পরীক্ষা

আপনার শিশুর অস্বাভাবিকতা নির্ণয় এর জন্য যে সকল স্ক্যান ও রক্ত পরীক্ষা আছে সেসব সম্পর্কে জানুন।

আপনাকে যে স্ক্রিনিং পরীক্ষাগুলো করতে বলা হবে সেগুলো শিশুর গঠনগত অস্বাভাবিকতা যেমন স্পাইনা বাইফিডা (মেরুদণ্ডের গঠন প্রক্রিয়ার একটি খুঁত) বা ডাউন্স সিন্ড্রোম এর মত ক্রোমোজোম জনিত সমস্যা নির্ণয় করে ।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এই পরীক্ষা গুলোর সুযোগ সীমিত। আপনার পরীক্ষাগুলো নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে আপনার ডাক্তার এর সাথে আলোচনা করতে পারেন।


স্ক্রিনিং পরীক্ষা

আপনার শিশু সুস্থ্য-স্বাভাবিকভাবে জন্ম নেবার সম্ভাবনা কতটুকু, সে বিষয়ে আপনাকে আশ্বস্ত করতে পারে

আপনি যদি জানতে পারেন গর্ভস্থ শিশুটি আক্রান্ত, সেক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার অবসান বিবেচনা করার সুযোগ দেয়

জানার পরও যদি আপনি শিশুটিকে জন্মদানের সিদ্ধান্ত নেন, সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিশেষ প্রস্তুতির সময় দেয়

আপনার গর্ভকালীন পরিচর্যা সংক্রান্ত মূল্যবান তথ্য দিতে পারে

তবে কোন পরীক্ষাই এই নিশ্চয়তা দেয় না যে শিশু স্বাভাবিকভাবে জন্ম নিবে। কিছু অস্বাভাবিকতা ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগ পর্যন্ত নির্ণয় করা যায় না।

আপনি যখন কোন পরীক্ষা করাবেন কিনা সে বিষয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তখন চিন্তা করুন যে পরীক্ষাটিতে অস্বাভাবিকতা নির্ণয় হলে আপনি কি করবেন।যদি কোন স্ক্রিনিং পরীক্ষায় ক্রোমোজোম জনিত ত্রুটির উচ্চ সম্ভাবনা দেখায় তবে আপনাকে রোগ নির্ণয় (diagnostic) পরীক্ষা করতে বলা হবে, যা কিনা আরও নিশ্চিত ভাবে রোগ নির্ণয় করতে পারে। এ পরীক্ষাগুলোয় গর্ভপাতের খুব ক্ষীণ ঝুঁকি থাকায় আপনি এগুলো নাও করাতে পারেন। এ বিষয়ে আপনার সঙ্গী, ডাক্তার ও বন্ধুবান্ধবের সাথে আলোচনা করুন যাতে তারা আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে।

গর্ভকালীন সময়ের অস্বাভাবিকতা নির্ণয় পরীক্ষাগুলোর ভেতর আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান বা রক্ত পরীক্ষা বা উভয়ই থাকতে পারে। আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান সম্ভাব্য গঠনগত সমস্যা যেমন স্পাইনা বাইফিডা নির্ণয় করতে পারে। রক্তপরীক্ষা এবং স্ক্যান ডাউন্স সিন্ড্রোম এর মত সম্ভাব্য জীনগত সমস্যা নির্ণয় করতে সহায়তা করে।

অস্বাভাবিক সংখ্যক ক্রোমোজোম এর কারনে ডাউন্স সিন্ড্রোম হয়। ক্রোমোজোম হল মানুষের শরীরের প্রতিটি কোষের ভেতরের ছোট ছোট কাঠামো যা সেই মানুষটি গঠনের রেসিপি বা জেনেটিক কোড বহন করে। ক্রোমোজোমজনিত অস্বাভাবিকতার কারনে সিকেল সেল রোগ, থ্যালাসেমিয়া, সিস্টিক ফাইব্রোসিস এবং অ্যাকোনড্রোপ্লাসিয়া (বামনত্ব) জাতীয় বিভিন্ন সমস্যা হয়।

এই বিষয়ে আরও জানতে গর্ভাবস্থার ১৮-২১ সপ্তাহের দিকে করা ডাউন্স সিন্ড্রোম এবং অস্বাভাবিকতা নির্ধারণী স্ক্যান বিষয়ক নিবন্ধটি দেখুন।

About the author

Maya Expert Team