গর্ভপাত পরবর্তী করণীয় ও জিজ্ঞাসা নারী স্বাস্থ্য- গর্ভাবস্থা

গর্ভপাতের পর পুনরায় গর্ভধারণ

গর্ভপাতের পর পুনরায় গর্ভধারণ
আপনার গর্ভাবস্থা পরীক্ষার ফল ‘হাঁ’ সূচক এসেছে। কিন্তু এর আগে একবার আপনি গর্ভধারণ করেছিলেন, এবং সেটা গর্ভপাত হয়ে যায়। ফলে এবারের গর্ভধারণ আপনাকে যতটা আনন্দিত করবে, ততটাই চিন্তিতও করে তুলবে।

আপনার মনোষ্কামনা পূরণ হবার আরেকটি সুযোগ এটা। কিন্তু এ চিন্তা আপনি কিছুতেই এড়াতে পারবেন না, ‘ সব ঠিকঠাক হবে তো এবার?’ এই ভয় থেকে মুক্ত থাকার সহজ কোনো উপায় নেই, কিন্তু ভয়কে সঙ্গী করেই যাতে সামনের দিনগুলোতে ভালো সময় পার করতে পারেন তার কিছু উপায় আছে।


আপনি গর্ভবতী হবার পরও কেন খুশি হতে পারছেন না ?
আবারো আপনি গর্ভধারণ করতে সক্ষম হয়েছেন, কিন্তু এবারের গর্ভাবস্থাটা আপনি মোটেই নিশ্চিন্তভাবে উপভোগ করতে পারছেন না। একবার যখন গর্ভপাত হয়, তখন সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তির ভয় থাকেই।

কেউ কেউ দুর্ভাবনার হাত থেকে বাচার জন্য, গর্ভসংক্রান্ত চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখেন। আবার কেউ কেউ আবেগের চরম চড়াই-উৎরাই এর মধ্য দিয়ে সময় পার করেন। কখনো তারা খুশি থাকেন, কখনো ভীত। আবার নতুনভাবে সবকিছু শুরু করতে যাচ্ছেন বলে কারো কারো গ্লানি বোধও হয়।

আপনার সর্বশেষ গর্ভধারণেই যদি গর্ভপাতের ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে সেই শোক কাটিয়ে ওঠা বেশ কঠিন। কষ্টের স্মৃতি থেকে পালিয়ে বেড়ানোর চাইতে, আপনি যদি বেদনাদায়ক ঘটনাটিকে সারাজীবনের জন্য মেনে নিতে পারেন, তাহলে হয়তো সময়ের সাথে সাথে শোকও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়। তবে এটাও স্বাভাবিক যে আপনার বর্তমান গর্ভধারণে বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হবার সময় যত ঘনিয়ে আসবে, পেছনের কথা মনে হয়ে আপনার দুঃখ আর চিন্তা দুটোই বাড়বে।

নিজের প্রতি অত নিষ্ঠুর হবেন না, মেনে নিন যে একজন মানুষ তার জীবনের সব কিছু নিয়ে সুখী থাকতে পারে না। আপনার ভেতরের আবেগগুলোকে মাঝে মাঝে বের হয়ে আসার সুযোগ দিন। মন খুলে কাঁদতে পারলে অনেক সময় দুশ্চিন্তা থেকে হাল্কা হওয়া যায়।


আপনি যে গর্ভবতী সেটা কি কাছের মানুষদের এখনই জানাবেন?
এটা সম্পূর্ণই আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার এবং যা আপনি ঠিক মনে করেন সেটাই করবেন। আগেরবার গর্ভাবস্থার যে পর্যায়ে এসে গর্ভপাত হয়েছিলো, অনেকেই পরেরবার ততদিন অপেক্ষা করতে চান। সেই সময়টা পার করে তারপর সবাইকে তার আবার গর্ভবতী হবার কথা জানান। কিন্তু সবসময় গর্ভধারণের খবর লুকিয়ে রাখা ভালো ফল দেয় না। আপনার হয়তো যে কোনো সময় বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনদের সাহায্য প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু তাদেরকে কিছু না জানালে সেই প্রয়োজনের মুহুর্তে তাদের কাউকে না-ও পেতে পারেন।


গতবারের কথা আপনি ভুলতে পারছেন না, কি করবেন?
এটা ঠিক যে এই অবস্থায় সবসময়ই আপনার মধ্য একটা দুশ্চিন্তা কাজ করবে, আবার এটাও ঠিক যে যখনই আপনি গর্ভস্থ শিশুটির হৃৎস্পন্দন অনুভব করবেন বা আপনার ভেতর তার নড়া-চড়া টের পাবেন, তখন আপনি আশ্বস্ত হতে শুরু করবেন। এ অবস্থায় যতটা সম্ভব ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করুন।

একটা একটা করে দিন পার করুন, বর্তমান নিয়ে বাঁচুন – এটা ঠিক এসব কথা বলার চেয়ে করা অনেক কঠিন, কিন্তু ইতিবাচক থাকার কোন বিকল্প নাই। ইতিবাচক থাকতে পারলে আসলেই ভাল ফল পাওয়া যায়। সামনে কি ঘটবে এটা নিয়ে যদি আপনার মধ্যে দুশ্চিন্তা শুরু হয়, তাহলে সেই চিন্তা বাদ দিন, শুধু আজকের দিনটার কথা ভাবুন।


বোঝার চেষ্টা করুন, আগেরবার কি ঘটেছিলো
আগেরবার যখন গর্ভপাত হয়েছিল, তখন হয়তো ঘটনার তীব্রতায় কিংবা শোকের বিহ্ববলতায় আপনি অনেককিছুই বিশদভাবে খেয়াল করে দেখেননি। ডাক্তারের সাথে কথা বলে তাকে আবার আপনার বিগত গর্ভাবস্থার যাবতীয় তথ্য বিশ্লেষণ করে, আপনাকে জানাতে বলুন, যাতে করে আপনি বুঝতে পারেন আগেরবার কি হয়েছিলো? কেন হয়েছিল? আপনি হয়তো দেখবেন যে সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবার সম্ভাবনা এবার খুবই কম।


আপনার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগান
হয়তো আগেরবারের আপনার গর্ভপাত হয়েছিলো ব্লাইটেড ওভাম (blighted ovum) এর কারনে। ব্লাইটেড ওভাম হল এমন একটি অবস্থা যেখানে ভ্রুন নষ্ট হয়ে যায় কিন্তু ভ্রুন যে থলির (sac) মধ্যে থাকে সেটা ঠিক থাকে। গর্ভাবস্থার একদম প্রথম দিকেই এটা ঘটে থাকে। গর্ভাবস্থার সমস্ত লক্ষন বিদ্যমান থাকে, একটা পর্যায় পর্যন্ত এটা বড় হয়, তারপর গর্ভপাত হয়ে যায়। আগেরবারের গর্ভপাত আপনার জরায়ু মুখের দুর্বলতাজনিত (Cervical incompetence) কারণেও হতে পারে । সে ব্যাপারে নিজে নিজেই বিশদ পড়াশোনা করুন। আগেরবার ঠিক কি কি কারণে এমনটা হয়েছিলো সেটা বুঝতে পারলে এবার নিজেকে আরো নিরাপদ মনে হবে।

দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হচ্ছে, বেশিরভাগ গর্ভপাতেরই কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা থাকে না। এবং আরেকটি বাস্তবতা হল আপনার যদি আগে এক বা একাধিকবার গর্ভপাতের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতেও তার পুনরাবৃত্তি হবার সম্ভাবনা বেশি। তবে একজন নারী গর্ভপাত হবার পরও সুস্থ, সবলভাবে পরেরবারের গর্ভাবস্থা পার করেছেন এরকম অগণিত উদাহরণ আছে।


মনকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন
আপনার মন যদি শান্ত থাকে তাহলে অনাগত শিশুর ব্যাপারে সুস্থির ভাবে ভাবতে পারবেন, শিশুটি জন্মানোর পর আপনার পৃথিবী কত আনন্দময় হয়ে উঠবে, এই ভাবনা আপনাকে স্বাভাবিক থাকতে সাহায্য করবে। যে সন্তানকে আপনি জন্ম নেবার আগেই হারিয়ে ফেলেছেন, তার কথা স্বাভাবিক ভাবেই মনে আসবে। আপনার মনকে এই ভাবে বুঝান যে, ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা চিন্তা করে, আপনি আপনার গর্ভস্থ নতুন শিশুটির প্রতি দায়িত্বহীন আচরণ করছেন। নতুন শিশুটির প্রতি এবার ভালোবাসা তৈরি করার চেষ্টা করুন। গর্ভস্থ শিশুর সাথে কথা বলার মাধ্যমেও আপনি তার সাথে আপনার বন্ধন দৃঢ় করতে পারেন।


আপনার চিন্তাগুলো অন্যকে জানান
কখনও এমনটা মনে করবেন না, বাচ্চা সংক্রান্ত যাবতীয় শোক শুধু একা আপনার। সব কষ্ট নিজের মধ্যে পুষে রাখবেন না। আপনার সঙ্গীও তো একই কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। সুতরাং, আপনারা একে অপরকে সান্ত্বনা ও সমর্থন দিতে পারেন। তবে, বাবাদের ক্ষেত্রে অনেকসময়ই বিষয়টা একটু জটিল। কেউ কেউ ভাবেন, গর্ভবতী স্ত্রীর সাথে এই কষ্টের অনুভূতি নিয়ে কথা বলতে গেলে হয়ত স্ত্রীর কষ্ট আরও বাড়বে। আপনিও একবার চিন্তা করে দেখুনতো, যদি আপনার স্বামী বা সঙ্গী অন্য কারো সাথে তার একান্ত এই কষ্টের অনুভূতির কথা বলে সান্ত্বনা পেতে চায়, আপনার কেমন লাগবে!


প্রয়োজনে কাউকে সঙ্গে রাখুন
আপনার আগের সন্তানটি যখন গর্ভে ছিলো, তখন আপনি যে হাসপাতালে বা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যেতেন, এবারও যদি একই জায়গায় যেতে হয়, সেখানে গেলে হয়তো আপনার পুরনো কথা মনে পড়ে যাবে, আপনার খুব খারাপ লাগতে থাকবে। এ অবস্থায় আপনাকে সঙ্গ দেবার জন্য আপনার সঙ্গী, কাছের বন্ধু বা পরিবারের কাউকে নিয়ে যেতে পারেন।


মাঝে মাঝেই ডাক্তারের সাথে কথা বলুন
যত বেশি বার প্রসবপূর্ব সেবার জন্য যাবেন, ততবারই জানবেন যে আপনার গর্ভস্থ শিশুটি ভালো আছে, এটা আপনাকে আশ্বস্ত হতে সাহায্য করবে। প্রয়োজনে ডাক্তারকে আপনার দুশ্চিন্তার কথা জানান। ডাক্তারের কাছে যাবার আগে, কি কি বলবেন তার একটা তালিকা করে নিন, যাতে কোনো প্রশ্ন বাদ না পড়ে।

প্রসবপূর্ব সেবার পরবর্তী তারিখের আগেও ইচ্ছে করলে আপনি ডাক্তারের কাছে যেতে পারেন। সেখানে বাচ্চার হৃৎস্পন্দন শুনে আপনার মনের মেঘ কেটে যাবে। অনেকে এই অবস্থায় অতিরিক্ত আলট্রাসনোগ্রামও করান, এটাও আশ্বস্ত হতে সাহায্য করে।


গর্ভস্থ মৃতশিশুর জন্য শোক কাটিয়ে ওঠা
মাঝে মাঝে গর্ভে থাকা অবস্থাতেই শিশু মারা যায় ( Intra-Uterine Death)। এ অবস্থায় আপনি কোনো প্রসব বেদনা অনুভব করবেন না। গর্ভস্থ মৃত শিশুটিকে প্রসব করানোর জন্য ওষুধ দিয়ে প্রসব বেদনা শুরু করাতে হয়। মৃত বাচ্চাকে প্রসব করার এটাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। যদি চান তবে আপনি, আপনার স্বামী/সঙ্গী মৃত বাচ্চাটিকে দেখতে পারেন, এমনকি কোলেও নিতে পারবেন।

এভাবে গর্ভের সন্তান হারানো যে কারো জন্যই অনেক বড় একটা আঘাত। আপনি ও আপনার সঙ্গী এ সময় এমন সব আবেগময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়া যাবেন যা হয়তো কখনো চিন্তাই করেননি – অবিশ্বাস, রাগ, সর্বোপরি গভীর শোক। এরকম ঘটনার পর অনেক নারীই মনে করেন যে তারা বাচ্চার কান্না শুনতে পাচ্ছেন, কিংবা তার পেটের ভেতর এখনো শিশুটি নড়া-চড়া করছে। সন্তান হারানোর পরের কয়েকটা মাস স্বাভাবিকভাবেই তীব্র শোক থাকে।

এসব ক্ষেত্রে কোনো কোনো বাবা-মা বাচ্চার কোনো স্মৃতিকে আজীবনের জন্য ধরে রাখতে চান। যেমন বাচ্চাকে দেখা বা ধরার স্মৃতি, তার জন্য একটা নাম দেয়া বা এরকম কোন কিছু।

কেউ কেউ বাচ্চার ছবি তুলে রাখেন, কিংবা তার একগোছা চুল, হাত-পায়ের ছাপ সংরক্ষণ করেন। এসব কিছুই আপনার পরিবারের সদস্যদের বাচ্চাটির স্মৃতি মনে করিয়ে দেবে এবং তাদের কাছ থেকে আপনি সমবেদনা পাবেন। আপনার ডাক্তার বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে কিংবা আপনার মতোই সন্তান হারিয়েছেন এরকম কারো সাথে কথা বললেও আপনার ভালো লাগতে পারে।


সুরত-হাল (post-mortem examination)
এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রথমেই যে প্রশ্নটি আপনার মনে আসবে তা হলো, বাচ্চাটি কেন মারা গেলো। কখনো কখনো সুরত-হাল এর মাধ্যমে এর উত্তর পাওয়া যেতে পারে। বাস্তবতা হল গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যুর ব্যাপারে খুব সুস্পষ্ট উত্তর কখনোই পাওয়া যায় না। তবে, সুরত-হাল করালে এমন কিছু তথ্য পাওয়া যেতে পারে যা পরবর্তী গর্ভধারণের সময় আপনাকে সাহায্য করবে। যদি ডাক্তার মনে করেন যে সুরত-হাল প্রয়োজন, তবে একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার এই ব্যাপারে আপনার সাথে আলোচনা করবেন। আপনি সুরত-হাল করানোর সিদ্ধান্ত নিলে আপনাকে একটি সম্মতি-পত্রে স্বাক্ষর করতে হবে।

সুরত-হাল রিপোর্ট আসার পর একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের -এর সাথে আপনাকে কথা বলতে হবে, তিনি আপনাকে রিপোর্টটি ব্যাখ্যা করবেন এবং বলবেন ভবিষ্যতে গর্ভধারণের সময় কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে।


গর্ভে যখন একাধিক শিশু থাকে
গর্ভস্থ শিশুর সংখ্যা যখন একাধিক হয় (যমজ, তিনজন বা ততোধিক), তাদের একজনের মৃত্যুও যে কোনো বাবা-মার জন্যই মেনে নেয়া কঠিন।

এক্ষেত্র, মৃত সন্তানের জন্য শোক, আবার একই সাথে জীবিত সন্তানটির যত্ন নেয়া ও তার আগমনে আনন্দবোধ করা – খুবই জটিল আবেগময় একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যে বাচ্চাটি বেঁচে যায় সে বেশিরভাগ সময়ই দুর্বল (প্রি-ম্যাচিউরড) থাকে, নবজাতক ইউনিটে বিশেষ যত্নে রাখতে হয়; তার জন্য থাকে আবার দুর্ভাবনা।


মৃত শিশুটিকে বিদায় জানানো
শোক পালনের পাশাপাশি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার মৃত শিশুটিকে সৎকারের মাধ্যমে বিদায় জানানোটাও গুরুত্বপূর্ণ ।

যদি গর্ভাবস্থার ২৪ সপ্তাহ পার হবার পর বাচ্চার মৃত্য হয় তাহলে আপনাকে জন্ম-মৃত্য নিবন্ধন অফিসে বাচ্চার মৃত্য নিবন্ধন করতে হবে। সিটি কর্পোরেশন অফিস, পৌরসভা অফিস এবং ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে এ ধরনের জন্ম-মৃত্য নিবন্ধনের ব্যবস্থা থাকে। কোন কোন হাসপাতাল নিজেরাই এ ধরনের মৃত শিশুর সৎকারের দায়িত্ব নিয়ে থাকে, চাইলে আপনি নিজেও সৎকারের ব্যবস্থা করতে পারেন।

গর্ভাবস্থায় সন্তান মারা গেলে আপনি কি পরিমাণ আর কতদিন শোকের মধ্য দিয়ে যাবেন সেটা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না। বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনরাও ওনেক সময় বুঝতে পারে না, কি বলে আপনাদের স্বান্তনা দিবে। তারা কেবল আশা করতে পারে যে যথাসম্ভব দ্রুত আপনারা ‘স্বাভাবিক’ জীবনে ফিরে আসবেন। হতে পারে, তারা যত দ্রুত চাইবে, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আপনাদের তার চেয়ে বেশি সময় লাগবে।

About the author

Maya Expert Team