অটিজম বিশেষ চাহিদা

অটিজম শনাক্তকরণ

Written by Maya Expert Team

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিশুর দুই বা তিন বছর বয়সের মধ্যেই ASD এর লক্ষণগুলো বোঝা যায়। তবে অটিজমের মাত্রা কম থাকলে লক্ষণগুলো বুঝতে আরও দেরি হতে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রে ASD শনাক্তকরণ

কোন কারনে আপনার শিশুর বিকাশ নিয়ে শঙ্কিত হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। তিনি প্রয়োজন মনে করলে আপনাকে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে বলতে পারেন। এই বিশেশজ্ঞ হতে পারেন একজনঃ

সাইকোলজিস্টঃ একজন সাইকোলজি ডিগ্রীধারী যিনি সাস্থ্য খাতে কাজ করছেন এবং যার সাইকলজির ওপর উচ্চতর ডিগ্রী এবং প্রশিক্ষন আছে।

সাইকিয়াট্রিস্টঃ একজন মেডিকেল ডিগ্রীধারী ডাক্তার যার সাইকিয়াট্রির ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেয়া আছে।

পেডিয়াট্রিশিয়ান (শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ) : শিশুদের অসুস্থতার ওপর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

স্পিচ (বাক) ও ল্যাঙ্গুয়েজ (ভাষা) থেরাপিস্টঃ কথাবার্তা ও যোগাযোগে সমস্যা নির্ণয় এবং চিকিৎসার বিশেষজ্ঞ

অ্যাসেসমেন্ট (রোগনির্ণয়)

ASD নির্ণয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোন পরীক্ষা নেই। আপনার শিশুর কি কি লক্ষণ দেখা যাচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে রোগ নির্ণয়ের চেষ্টা করা হয়। বিশেষজ্ঞের দক্ষতা এবং আপনাদের কাছে কিরকম তথ্য আছে (যেমন শিশুর স্কুল বা নার্সারির রেকর্ড) তার উপর নির্ভর করে আপনার শিশুর কি ধরনের অ্যাসেসমেন্ট করা হবে। ASD নির্ণয়ের জন্য বিশদ অ্যাসেসমেন্ট করা লাগতেও পারে আবার নাও লাগতে পারে। যদি প্রয়োজন হয় তবে সেটি নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করে করা হবেঃ

আপনার শিশুর সাস্থ্য, ব্যবহার এবং বিকাশ সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে যেমন ওর ডাক্তার অথবা স্কুল বা নার্সারির শিক্ষকের কাছে জানতে চাওয়া হতে পারে।

আপনার শিশুর লক্ষণগুলো কোন শারীরিক জটিলতার কারনে হচ্ছে কিনা সেটি বোঝার জন্য ওর একটি বিশদ সাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে এবং কিছু শিশুর ক্ষেত্রে ASD এর মত অন্য কোন জেনেটিক জটিলতা আছে নাকি সেটি দেখার জন্য রক্ত পরীক্ষা করা হতে পারে।

এছাড়াও কিছু শিশুর ক্ষেত্রে;

আপনাকে কয়েকটি প্রশ্নউত্তর পর্বের জন্য আসতে বলা হতে পারে যেখানে আপনার পরিবারের ইতিহাস এবং আপনার শিশুর বিকাশ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হতে পারে।

আপনার শিশু কিভাবে কথাবার্তা বলে, চিন্তা করে এবং ওর ব্যাবহার কেমন এসব পর্যবেক্ষণ করার জন্য ওকে কয়েকবার নিয়ে আসতে বলা হতে পারে। এটিকে ফোকাসড অবযারভেশন বলে।

এই প্রক্রিয়ার শেষে আপনার শিশুর ASD আছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হবার সম্ভাবনা থাকে। তবে এমন যদি হয় যে অ্যাসেসমেন্টে ASD নিশ্চিত হল না কিন্তু পরবর্তীতে আবার এর লক্ষণগুলো দেখা গেল তাহলে পুনরায় অ্যাসেসমেন্ট করা হতে পারে।

রোগ নির্ণয়ের পর

ASD নির্ণয়ের পর কোন কোন শিশুর বাবা-মা অত্যন্ত শঙ্কিত হয়ে পড়েন আবার কেউ কেউ শিশুর অস্বাভাবিক আচরণের কারন বুঝতে পেরে স্বস্তি বোধ করেন এবং নিরাময়ের দিকে মনোযোগ দেন।

ASD নির্ণয় আপনাকে আপনার শিশুর ব্যক্তিত্ব এবং স্বকীয়তাকে বুঝতে সহায়তা করবে এবং আপনাকে ওর বিকাশ ও বেড়ে ওঠায় যথাযথ অবদান রাখার সুযোগ করে দেয়। এভাবেই আপনি ওকে যত্ন ও পরিচর্যার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনযাপনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।

প্রাপ্তবয়স্কদের ASD নির্ণয়

ASD আছে এমন অনেকেই এ বিষয়ে কোন প্রকার ধারনা ছাড়াই বেড়ে ওঠেন। আবার অনেকে রোগ নির্ণয় করাতে চান না কারন তারা ভাবেন যে এতে মানুষ তাদের ছোট করে দেখবে। কিন্তু রোগ নির্ণয়ের ফলে আক্রান্ত ব্যাক্তি ও তার পরিবার ASD সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন এবং যথাযথ সাহায্য এবং সহযোগিতা নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবেন।

একারণেই আপনার যদি মনে হয় যে আপনার ASD আছে তাহলে আপনার চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন এবং তার সাথে আপনার শঙ্কাগুলো নিয়ে আলোচনা করুন। প্রয়োজনে তিনি আপনাকে কোন সাইকিয়াট্রিস্ট বা ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্টের কাছে পাঠাতে পারেন।

About the author

Maya Expert Team

Leave a Comment