অটিজম বিশেষ চাহিদা

অটিজম – কারন

Written by Maya Expert Team

অটিজম মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা। এটি ঠিক কি কারনে হয় তা জানা না থাকলেও ধারণা করা হয় যে এটি কিছু জটিল জেনেটিক কারনে বা কোন পারিপার্শ্বিক কারনে হতে পারে। অনেক সময় অন্য কোন জটিলতার কারনে ASD হতে পারে।

ASD দুই প্রকার;

প্রাইমারি ASD (ইডিওপ্যাথিক ASD নামে পরিচিত) : এখন পর্যন্ত এটি হওয়ার পেছনে নির্দিষ্ট কোন কারন পাওয়া যায়নি। ৯০% ASD আক্রান্ত ব্যাক্তিই প্রাইমারি ASD তে আক্রান্ত হন।

সেকেন্ডারি ASD : এটি অন্য কোন জটিলতা বা পারিপার্শ্বিক কোন কারনে হয়। ASD রোগীদের মধ্যে মাত্র ১০% এতে আক্রান্ত হয়।

যেসব কারনে ASD হতে পারে

সাধারণত পাঁচটি কারনে ASD হবার ঝুঁকি থাকে;

জেনেটিক কারনঃ নির্দিষ্ট কিছু জীনগত পরিবর্তনের কারনে শিশুর ASD হতে পারে।

পারিপার্শ্বিক কারনেঃ মাতৃগর্ভে থাকার সময় বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক কারনে শিশুর ASD হতে পারে।

মানসিক কারনেঃ যাদের ASD আছে তাদের চিন্তাধারা অন্যদের চাইতে ভিন্ন হবার কারনেও এর লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে।

নিউরোলজিকাল কারনেঃ মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে কোন সমস্যার কারনে ASD হতে পারে।

অন্য কোন জটিলতার কারনেঃ নির্দিষ্ট কিছু জটিলতার কারনে ASD এর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

জেনেটিক কারনে

অধিকাংশ গবেষকই মনে করেন যে শিশুর ASD হবার জন্য নির্দিষ্ট কিছু জীন দায়ী। কারন একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ASD হওয়ার অনেক নজির আছে। যেমন ASD আছে এমন কারো ভাইবোন এতে আক্রান্ত হবার ঝুঁকিতে বেশি থাকেন এবং যমজ শিশুদের ক্ষেত্রে ASD থাকলে সাধারণত দুই জনেরই থাকে।

তবে এখন পর্যন্ত ASD এর জন্য দায়ী কোন জীন চিহ্নিত করা যায়নি। একারনেই নিশ্চিত ভাবে ASD নির্ণয়ের জন্য কোন পরীক্ষা নেই। তবে আপনার শিশুর অন্য কোন জটিলতা থাকলে তার ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা কিছু পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

পারিপার্শ্বিক কারনে

অনেক গবেষকের মতে শুধুমাত্র জেনেটিক কারনেই নয়, বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক কারনেও ASD হতে পারে। এই মতবাদ অনুযায়ী সকল শিশুরই ASD হতে পারে তবে কিছু পারিপার্শ্বিক কারনে অনেকের জন্য ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে যেমন গর্ভাবস্থার ৩৫ সপ্তাহের আগে জন্ম নেয়া বা গর্ভাবস্থার সময় শিশুর মায়ের মদ্যপান বা সোডিয়াম ভ্যালপোরেটের (মৃগী রোগের ওষুধ) মত ওষুধ খাওয়া। তবে এখন পর্যন্ত এই মতবাদের পক্ষে কোন প্রমান পাওয়া যায় নি।

মানসিক কারনে

থিওরি অফ মাইন্ড (TOM) নামের একটি ধারণার ওপর ভিত্তি করে অনেক গবেষক মনে করেন যে বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক কারনে ASD হতে পারে। TOM হল একজন মানুষের অন্য কারো মানসিক অবস্থা, আবেগ, বিশ্বাস, পছন্দ, অপছন্দ, স্বকীয়তা ইত্যাদি বোঝার ক্ষমতা। সহজে বললে বলা যায় যে অন্য কারো চোখ দিয়ে পৃথিবীটা দেখার ক্ষমতা।

মনে করা হয় যে ASD না থাকলে অধিকাংশ শিশুই চার বছরের মধ্যে থিওরি অফ মাইন্ড ব্যাপারটি আত্মস্থ করতে পারে। তবে যেসব শিশুর অটিজম থাকে তারা এটি ভালভাবে বুঝতে পারে না বা একেবারেই বুঝতে পারে না। স্বাভাবিক সামাজিক আচরনে জড়তা, একই রুটিনে চলার চেষ্টা করা বা ছোটখাটো জিনিষ নিয়ে অতিরিক্ত আগ্রহী হয়ে যাওয়ার মত ASD এর অন্যান্য যেসব মানসিক লক্ষণ আছে সেগুলোর জন্য হয়ত তাদের থিওরি অফ মাইন্ড বোঝার অক্ষমতাই দায়ী।

নিউরোলজিকাল কারনে

যদি অন্য কোন জটিলতার কারনে ASD না হয়, তাহলে চিকিৎসার থিওরি এবং মস্তিষ্কের ইমেজিং থেকে দেখা যায় যে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের মস্তিষ্কের সেরেব্রাল কর্টেক্স, অ্যামিগডালা এবং লিম্বিক সিস্টেম এলোমেলো হয়ে যায় বা জড়িয়ে যায়।

এর কারনেই ASD আক্রান্ত ব্যাক্তিরা খুব তুচ্ছ কোন জিনিষ বা ঘটনার কারনে অনেক বেশি আবেগপ্রবন হয়ে পড়েন। হয়ত এ কারনেই তারা একই রকম রুটিনে চলতে পছন্দ করেন যাতে তারা অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা বা অপছন্দের কাজগুলো এড়িয়ে চলতে পারেন। সমবয়সীদের আগ্রহ নেই এমন জিনিষে অটিস্টিক শিশুদের আগ্রহ বা স্বাদ,শব্দ ও গন্ধের প্রতি অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার ব্যাখ্যাও এটি হতে পারে।

অন্য কোন জটিলতার কারনে

এই জটিলতাগুলোর জন্য ASD হবার ঝুঁকি বেড়ে যায়;

ফ্র্যাজাইল এক্স সিন্ড্রোম (Fragile X Syndrome): এটি একটি জীনগত জটিলতা যার ফলে মুখ এবং শরীরের কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়; যেমন লম্বা মুখ, বড় বড় কান এবং নমনীয় অস্থি (flexible joints)।

টিউবেরাস স্ক্লেরোসিস (Tuberous sclerosis ): এটি আরেকটি দুর্লভ জেনেটিক জটিলতা যার ফলে মস্তিষ্কসহ সারা শরীরে একাধিক টিউমর হয়। তবে এগুলো থেকে ক্যান্সার হবার কোন ঝুঁকি নেই।

রেট্ট সিন্ড্রোম (Rett syndrome) : এটি আরেকটি দুর্লভ জেনেটিক জটিলতা যা শুধু মেয়েদের আক্রান্ত করে। এর ফলে ASD এর লক্ষণগুলো দেখা যায় এবং শারীরিক বিকাশ ব্যাহত হয় যার ফলে চলাফেরা করতে সমস্যা হয়।

নিউরোফাইব্রোম্যাটোসিস (Neurofibromatosis): নিউরোফাইব্রোম্যাটোসিস কয়েকটি জেনেটিক জটিলতার সমষ্টি যার ফলে নার্ভ এ টিউমর হয়। এটি প্রধানত দুই প্রকার; টাইপ-১ নিউরোফাইব্রোম্যাটোসিস ও টাইপ-২ নিউরোফাইব্রোম্যাটোসিস।

মাস্কুলার ডিসট্রফি (Muscular Distrophy): কয়েকটি বংশগত জেনেটিক সমস্যার সমষ্টি যার ফলে মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে শারীরিক অক্ষমতা দেখা দেয়।

ডাউন্স সিন্ড্রোম (Down’s Syndrome): একটি জীনগত সমস্যা যার ফলে কিছু মাত্রায় শেখার অক্ষমতা এবং নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক অক্ষমতা হতে পারে।

সেরিব্রাল পালসি (Cerebral Palsy) : ব্রেন ও স্নায়ুতন্ত্রের একটি জটিলতা যার ফলে শিশুর বুঝেশুনে চলাফেরা করতে সমস্যা হয়।

ইনফ্যান্টাইল স্প্যাস্ম (Infantile Spasm): একধরণের মৃগী রোগ যা খুব কম বয়সে (সাধারণত এক বছরের আগেই) শিশুদের আক্রান্ত করে।

বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতা (Intellectual diisability): ASD আক্রান্তদের ৫০% এর কাছাকাছির আইকিউ (IQ) ৭০ এর নিচে (সাধারণ মানুষের গড় IQ ১০০)।

About the author

Maya Expert Team

Leave a Comment