টিকা এবং পরীক্ষা করানো নারী স্বাস্থ্য- গর্ভাবস্থা

ভ্রূণের অস্বাভাবিকতা ধরা পড়া

ভ্রূণের অস্বাভাবিকতা ধরা পড়া
মায়াতে আমরা বিশ্বাস করি যে, গর্ভধারণ একজন নারীর নিজস্ব পছন্দ এবং তিনি সন্তান নিতে চান, নাকি চান না সেটা তার একান্ত নিজস্ব সিদ্ধান্ত। যখন আপনি গর্ভস্থ শিশুর অস্বাভাবিকতা স্ক্যান (anomaly scan) করাবেন কিনা সে ব্যপারে সিদ্ধান্ত নিবেন, ভেবে দেখুন, আপনি কি করবেন যদি পরীক্ষাটি ইঙ্গিত দেয় যে আপনার শিশুর কোন ধরণের অস্বাভাবিকতা রয়েছে। জন্মগত ত্রুটির মধ্যে রয়েছে ঠোঁট কাটা, হৃদযন্ত্রের ত্রুটি, স্পাইনা বাইফিডা (spina bifida) – যখন সুষুম্না কান্ডের (spinal cord) নিচের অংশ দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায় বা এনেনসেফালি (anencephaly) – যখন মস্তিষ্ক, মাথার খুলি ও খুলির উপরস্হ ত্বক অনুপস্হিত থাকে। অস্বাভাবিকতা পরীক্ষার (anomaly test) মাধ্যমে ডাউন’স সিন্ড্রোমও চিহ্নিত করা যায়।

গর্ভধারণের ২০-২৮ সপ্তাহের মধ্যে আপনাকে অস্বাভাবিকতা পরীক্ষা (anomaly test) করার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হবে যা আপনার শিশু এবং আপনার গর্ভের পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে মুল্যায়ন করবে। এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য হল শিশুটি স্বাভাবিকভাবে বাড়ছে কিনা এবং কোনো ধরণের গর্ভস্হ অস্বাভাবিকতার উপস্হি্তি রয়েছে কিনা তা যাচাই করে দেখা। এই পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভ ফুলের (placenta) অবস্হা্ন ও সংযুক্তি এবং নাভিরজ্জুকেও পরীক্ষা করা হয়।

অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ার পরে, আপনাকে পরবর্তী ৭২ ঘন্টার মধ্যে পুনরায় আল্ট্রাসনোগ্রাম করার জন্য বলা হবে। একটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক স্ক্যানের অর্থ এই নয় যে সেখানে কোনো অস্বাভাবিকতা নেই, কখনো কখনো তা হয়তো ধরা পড়েনা। অস্বাভাবিকতা সণাক্তকরণে ব্যর্থতার কারণ হতে পারে গর্ভস্থ শিশুর অবস্হান বা অতিরিক্ত ওজন।

যদি পরীক্ষাতে দেখা যায় যে আপনার শিশুর গুরুতর অস্বাভাবিকতা রয়েছে, সেক্ষেত্রে এই বিশেষ অবস্হা এবং এটি কিভাবে আপনার শিশুর উপর প্রভাব ফেলতে পারে সে ব্যপারে আপনার চিকিৎসকের কাছে যতটা সম্ভব জেনে নিন। এক্ষেত্রে কিছু দম্পতি গর্ভাবস্হা্কে চালিয়ে যেতে চান এবং অস্বাভাবিকতা নিয়ে জন্ম নেয়া নবজাতক শিশুর চাহিদা পূরণের জন্য প্রস্তুত হওয়ার চেষ্টা করেন, অন্যরা গর্ভপাত করার সিদ্ধান্ত নেন।

আপনি হয়তো খুবই মর্মাহত হবেন যখন প্রথমবার আপনাকে এই পরীক্ষা করতে বলা হবে এবং এর ফলাফল মেনে নেওয়াটা আপনার জন্য কঠিন হতে পারে। সময় নিন, আপনার সঙ্গী বা কাছের কাউকে সাথে নিয়ে ডাক্তারের সাথে আবার কথা বলুন। তারপর চিন্তা ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিন।

অনেক মা গর্ভ নষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেন আবার কেউ কেউ চালিয়ে যাওয়াটা বেছে নেন। এটা একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। সাধারণত শিশুর যত্ন নেওয়াই দুরূহ কাজ, আর বিশেষ চাহিদাযুক্ত শিশুদের আরো মনোযোগ এবং সহায়তার প্রয়োজন হয় এবং তা ভিন্ন ধরণের। এক্ষেত্রে আপনার আর্থিক সচ্ছলতা, পারিবারিক সহায়তা এবং নমনীয় পেশার প্র্য়োজন হতে পারে। আপনাকে হয়তো সারা জীবন ধরে সেই সন্তানের যত্ন নিয়ে যেতে হবে এবং আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে যে আপনার পরেও কেউ তার যত্ন নিবে। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে যেমন মস্তিষ্ক সংক্রান্ত  রোগ (যা স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশের অপূর্ণতা থেকে হয়)-এর ফলে মৃত শিশু জন্ম নেয় বা জন্মের কিছু পরেই মারা যায়। সুতরাং কোনটি আপনার এবং আপনার শিশুর জন্য সবচেয়ে ভাল হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা মা হিসেবে আপনার বিবেচনা।


কি
ভাবে করা হয়
২০তম সপ্তাহের পর গর্ভপাত সাধারণত ওষুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে করা হয়। এই ওষুধ জরায়ূকে বার বার সংকুচিত হতে উদ্দীপ্ত করে এবং এতে করে ভ্রূণ ও গর্ভফুল জরায়ুর গা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যোনী পথ দিয়ে বেরিয়ে আসে। একে ওষুধের মাধম্যে গর্ভপাত (medical termination) বলা হয়। যদি ভ্রূণের কোন অস্বাভাবিকতা থাকে এবং যদি মা পরিসমাপ্তি ঘটাতে চান, বাংলাদেশে গর্ভাস্হা্র ২৮ সপ্তাহের পুর্বে চিকিৎসকের দ্বারা গর্ভপাত করা আইনগত ভাবে বৈধ । ২০ সপ্তাহের মধ্যে করা হলে গর্ভের অবসান ঘটানো সহজ কিন্তু ২৮ সপ্তাহ নাগাদ গর্ভপাতে জটিলতা হতে পারে যেহেতু তখন শিশু সম্পূর্ণ গঠিত হয়ে যায়।

আপনার জন্য কোন পদ্ধতিটি সবচেয়ে ভালো সেবিষয়ে আপনার চিকিৎসক আলোচনা করবেন। আপনি মৃত শিশুটিকে দেখতে কিংবা কোলে নিতে চান কিনা এবং আপনার সন্তানের কোন নাম দিতে চান কিনা সে বিষয়ে আপনি হয়তো আগে থেকেই ভেবে রেখেছেন।

অনেক সময় শিশুর অস্বাভাবিকতার প্রকৃ্ত কারণ সণাক্তের জন্য মৃত শিশুর ময়না তদন্ত করতে বলা হয়। এটি একমাত্র ওষুধের মাধম্যে গর্ভপাত (medical termination) ঘটানো হলে সম্ভব হয়। এর মাধ্যমে আপনার ভবিষ্যত সন্তানের একই রকম সমস্যা থাকার সম্ভবনা নির্ণয় করা যায়।


পরবর্তীতে
গর্ভপাতের পরে মানিয়ে নেওয়াটা আপনার জন্য কঠিন হতে পারে। আলাপ করলে ভাল লাগতে পারে, কিন্তু মাঝে মাঝে পারিবারের সদস্য ও বন্ধুদের জন্য আপনি কিসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তা বোঝা কঠিন হয়ে যায়।

About the author

Maya Expert Team